ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘ভুল নীতির’ কারণেই বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সংকট: প্রতিমন্ত্রী


ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘ভুল নীতির’ কারণেই বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সংকট: প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকটের জন্য সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুল নীতিই দায়ী। বর্তমান সরকার সেই সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। এখন সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সোমবার রাজধানীতে বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ খাতের অগ্রাধিকার, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ, মিটার ভাড়া এবং জুন ২০২৬ সালের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সারের বস্তা থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র সাড়ে চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আগের সরকারের ভুল নীতির প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বাবলম্বী হওয়া, পরনির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

গত সরকারের ভুল নীতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি করা হয়েছে। ফলে প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত সক্ষমতার জন্য প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে, যা অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে করা কয়েকটি চুক্তিতে রাষ্ট্রের স্বার্থ যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। এসব চুক্তি বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার যেমন চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার চেষ্টা করেছে, বর্তমান সরকারও একই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ঠেলাঠেলি

চুক্তিগুলো সংশোধনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় চুক্তি পরিবর্তন করা সহজ নয়। আইনি ও চুক্তিগত নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ধাপে ধাপে ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। গত মাসেও কয়েকটি ক্ষেত্রে ট্যারিফ সংশোধন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো অভিযোগ বা তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার বক্তব্য নেওয়া হলে বিভ্রান্তি কমবে। এটি কোনো ধরনের হুমকি নয়, বরং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারি বর্ষণ, কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরানোর নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


ভারি বর্ষণ, কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরানোর নির্দেশনা

কক্সবাজার জেলা জুড়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য দুর্যোগের মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে জোরদার করা হয়েছে দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রম। বিশেষত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে তাড়াতাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় অতীতের এই তথ্যগুলো জানান জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিজেদের মতামত ও ধারণাগুলোকে তুলে ধরেন। পাশাপাশি জেলার অনেক উপজেলায় উপজেলা ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

জরুরি সভায় জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, 'কক্সবাজার জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী তিন দিন আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা আয়োজন করা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ফায়ার সার্ভিসের সতর্কতা নম্বর সম্পর্কে জানলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব শিগগির একটি কন্ট্রোল রুমের জরুরি নম্বর প্রকাশ করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করেও শুকনো খাবার, পুষ্টিকর খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।'

জেলা প্রশাসক জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হচ্ছে। জেলার যেকোনো প্রান্ত থেকে জরুরি পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেলে এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে দ্রুত সমন্বয় করে সর্বনিম্ন সময়ে প্রয়োজনীয় সাড়া দেওয়া হবে।

এ পর্যন্ত জেলায় কোথাও পানিবন্দি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, 'প্রশাসন সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার সদর পৌরসভায় একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়ার পর তিন দিন আগে থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য নিয়মিত প্রচার ও অনুরোধ জানানো হচ্ছে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকৃবির কৃষি অনুষদের ১২ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৬ পি.এম


বাকৃবির কৃষি অনুষদের ১২ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড
 
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের ১২ জন কৃতি শিক্ষার্থী ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। একইসঙ্গে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া কৃষি অনুষদের নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ওরিয়েন্টেশন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে নবীনবরণ ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কৃষি অনুষদ।
 
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক।
 
কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুম আহমাদ নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান। তিনি কৃষি অনুষদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিক্ষা কার্যক্রম তুলে ধরেন। এ সময় কৃষি অনুষদের ওপর একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাহফুজা জাহানসহ অনুষদের অন্যান্য শিক্ষক।
অনুষ্ঠানে কৃষি অনুষদে নবীন ৩২০ জন শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, অনুষদের শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
 
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান। অনুষদের মেধাতালিকায় অসাধারণ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ ১২ জন শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা মেডেল ও সনদ তুলে দেন উপাচার্য ও কৃষি অনুষদের ডিন।
 
এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দুইজন শিক্ষার্থী নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। পরে বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের পক্ষ থেকে নবাগতদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়া হয়।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষি শিক্ষার অগ্রদূত এবং কৃষি বিপ্লবের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। নবীন শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে দেশ ও বিশ্বের কৃষি উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে।
 
তিনি আরও বলেন, বাকৃবির শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে অন্যদেরও লেখাপড়ায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার উথলী রেলস্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয় (আনুমানিক) এক ব্যক্তির করুণ মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার (৬ জুলাই) বিকালে জীবননগর উথলি প্ল্যাটফর্মের পশ্চিম দিকে চিলাহাটিগামী আপ রুপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটির সাথে কাটা পড়ার মাধ্যমে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই ব্যক্তি বেশ কয়েকদিন ধরে উথলী রেলস্টেশন এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। সোমবার বিকালের সময় রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি একটি চলন্ত ট্রেনে কাটা পড়েন।

এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উথলী রেলস্টেশনের কর্তব্যরত মাস্টার আবু সাইদ বলেন, 'খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী আপ রুপসা এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।'

এদিকে, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রেলওয়ে থানা পুলিশ। দর্শনা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রফিক জানান, 'ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের জন্য আমাদের চেষ্টা চলছে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বীরত্বের অনন্য নজির

ধসে পড়া বহুতল ভবনের নিচে থেকে বাবা ও দুই ভাইকে জীবিত উদ্ধার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪০ পি.এম


ধসে পড়া বহুতল ভবনের নিচে থেকে বাবা ও দুই ভাইকে জীবিত উদ্ধার!

ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল বিপুল সংখ্যক বহুতল ভবন। হাজারো প্রাণহানির সেই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যেও মানবতা, সাহস ও আশার এক অসাধারণ গল্প উঠে এসেছে। নিজের জীবন বিপন্ন করে ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা বাবা এবং দুই ছোট ভাইকে জীবিত উদ্ধার করেছেন এক যুবক। তবে সেই পরিবারের আনন্দ আজও অপূর্ণ- কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচেই নিখোঁজ রয়েছেন তাদের মা।

মুহূর্তেই ধসে পড়ল ১১ তলা ভবন

গত ২৪ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটের দিকে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরার কারাবায়েদা এলাকায় ৭ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প পুরো এলাকাকে কাঁপিয়ে দেয়।

সেই সময় গাড়ি মেরামতের কারিগর ৪৬ বছর বয়সী হোসে গার্সিয়া স্ত্রী ও দুই ছোট ছেলে- ৭ বছরের দিয়েগো এবং ১২ বছরের সান্তিয়াগোকে নিয়ে ১১ তলা রিতাসোল প্যালেস ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে ছিলেন।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ভবনটি ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান হোসে ও তার দুই ছেলে। ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে তারা গিয়ে আটকে পড়েন ভবনের বেজমেন্টের ধ্বংসাবশেষে।

হোসে বলেন, “জীবনে এর চেয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা আর হতে পারে না। মনে হচ্ছিল, আর কখনও বের হতে পারব না।”

জানতেন না পরিবার বেঁচে আছে কি না

হোসের বড় ছেলে ২৬ বছর বয়সী জেসুস গার্সিয়া আগে লা গুয়াইরার দমকল বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। চাকরি ছেড়ে দিলেও এক সহকর্মী তার অগ্নিনির্বাপণ পোশাক ও হেলমেট নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। ভূমিকম্পের রাতে সেই সরঞ্জামই কাজে লাগে।

ভবন ধসে পড়ার খবর পেয়ে জেসুস দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কিন্তু তখনও তিনি জানতেন না, তার বাবা-মা ও ভাইয়েরা বেঁচে আছেন, নাকি সবাই মারা গেছেন।

ধ্বংসস্তূপে পৌঁছে তিনি প্রথমে তার সাবেক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করেন। তিনিই জেসুসকে জানান, “তোমার বাবা জীবিত আছেন। নিচে তোমার দুই ভাইকে নিয়ে আটকে আছেন।”

প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেননি জেসুস। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বাবার কণ্ঠ ভেসে আসে- “আমাকে এখানে রেখে যেও না।”

জেসুস তখন বাবাকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনি শান্ত থাকুন। বাচ্চাদেরও শান্ত রাখুন। আমি আপনাদের ছাড়া এখান থেকে ফিরব না।”

ধ্বংসস্তূপের নিচে দীর্ঘ ২০ ঘণ্টা

তখন পর্যন্ত এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন হোসে ও তার দুই ছেলে। সৌভাগ্যবশত তারা গুরুতর আহত হননি, তবে সামান্য নড়াচড়াতেই ধ্বংসস্তূপ ভেঙে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।

হোসে বলেন, “প্রথমেই আমার সন্তানদের কথা মনে হয়েছিল। ছোট ছেলেটিকে বুকের কাছে জড়িয়ে রেখেছিলাম। বড় ছেলেটি পাশেই চাপা পড়েছিল। আমি শুধু তার একটি হাত আর একটি পা দেখতে পাচ্ছিলাম।”

নিজে আতঙ্কিত হলেও দুই শিশুকে সাহস জোগানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি।

উদ্ধার অভিযানে ছেলের নিরলস লড়াই

বাবা ও ভাইদের জীবিত থাকার খবর পাওয়ার পরই উদ্ধারকাজ শুরু করেন জেসুস। কিন্তু দ্রুত বুঝতে পারেন, ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়া তাদের বের করা সম্ভব নয়।

রাত পেরিয়ে পরদিন সকালে পুলিশ ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল জ্যাকহ্যামারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

লা গুয়াইরার দমকল বাহিনীর সদস্যরাও তাদের সাবেক সহকর্মীর পাশে দাঁড়ান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ২৫ জুন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে, অর্থাৎ ভূমিকম্পের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় হোসে এবং তার দুই ছেলেকে।

ছোট দুই ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে জেসুস আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, “ওদের দেখে জড়িয়ে ধরলাম, চুমু খেলাম এবং বললাম, ‘আমি তোমাদের ভালোবাসি।’ এরপর একটু দূরে গিয়ে আর নিজেকে সামলাতে পারিনি। কান্নায় ভেঙে পড়ি।”

অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও নিখোঁজ স্ত্রী

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও হোসের জীবনে দুঃখের শেষ হয়নি। ভূমিকম্পের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও তার স্ত্রী এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচেই আটকে রয়েছেন। তবু আশা ছাড়েননি তিনি।

হোসে বলেন, “যেভাবে বিশ্বাস করেছিলাম আমি ও আমার সন্তানরা জীবিত বের হয়ে আসবো, ঠিক সেভাবে এখনও বিশ্বাস করি, আমার স্ত্রীকেও জীবিত উদ্ধার করা হবে। আমি আশা হারাইনি।”

হাজারো পরিবারের একই করুণ পরিণতি

হোসে গার্সিয়ার গল্প ভেনেজুেলার হাজারো বিপর্যস্ত পরিবারের একটি মাত্র উদাহরণ।

রিতাসোল প্যালেস থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে নিজের ধসে পড়া অ্যাপার্টমেন্টের সামনে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন আন্দ্রেইনা রে।

ভূমিকম্পের সময় তিনি জীবিকার তাগিদে প্রতিবেশী কলম্বিয়ার একটি কয়লাখনিতে রাঁধুনির কাজ করছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত দেশে ফিরলেও ততক্ষণে সব শেষ।

তার মেয়ে, দুই নাতি-নাতনি, মেয়ের শ্বশুর-শাশুড়ি ও ভাশুর- সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ।

মেয়ের ২০তম জন্মদিনেও তিনি ধ্বংসস্তূপের সামনে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় একটি কেকে মোমবাতি জ্বালান। এরপর কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তিনি বলেন, “আমি আমার পুরো পরিবারকে হারিয়েছি। এখন এই পৃথিবীতে আমার আর কিছুই নেই।”

ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র

ভেনেজুয়েলা সরকারের তথ্যানুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৯০টি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। তবে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিন হাজার তিনশ’র বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রতিদিন নতুন নতুন মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।

হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ইয়ান কস্তার মতে, এই দুর্যোগ শুধু মানুষের ঘরবাড়িই ধ্বংস করেনি, ভবিষ্যৎ নিয়েও চরম অনিশ্চয়ের মধ্যে ফেলেছে।

তিনি বলেন, “মানুষ জানে না তারা কোথায় যাবে, কীভাবে নতুন জীবন শুরু করবে। এই অনিশ্চয়তাই সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা।”

সরকারের ধীরগতির ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ত্রাণ কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে রিতাসোল প্যালেসের ধ্বংসস্তূপের পাশে প্রতিদিন দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর কাজ দেখেন হোসে গার্সিয়া। সামনে কী অপেক্ষা করছে, সে প্রশ্নের কোনও উত্তর তাঁর কাছে নেই।

তিনি বলেন, “আমাদের আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। কিন্তু কীভাবে শুরু করব, কতটা মূল্য দিতে হবে, ভবিষ্যৎ কী হবে- কিছুই জানি না।”

সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%