০৬:২১ পি.এম
বিগত ১৭ বছরে গুম-খুন, ভোট চুরি ও গণহত্যার বৈধতা দেওয়া সাংবাদিক নামধারীদের বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুনর্বাসিত করার বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ এসব নামধারী সাংবাদিক এবং মিডিয়া হাউসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, তা জানতে চান।
জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যারা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করতে সহায়তা করবে, সন্ত্রাসের মাধ্যমে যারা কাজ করবে—সে যিনিই হোন, তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেটা সাংবাদিক হোক কিংবা আমাদের রাজনীতিবিদ, বিজনেসম্যান বা চাকুরিজীবী হোক—আইনের ঊর্ধ্বে তো কেউ নয়। কাজেই যদি কেউ আইন লঙ্ঘন করে, তার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার প্রচলিত আইনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
এর আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে মন্তব্য করেন, “সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা দেখেছি সাংবাদিকতা করা খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু সেই সময়েও অনেক পেশাদার সাংবাদিক, পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।”
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের সময়ে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে যারা গণহত্যা, ভোট চুরি, গুম-খুন, ব্যাংক ডাকাতির বৈধতা উৎপাদন করেছে মিডিয়াগুলোতে এবং যারা আজকে সরকারি দলে রয়েছেন—বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, এমনকি তাদেরকেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রকারী, দেশদ্রোহী হিসেবে আমরা দেখেছি বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া বিভিন্ন সময়ে নিউজ করেছে। আমাদের এই সংসদে বর্তমান বিএনপি ও জামায়াতের কিছু সদস্য রয়েছে—বিভিন্ন সময়ে তাদের হত্যা করার অনুমতি উৎপাদন করেছে কিছু মিডিয়া ও নামধারি সাংবাদিক। বর্তমানে এসব সাংবাদিকদের বিভিন্ন হাউসে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এই জুলাইয়ের পরে টিভি থেকে জুলাইয়ের পক্ষে সাংবাদিকদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সময় টিভিকে দখল করা হয়েছে।”
ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া, অর্থাৎ বসুন্ধরা গ্রুপের যেসব মিডিয়া হাউস রয়েছে, তারা সকলেই প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করে যাচ্ছে বলে এনসিপির এই এমপি দাবি করেন। তিনি বলেন, গতকাল (শনিবার) নোয়াখালীতে ছাত্রলীগ মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলকে পিটিয়েছে এবং সেটাকে উদযাপন করতে দেখা গেছে বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়াকে এবং কিছু টকশো হোস্টদের। তার প্রশ্ন ছিল—এসব গুম-খুনের বৈধতা উৎপাদন করেছে, ভোট চুরির বৈধতা উৎপাদন করেছে, গণতন্ত্রের পক্ষে যারা ছিলেন তাদেরকে হত্যার জন্য উপযুক্ত করে চালিত করেছে, এসব নামধারী সাংবাদিক ও মিডিয়াগুলোর বিষয়ে আইনগত কী ধরনের পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না? কেন তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে? এর আইনগত ভিত্তি কী? তা সংসদে উপস্থাপন করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
এদিকে, হাসনাতের প্রশ্নের একাংশের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে সম্পূরক প্রশ্নে নোয়াখালী-২ আসনের সরকারি দলীয় এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত জটিল, অতীতের কথা বাদ দিলাম। আমাদের নতুন সংসদ সদস্য (হাসনাত আবদুল্লাহ) যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে আমি সব ক্ষেত্রে একমত পোষণ করতে পারি না। একটি বিষয় মাননীয় মন্ত্রীর কাছে জানতে চাই—গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করে। সকল উপজেলা ও ইউনিয়ন লেভেল পর্যন্ত এখন সাংবাদিকের কার্ড পাওয়া যায়। তবে সে ডিগ্রীধারী নয়, মেট্রিক পাসও নয়। ইউটিউবের মাধ্যমে যা ইচ্ছা তাই লিখে যাচ্ছে। এই বিষয়গুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে কি না? এদের লেখাপড়া কেমন? এদের কার্ড কে দেয়? এই বিষয়গুলো কি তদন্ত করে দেখা হবে? না হলে উন্নয়নের এবং গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে সবকিছুরই সমাপ্তি ঘটবে।”
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, “আমরা মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন নিয়ে কাজ করছি। যারা সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধিত নয়, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন রকম মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন উপস্থাপন করে। সেজন্য আমরা একটি টিম প্রস্তুত করেছি। তারা মনিটরিং করে তাদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম গ্রহণ করছে। অতি শিগগিরই ওই টিমের কার্যক্রম এবং পরিধি ঘোষণা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন