মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২৪ পি.এম
‘পাকিস্তানে প্রতিভার কোনো অভাব নেই’—এই বক্তব্যটি দেশটির রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ক্রিকেটারদের মুখে দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক সংকট ও অনগ্রসরতা নিয়ে আলোচনা করার সময় প্রায়ই শোনা যায়। তবে, পাকিস্তানি সাংবাদিক মুহাম্মদ আলিজাহ এই কথাটি বলার সময় চরম বিপদে পড়েছেন।
চালকবিহীন গাড়ির একটি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে ক্যামেরার সামনে গাড়িটি সোজা গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের গাড়িতে।
মুহূর্তের মধ্যেই সেই উদ্ভাবনী প্রদর্শনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা এখন বিশ্বজুড়ে নেটনাগরিকদের জন্য হাসির খোরাক হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন-কে আলিজাহ জানান, অ্যাবোটাবাদের প্রযুক্তিপ্রেমী এহসান জাফর তাকে চালকবিহীন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির গাড়িটি নিয়ে রিপোর্ট করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
আলিজাহ বলেন, ‘সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
ফলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সোজা গিয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে।’
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, গাড়িটি ইন্টারনেটভিত্তিক রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াই এই বিপত্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘টেসলা’র চালকবিহীন গাড়ির মতো পাকিস্তানের নিজস্ব উদ্ভাবন হিসেবে ভিডিওটি তৈরি করা হলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি নিয়ে এখন চলছে ট্রলের বন্যা।
ভিডিওটি ইসলামাবাদের অতি-সংবেদনশীল ডি-চক এলাকায় ধারণ করা হয়েছিল। নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পোস্ট করে আলিজাহ দাবি করেন, ‘গাড়িটি স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু রিমোট অপারেশনের সময় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পুলিশ ভ্যানে ধাক্কা মারে।’
তিনি জানান, নিরাপত্তাবেষ্টিত ও কম যানবাহন থাকা এলাকায় এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। সতর্ক করে বলেন, ‘ব্যস্ত কোনো রাস্তায় এমনটা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানি ঘটতে পারত। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন প্রশংসনীয়, কিন্তু তা মানুষের জীবনের বিনিময়ে নয়।
’ এটি কোনো সমালোচনা নয়, বরং সতর্কবার্তা ও সচেতনতা তৈরির একটি দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে এই ব্যাখ্যার পরও নেটদুনিয়ায় ট্রল থামেনি। আলিজাহর পোস্টের নিচে হাসির রোল তুলেছেন পাক নেটিজেনরা। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ভাই, প্রতিভার কথাটা একেবারে ভুল সময়ে বলে ফেলেছেন!’ অন্য একজন কৌতুক করে লিখেছেন, ‘পুলিশের মার খাননি তো? ভাগ্য ভালো আপনার!’ আরেক ব্যবহারকারী খোঁচা মেরে লেখেন, ‘কী দারুণ ট্যালেন্ট! দুনিয়ার আর কিছু পেল না, সোজা গিয়ে আঘাত করল পুলিশের গাড়িতেই!’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন সংক্রান্ত শুনানির জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর আদালত নির্ধারণ করেছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম শুনানি শেষে এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এম. আনিছুর রহমান (আনিছ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ মামলায় ১০ জন আসামি বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। মঙ্গলবার তাদের মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। এই কারণে তাকে আদালতে হাজির করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ।
পরে আদালত চার্জগঠন সংক্রান্ত শুনানির জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার ৩৪ আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আটক রয়েছে। জামিনে থাকা চার আসামিও মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি ২০ আসামি শুরু থেকেই পলাতক রয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। ওই দিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। চাঁদ উদ্যান এলাকায় পৌঁছালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট হোসেনের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেল।
আসামিদের মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক, সাদেক খান, ফুরকান হোসেন ও শাহজাহান খান কারাগারে আটক রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে মক্ক চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা এই দেশ বিরোধী আয়োজনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পুরনো পল্টন এলাকায় ‘বন্দর রক্ষা ও করিডোরবিরোধী আন্দোলনের’ ব্যানারে এই বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী হাতে মশাল নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় তারা ‘জ্বালোরে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘দেশ বিক্রির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’, ‘চট্টগ্রাম বন্দর, বিদেশিদের দেব না’, ‘আমার মাটি আমার মা, মার্কিন ঘাঁটি হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান উচ্চারণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের ব্যবসা ও বিনিয়োগের গতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের বাজারে প্রবেশ করছে জাপানি বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোও।
জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকিং, খুচরা ব্যবসা, গাড়ি, প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির মতো বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে, গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জাপান সফর করেন, যার লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করা। সফরের সময় তিনি ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারতকে জাপানের ব্যবসায়ীদের কাছে একটি সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার সংকুচিত হওয়ার ফলে দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য উৎসাহিত করছে।
ভারতের বড় শহরগুলোর বাজারে জাপানি পণ্যের উপস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। মুম্বাই, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুর প্রধান সড়কে জাপানি ব্র্যান্ডের দোকানগুলো দেখা যাচ্ছে। পোশাকের ব্র্যান্ড ইউনিক্লো এবং মুজি, পাশাপাশি ক্রীড়া জুতার ব্র্যান্ড ওনিতসুকা টাইগার ইতিমধ্যে ভারতে ব্যবসা শুরু করেছে।
এই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভারতে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। শুধু বড় ব্র্যান্ডগুলোই নয়, জাপানের ছোট ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোও ভারতের বাজারে প্রবেশ করছে।
জাপানের আসবাবপত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিতোরি সম্প্রতি ভারতে ব্যবসা শুরু করেছে। একইভাবে, জাপানের জনপ্রিয় সুবিধাজনক পণ্যের দোকানের চেইন লসনও ভারতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লসন ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে ১০ হাজার দোকান খোলার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।
মুম্বাই থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতে জাপানের আগ্রহ শুধু খুচরা ব্যবসায় সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির ব্যাংকগুলোও ভারতের আর্থিক খাতে বড় বিনিয়োগ করছে। বিদেশি কিছু ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান যখন ভারতের ব্যাংকিং খাত থেকে বিনিয়োগ কমাচ্ছে, তখন জাপানের বড় ব্যাংকগুলো ভারতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনতে প্রতিযোগিতা করছে।
জাপানের সবচেয়ে বড় ব্যাংক এমইউএফজি ব্যাংক গত বছর ভারতের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শ্রীরাম ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। এই চুক্তির মূল্য ছিল ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। ভারতের আর্থিক খাতে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। একই বছর জাপানের সুমিতোমো মিৎসুই ব্যাংকিং করপোরেশন ভারতের ইয়েস ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শেয়ারধারী হয়ে ওঠে। ব্যাংকটির হাতে ইয়েস ব্যাংকের ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ভারতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি পণ্য বিক্রি বা ব্যাংকিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণা, প্রযুক্তি এবং ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কাজও এখন ভারত থেকে পরিচালনা করছে অনেক জাপানি প্রতিষ্ঠান। ডেলয়েটের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে ১০০টির বেশি জাপানি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্র পরিচালনা করছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর এসব কেন্দ্র সাধারণত গবেষণা ও উন্নয়ন, ব্যবসার কৌশল, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্রের খাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে।
জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতে ব্যবসা বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ হলো দেশটির নিজস্ব বাজার। সুজুকি মোটর করপোরেশনের সহায়তায় পরিচালিত বিনিয়োগ তহবিল নেক্সট ভারত ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা বিপুল নাথ জিন্দাল বিবিসিকে বলেন, "জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন প্রবৃদ্ধির জন্য ভারতের দিকে তাকাচ্ছে।" তার মতে, জাপানের জনসংখ্যা গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে কমছে। এর ফলে শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমছে না, দেশটির বাজারের আকারও ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে। এই কারণে জাপানি কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য বিদেশি বাজারের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি সুজুকি মোটর করপোরেশন ভারতে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীন দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে ব্যবসা করা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। জিন্দালের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে চীনে জাপানের বিনিয়োগ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারও এখন আগের তুলনায় বেশি কঠিন। শুল্ক এবং স্থানীয় প্রতিযোগিতা সেখানে ব্যবসার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু এসব দেশের বাজার ভারতের তুলনায় ছোট।
এই পরিস্থিতিতে, বড় জনসংখ্যা ও দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির কারণে ভারত জাপানি কোম্পানিগুলোর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠেছে। ভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন নয়। প্রায় দেড় দশক আগে দুই দেশ বাণিজ্য উদারীকরণ নিয়ে একটি চুক্তি করে। এরপর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বে’ উন্নীত করা হয়। এরপর দুই দেশের সহযোগিতায় বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প শুরু হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্প, যেখানে জাপানের শিনকানসেন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে এবার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন পর্যায়ে সরকারি নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জুলাইয়ে দিল্লিতে ভারত ও জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রথম সরকারি দিল্লি সফরের সময় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১২০টি চুক্তির মাধ্যমে ভারতে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। সেমিকন্ডাক্টর, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং অন্যান্য খাতে এসব বিনিয়োগ হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেছেন, ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, জাপান তা নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ করতে পারে।
ভারতে শুধু জাপানের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি পায়নি, বরং ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোও নতুন বাজার খুঁজছে। জাপানের হামামাতসু শহর এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ। সুজুকি, হোন্ডা ও ইয়ামাহার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই শহরের সম্পর্ক রয়েছে। উৎপাদন খাতের ছোট ও মাঝারি কোম্পানির সংখ্যা এখানে বেশি। ভারতের বাজারে এসব কোম্পানির প্রবেশ সহজ করতে সম্প্রতি হামামাতসু শহর ‘হামামাতসু ইন্ডিয়া কমিটি’ গঠন করেছে। এই কমিটির লক্ষ্য হলো শহরের ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ভারতে ব্যবসা বৃদ্ধি করতে পারে, তা খুঁজে বের করা।
ভারতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ার সঙ্গে চীনে জাপানের নিট বিনিয়োগ কমে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর অর্থ এই নয় যে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে চীন ছেড়ে ভারতে চলে আসছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের তোশিরো নিশিজায়েওয়া লিখেছেন, এর পেছনে মূলত জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল কাজ করছে। অর্থাৎ নতুন বাজারে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে ব্যবসার ঝুঁকি কমাতে। সিডনিভিত্তিক লোয়ি ইনস্টিটিউটের ভারতবিষয়ক চেয়ার শ্রুতি পান্ডালাই বলেন, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পর জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি কমাতে চাইছে। তার মতে, চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে ভারত একটি বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার লক্ষ্য এবং ভারতের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও একে অপরের সঙ্গে মিলছে।
জাপানে রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব কমেনি। বরং দুই দেশের সহযোগিতা আরো বেড়েছে। পান্ডালাই বলেন, "জাপানে নতুন সরকার এলেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের লক্ষ্য কমেনি, বরং বেড়েছে।" তার মতে, এর অর্থ হলো ভারত-জাপান সম্পর্ক এখন শুধু দুই দেশের নেতাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দুই দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী মহল এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যেও এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে চাপের মধ্যে জাপানের নতুন বিনিয়োগ দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে। ফলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতের জন্য জাপানের মতো দেশের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শ্রুতি পান্ডালাইয়ের মতে, ভারত ও জাপানের সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির মতো খাতে চীনের প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই সম্পর্কের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সহজ হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে কর নিয়ে অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জমি ও পরিবেশের অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয় রয়েছে। জাপানি বিনিয়োগকারীরাও এসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ভারতের বুলেট ট্রেন প্রকল্পও এর একটি উদাহরণ। সম্প্রতি জাপানের সাবেক এক মন্ত্রী প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেরির জন্য ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত বারবার নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং কিছু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাচ্ছে। ভারত সরকার অবশ্য ওই অভিযোগ দ্রুত প্রত্যাখ্যান করে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও এই বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে। ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যার উদাহরণ হিসেবে তারা ঘটনাটি ব্যবহার করে।
ভারত ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এই গতি ধরে রাখতে ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভারতকে চীনের বিকল্প বাজার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখছে। জাপানের নিজস্ব বাজার সংকুচিত হওয়া, চীনে ব্যবসার ঝুঁকি বাড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা- সব মিলিয়ে ভারতের গুরুত্ব বাড়ছে। তবে জাপানের এই আগ্রহ ধরে রাখতে হলে ভারতে ব্যবসার পরিবেশ আরো সহজ করতে হবে। করব্যবস্থা, আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, জমি ও পরিবেশের অনুমোদন এবং বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরির মতো সমস্যাগুলো কমাতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (এনআইএস) কাছ থেকে একটি ব্রিফিং পাওয়ার পর দেশটির একজন আইনপ্রণেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে পিয়ংইয়ং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইউন কুন-ইয়ং সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বৈঠক যেকোনো সময় অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থাটি মনে করছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, তিনি চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক সামরিক মহড়া ব্যাপকভাবে কমানোর নির্দেশ দেওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প এবং কিম এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনবার বৈঠক করেছেন। এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা মনে করছে, কিম জং উনের কন্যা জু এ-কে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
আইনপ্রণেতা ইউন কুন-ইয়ং বলেন, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জু এ-কে প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। এনআইএস তাকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলমান থাকার বিষয়টি হিসেবে বিবেচনা করছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে উত্তর কোরিয়া নতুন করে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। ইউন বলেন, বর্তমানে উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা ‘খুবই কম’।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন যে, রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে উত্তর কোরিয়া আরো ৫০ হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। তবে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এই দাবি অস্বীকার করেছেন।
এদিকে এনআইএসের কাছ থেকে ব্রিফিং পাওয়া আরেক আইনপ্রণেতা ইউ ইয়ং-হা জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা এবং দেশটির ক্ষমতাসীন দলের একটি অভ্যন্তরীণ নথি পেয়েছে।
তবে তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ