১০:৫১ পি.এম
বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের গৌরবময় সংসদ ভবনের নকশা করেছেন বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান।
ঠিক তেমনি, আমেরিকার আধুনিক স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বিশিষ্ট বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান। এই পারস্পরিক অবদান নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ ও আমেরিকা আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে।’
শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন জানান, “১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন ‘সব মানুষ সমান’।
আজ ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকে আমরা বৈশ্বিক অংশীদারি জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি জানান, ‘এই ঐতিহাসিক ক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চায়, যেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকসই নিরাপত্তা অংশীদারি ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।’
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর এক অবিস্মরণীয় অবদান।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
আজকের এই সংগীতায়োজন সেই একই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে বহন করছে, যা কেবল বাণিজ্য বা কূটনীতি নয়, বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যকার সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিতে রূপ দেবে।”
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি পরীক্ষিত বন্ধু।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা এই গভীর অংশীদারিরই প্রমাণ। আগামীতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।’
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গাইবান্ধার স্মৃতি খাতুনের সাফল্য
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি মন্তব্য করেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবনের আইকনিক স্থাপনার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের এই আয়োজন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক।’
জমকালো এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদীয় ককাসের সদস্য, সংসদ সদস্যগণ, মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন