০৬:১৭ পি.এম
বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজারের পরিবর্তিত বাস্তবতা বিষয়ক বর্তমানে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে না পারলে, বাংলাদেশ বিদেশের শ্রমবাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ যদি সময়ের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দক্ষ জনশক্তির জোগান বৃদ্ধি করতে না পারে, তাহলে বিদেশের শ্রমবাজার হারানোর বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশ উত্থাপনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নোটিশটি গ্রহণ না করলেও এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য দুই মিনিট সময় দেন।
এ সময় নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, "কথায় আছে, গতিতে জীবন আর স্থিতিতে মরণ।" দক্ষ জনশক্তির গতি একটি দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের আয় বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এই খাত থেকে জিডিপিতে প্রায় ৭ শতাংশ অবদান আসবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেন। তবে তাদের অধিকাংশই অদক্ষ ও স্বল্পশিক্ষিত।
অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে উন্নত প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে কম দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা ক্রমশ কমছে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ইতিহাস তুলে ধরে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, আশির দশকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এ বিষয়টির সূচনা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ
নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যতের জন্য কর্মক্ষম ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিকল্প নেই।
তিনি জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কীভাবে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কারণ দক্ষ মানবসম্পদ ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এখনই দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার বিস্তার ঘটাতে হবে। অন্যথায়, দেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন