মোঃ জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
০৭:১৬ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঠাকুরগাঁও-১ আসনে (ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লি উপজেলা) অনুষ্ঠিতব্য উপ-নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রবিবার (৩০ আগষ্ট) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি দায়িত্বশীল সমাবেশে দলের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারি সেক্রেটারী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম।
মাওলানা আব্দুল হালিম প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রধান পদ্ধতি হলো নির্বাচন। যেহেতু জামায়াত দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রাম করছে, তাই আমরা সকল প্রকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" তিনি আরো জানান, ১১ দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনে অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজলুম ছাত্রনেতা দেলাওয়ার হোসেনকে জামায়াতের পক্ষ থেকে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, "যদি জনগণ সঠিকভাবে তাদের ভোট দিতে পারে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আমাদের প্রার্থী জয়লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।"
জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারি পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন। জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন। এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল হাকিম, দিনাজপুরের সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারীর সাবেক জেলা আমীর আব্দুর রশিদ, পঞ্চগড় জেলা আমীর ইকবাল হোসেন, এবং ঠাকুরগাঁও জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীরও বক্তব্য রাখেন। এসময় বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা, ও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায়, নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। উল্লেখ্য, উক্ত জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন দেলাওয়ার হোসেন। নির্বাচন কমিশন শীঘ্রই এ আসনে নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ান্দোয় সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন
পঞ্চম ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতার পুরুষ সিনিয়র বিভাগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একই প্রতিযোগিতার মহিলা সিনিয়র বিভাগে সেনাবাহিনী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে, যেখানে বিজিবি রানার্স আপ হিসেবে স্থান করে নেয়।
বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার পল্টনে অবস্থিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনেসিয়ামে ২৮ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। আজ রবিবার অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সভাপতি ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং দেশের ১৯টি জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ মোট ২২টি দলের প্রায় ৪৫০ জন পুরুষ ও মহিলা তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করেন।
পুরুষ সিনিয়র বিভাগে সেনাবাহিনী ও বিজিবি উভয় দলই ৪টি স্বর্ণ ও ৪টি রৌপ্যসহ মোট ৮টি পদক অর্জন করে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়। এ বিভাগে ৪টি তাম্র পদক নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা রানার্স আপ হিসেবে স্থান করে নেয়।
অন্যদিকে, মহিলা সিনিয়র বিভাগে সেনাবাহিনী ৪টি স্বর্ণ ও ২টি রৌপ্যসহ মোট ৬টি পদক অর্জন করে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং বিজিবি ২টি স্বর্ণ ও ১টি তাম্রসহ মোট ৩টি পদক অর্জন করে রানার্স আপ হয়।
অনুষ্ঠানে তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা, ফেডারেশনের সদস্য ও টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক শায়রুল কবির খানসহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, পরিবহন ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত, আর্থিক অসঙ্গতি এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বাফার গুদামের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মোঃ শাহে আলম গাজীর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তদন্তে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা এড়াতে তাঁকে দ্রুত বরিশাল বাফার গুদাম থেকে অন্যত্র বদলির দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এন্ড প্রেস সোসাইটির বরিশাল বিভাগের পক্ষ থেকে করা ওই আবেদনে বরিশাল বাফার গুদামের সার গ্রহণ, সংরক্ষণ, উত্তোলন, পরিবহন, খালাস ও বিতরণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীন চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন বরিশাল বাফার গুদামের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়ে আসছে।
বিশেষ করে গুদামটির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মোঃ শাহে আলম গাজী দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করার সুযোগে বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে গুদামে সার গ্রহণ, সংরক্ষণ, উত্তোলন, পরিবহন এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে চট্টগ্রামের সিইউএফএল থেকে ট্রাকযোগে বরিশাল বাফার গুদামে সার পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি কার্যক্রমে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং সেখানে কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে।
লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাহাজ থেকে সরাসরি গুদামে সার খালাস না করে এক জাহাজ থেকে অন্য কার্গো অথবা অন্য কোনো স্থানে পণ্য স্থানান্তরের মাধ্যমে সরকারি সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জাহাজের কাগজপত্র, চালান, ওজন রেকর্ড, গুদামের রিসিভ রেকর্ড, পরিবহন নথি এবং ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীদের মতে, সরকারি সার ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে সামান্য অনিয়মের অভিযোগও জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এসব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগে কোনো ব্যক্তি, ব্যবসায়ী কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনৈতিক যোগসাজশ, বিশেষ সুবিধা প্রদান অথবা আর্থিক স্বার্থের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি নথিপত্র, পরিবহন চুক্তি, বিল-ভাউচার এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
মোঃ শাহে আলম গাজীর নামে অথবা তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো অস্বাভাবিক সম্পদ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে তাঁর বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বাড়ি, গাড়ি, জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য যাচাই করে তা তাঁর বৈধ আয় ও চাকরিজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রয়োজনে আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী এবং অন্যান্য আর্থিক নথিপত্র যাচাইয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নিজে অথবা তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঠিকাদারি কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন কি না, তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ধরনের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তা প্রচলিত সরকারি চাকরির বিধি এবং বিসিআইসির সংশ্লিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে গুদামের সার গ্রহণ ও বিতরণ সংক্রান্ত হিসাব, স্টক রেজিস্টার, চালান, গেট পাস, ট্রাক প্রবেশ ও বহির্গমন রেজিস্টার, জাহাজের কাগজপত্র, ওজন স্লিপ, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের ভাষ্য, অভিযোগগুলোর কোনোটি সত্য প্রমাণিত হলে তা সরকারি সম্পদ, রাষ্ট্রীয় অর্থ এবং দেশের জনগণের স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
তাই বিষয়টি শুধু বিভাগীয় বা অভ্যন্তরীণ তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি প্রতিরোধকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
লিখিত আবেদনে প্রধানত ছয়টি দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—
নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মোঃ শাহে আলম গাজীকে দ্রুত বরিশাল বাফার গুদাম থেকে অন্যত্র বদলি করা।
তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা।
তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ের সার গ্রহণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা।
জাহাজভিত্তিক পণ্য খালাস, পরিবহন, ঠিকাদারি কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাই করা।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন, সরকারি চাকরির বিধি এবং বিসিআইসির বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সরকারি অর্থ বা সম্পদের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে তা নির্ধারণ করে আইনানুগভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করা।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে নানা অভিযোগ
লিখিত আবেদনে জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল তালাশ বিডিতে প্রকাশিত একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১০ আগস্ট ও ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যকেও অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে সহায়ক উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনটির অনুলিপি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিসিআইসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান (বিপণন)-এর কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে মোঃ শাহে আলম গাজীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উত্থাপিত বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যথাযথভাবে সংযোজন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সন্দ্বীপের সারিকাইতে সম্প্রতি আফরিনের মৃত্যুর ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে, যখন সাখওয়াতের পরিবার ঘরের সামনে ও পেছনে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে।
গতকাল সন্দ্বীপের এমপি মোস্তফা কামাল পাশা আফরিনের ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা বলেন এবং পরিবারের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। তিনি ঘটনার বিবরণও জানতে পারেন। আজ এমপি মহোদয়ের নির্দেশে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন আফরিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এই সাক্ষাতের পর, বিকেলে সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফরিনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য নিজে কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ সেখানে যান। পরিবারের বক্তব্য গ্রহণ করার পর, তিনি সরাসরি আফরিন যে বাসায় কাজ করতেন, সেখানে চলে যান।
কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর ওসি এবং পুলিশ দল দেখতে পান, ঘরে কেউ নেই। ঘরের সামনে ও পেছনে তালা দেয়া হয়েছে। ইউএনওর সাক্ষাতের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পরেই ওই বাড়ির পরিবারের সবাই পালিয়ে গেছে।
আফরিন যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেখানকার পরিবারের সবাই এখন পলাতক। আজ ইউএনও আফরিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর, সন্দ্বীপ থানার ওসি সেখানে যান, সাথে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে। আফরিনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর, তিনি যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেখানে গিয়ে দেখেন, ঘরে কেউ নেই। সবাই পলাতক। ঘরের সামনে ও পেছনে তালা ঝুলছে।
সাখওয়াতের পরিবারের এভাবে পালিয়ে যাওয়া এলাকাবাসীর মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে।
তাদের যদি নির্দোষ হয়, তাহলে পুলিশের মুখোমুখি না হয়ে এভাবে পালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কেন হলো?
নাকি তারাই হ'''ত্যা করেছে আফরিনকে?
এ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : মহাকাশকে জানার আগ্রহ আর ভবিষ্যতে মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশু-কিশোরদের মিলনমেলায় পরিণত হয় ঢাকার এআইইউবি ক্যাম্পাস।
গ্রহ-নক্ষত্র থেকে শুরু করে রকেট, স্যাটেলাইট, মহাকাশ অভিযান ও আধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের জ্ঞান ও মেধার পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় তৃতীয় ‘স্পেস এক্সপ্লোরেশন অলিম্পিয়াড’-এর চূড়ান্ত পর্বে।
গতকাল আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাছাই হয়ে আসা ২০২ জন শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগীদের বয়স ছিল ৬ থেকে ১৬ বছর। বয়স ও শেখার স্তর বিবেচনায় তাদের চারটি পৃথক ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, এবারের অলিম্পিয়াডকে শুধু সাধারণ কুইজ প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। শিক্ষার্থীদের বয়স ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন বিষয়কে প্রতিযোগিতার পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ছোটদের জন্য ছিল মহাকাশবিজ্ঞান, সৌরজগৎ, গ্রহ-নক্ষত্র, রকেট ও স্যাটেলাইটের মতো মৌলিক বিষয়। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত বড় শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয় মহাকাশ রোবোটিকস, মঙ্গল গ্রহের রোভার, স্পেস স্টেশন, মহাকাশ অভিযান এবং ভবিষ্যৎ মহাকাশ প্রযুক্তির মতো তুলনামূলকভাবে উন্নত বিষয়।
চূড়ান্ত পর্বের আগে অনলাইনে কয়েকটি ধাপে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরাও অনলাইন পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। অনলাইন বাছাইয়ের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরাই ঢাকার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক। মহাকাশ বিজ্ঞানের মতো বিষয়কে আনন্দের সঙ্গে, হাতে-কলমে শেখার সুযোগ করে দিতে পারলে শিশুদের শেখা হয় আরো গভীর ও কার্যকর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) এর ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন।
স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের সভাপতি আরিফুল হাসান বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যেই ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে বিকশিত করার জন্য ছোট বয়স থেকেই বিজ্ঞান ও মহাকাশ বিষয়ে আগ্রহ তৈরি করা জরুরি। দিনব্যাপী চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা শেষে চারটি বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে মোট ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ