০৯:৪৫ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারের পৌর ছাত্রদল নেতা রনি ইসলামের স্ত্রী রিয়া মনির (১৯) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রদল নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে পৌরসভার ছায়াবিথি মহল্লার ডা. তৌহিদুজ্জামানের বাড়ির দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে রিয়া মনির লাশ উদ্ধার করা হয় সাভার মডেল থানা পুলিশের দ্বারা।
রিয়ার পরিবারের দাবি অনুযায়ী, রনি ইসলাম তার স্ত্রীকে হত্যা করে ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন। নিহত রিয়া মনি নোয়াখালী জেলার মাইজদী থানার রৌফ চৌধুরীর মেয়ে। তার বাবা এবং মা, দুইজনেই প্রবাসী।
স্থানীয় সূত্র ও থানা পুলিশের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, সাভার পৌরসভার ছায়াবিথি মহল্লার ডা. তৌহিদুজ্জামানের ভাড়া বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে রনি এবং রিয়া সন্তানদের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। পারিবারিক কলহের জেরেই রনির দ্বারা রিয়াকে হত্যা করা হয়েছে এবং তারপর সেটা গোপন করার জন্য পালিয়ে গেছে।
রিয়ার মামা সাদ্দাম হোসেন বলছেন, রনি ইসলাম সম্প্রতি পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ লাভ করার পর থেকে রিয়ার উপর মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, পারিবারিক বিরোধের কারণে রনি রিয়াকে হত্যা করেছে এবং বাইরে থেকে তালা মেরে পালিয়ে গেছে। রনি নিজের মায়ের কাছে মোবাইল ফোনে রিয়ার হত্যার কথা বলার পর থেকেই হত্যার বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে বিকেলে বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তালা ভেঙে রিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই রনি ইসলামের মোবাইল বন্ধ রয়েছে এবং তিনি আত্মগোপনে আছেন।
নিহতের নানি জাহানারা বেগম বলেন, 'রিয়ার বাবা-মা দুজনেই প্রবাসী। আমাদের মেয়েকে রনি পরিকল্পিতভাবে খুন করে পালিয়ে গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও রনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।'
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী জানান, 'খবর পেয়ে বিকেলে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।'
অন্যদিকে, রাজনৈতিক পদধারী নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠার কারণে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে পলাতক পৌর ছাত্রদল নেতা রনি ইসলামের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবালের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তারা রিসিভ করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠিতে জেলা রোভার স্কাউটের উদ্যোগে গ্রুপ সভাপতি ও রোভার স্কাউট লিডারদের (আরএসএল) অংশগ্রহণে মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধ চর্চা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে রোভার স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
কর্মশালাটি সোমবার (৮ জুন) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজন করা হয়।
জেলা রোভার স্কাউটের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় রোভার স্কাউটিংয়ের কার্যক্রম, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় মূল উপস্থাপক হিসেবে গুঠিয়া আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম এলটি রোভার স্কাউটিং বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা তুলে ধরেন।
এ সময় বক্তব্য দেন জেলা রোভার স্কাউটের সহ-সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমান, ঝালকাঠি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ইলিয়াস বেপারী, ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাইয়ুম, হেমায়েত উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মু. শফিকুল ইসলাম, বরিশাল জেলা রোভার স্কাউটের সহকারী কমিশনার কিশোর চন্দ্র বালা, ঝালকাঠি জেলা রোভার স্কাউটের যুগ্ম সম্পাদক এস এম রেজাউল করিম এবং ইয়ং লিডার মো. আলামিন।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রুপ সভাপতি, রোভার স্কাউট লিডার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলছেন যে, রোভার স্কাউটিং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জেলা রোভার স্কাউটের সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুম কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে জেলার রোভার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সম্প্রসারিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ১ হাজার ৫৪৪টি মামলা করেছে। রবিবার এই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।
আজ সোমবার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানান।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৩০টি বাস, ১টি ট্রাক, ৬টি কাভার্ডভ্যান, ৭টি সিএনজি এবং ৩৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১০৯টি মামলা হয়েছে। এছাড়া, ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৯টি বাস, ৭টি ট্রাক ও ৬১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৪৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক-মনিটরিং বিভাগে ৩৪টি বাস, ২টি ট্রাক, ২১টি কাভার্ডভ্যান, ৫৯টি সিএনজি এবং ১৩৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৯৬টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩২টি বাস, ২২টি ট্রাক, ২২টি কাভার্ডভ্যান, ২৫টি সিএনজি ও ৬৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২১৬টি মামলা দায়ের হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১৮টি বাস, ৪টি ট্রাক, ১৪টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি এবং ৫৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৪৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ১৬টি বাস, ৭টি ট্রাক, ১২টি কাভার্ডভ্যান, ৪৭টি সিএনজি এবং ১৭৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৯৬টি মামলা দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৩৩টি বাস, ৩টি ট্রাক, ২টি কাভার্ডভ্যান, ১৪টি সিএনজি এবং ২১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৯৪টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ২৯টি বাস, ৪টি ট্রাক, ৯টি কাভার্ডভ্যান, ২৯টি সিএনজি ও ১০০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৪১টি মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া, অভিযান চলাকালে মোট ৪৭৩টি গাড়ি ডাম্পিং ও ২১২টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।
ডিএমপির পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে কৃষকদের হয়রানির বিষয়ে জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকের ওপর চটে গেলেন কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী হামিদুল হক। এ সময় তিনি সাংবাদিকের সাথে ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণ করেন। সোমবার (৮ জুন) ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন, আগামীর সময় ও টাইমস অব বাংলাদেশ পত্রিকার কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন ওই কর্মকর্তা। যার অডিও রেকর্ড এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাংবাদিক তামজিদ হাসান তুরাগ বলেন, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহে নানা অনিয়ম নিয়ে কৃষকদের কাছে বেশ কিছু অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে অনুসন্ধানে কৃষক ভোগান্তির বেশ কিছু সত্যতাও পাওয়া গেছে। এ নিয়ে কথা বলতে সোমবার দুপুরে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিসে যাই। সেখানে তাকে না পেয়ে ফোন করি। ধান সংগ্রহ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাই বলতেই চটে যান। নিজেকে তিনি জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকা কর্মচারী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন।’
তামজিদ বলেন, আমি তাকে বলি যে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, আমি সে বিষয়ে কথা বলতে চাই। এই কথা বলতেই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ আমাকে বলেন, “ আমার সাথে আলাপ করার কী আছে? আমি কী আপনার চাকরি করি, না আপনি আমার চাকরি করেন! আপনার বিষয় থাকলে আপনারটা আপনি দেখবেন। এগুলা নিয়ে বিরক্ত করবেন না আমাকে।” এই বলে তিনি আর কোনও কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।’
‘ কৃষকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে খাদ্য বিভাগ নিয়মিত অনিয়ম আর প্রতারণা করে যাচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে তারা কোনও জবাব দিতে রাজি নন। যেন মগের মুল্লুক! একজন সরকারি কর্মচারী যদি সাংবাদিকের সাথে এমন আচরণ করার ধৃষ্টতা দেখান তাহলে কৃষকদের সাথে তার আচরণ কেমন তা সহজেই বোঝা যায়।’ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের আচরণ নিয়ে যোগ করেন সাংবাদিক তামজিদ।
বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সচিব ও এটিএন নিউজের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন লিটন। তিনি বলেন, ‘ একজন সরকারী কর্মচারীর এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অসদাচরণ করছেন। একজন গণমাধ্যমকর্মী প্রশ্ন করবেন এটি স্বাভাবিক বিষয়। জবাব দেওয়া না দেওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এখতিয়ার। কিন্তু তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে পারেন না। এ অবস্থা চলতে থাকলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্থ হতে থাকবে।’
জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী হামিদুল হক বলেন, কাজের ব্যস্ততায় সারাদিন একই মুড থাকে না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিস্থিতি ট্যাকেল দিতে হয়। আমার কথা হয়তো রূঢ় মনে হতে পারে। কিন্তু আমি খারাপ আচরণ করি নাই। এটা নিয়ে আপনারা মন খারাপ কইরেন না। উনি যে অভিযোগের কথা বলছে আমি পরে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছি। ’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ