মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১১ পি.এম
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ইয়াশিন ট্রফির জন্য মনোনয়ন লাভ করেছেন, যা ব্যালন ডি’অরের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার। এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহাও স্থান পেয়েছেন। পুরুষ বিভাগের জন্য মোট ১০ জন গোলরক্ষককে মনোনীত করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে কেপ ভার্দের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে ভোজিনহা আলোচনায় আসেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক অসাধারণ সেভ করে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ইয়াশিন ট্রফির মনোনয়ন অর্জন করেছেন এই গোলরক্ষক।
গতবারের ইয়াশিন ট্রফিজয়ী ইতালির জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা এবারের তালিকায় নেই। তবে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের দুই গোলরক্ষক উনাই সিমোন ও দাভিদ রায়া জায়গা করে নিয়েছেন। আর্সেনালের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার কারণে রায়ার মনোনয়ন বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।
এছাড়াও তালিকায় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ রয়েছেন। আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি আবারও ইয়াশিন ট্রফির দৌড়ে স্থান পেয়েছেন।
পুরুষ বিভাগের ১০ মনোনীত গোলরক্ষক হলেন—ইয়াসিন বুনু (আল হিলাল/মরক্কো), থিবো কোর্তোয়া (রিয়াল মাদ্রিদ/বেলজিয়াম), গ্রেগর কোবেল (ডর্টমুন্ড/সুইজারল্যান্ড), হোয়ান গার্সিয়া (বার্সেলোনা/স্পেন), এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা ও চেলসি/আর্জেন্টিনা), এদুয়ার্দ মেন্দি (আল আহলি/সেনেগাল), দাভিদ রায়া (আর্সেনাল/স্পেন), মাতেভেই সাফোনোভ (পিএসজি/রাশিয়া), উনাই সিমোন (অ্যাথলেটিক বিলবাও/স্পেন) ও ভোজিনহা (জিডি শাভেস/কোলো-কোলো/কেপ ভার্দে)।
নারী বিভাগেও ইয়াশিন ট্রফির জন্য পাঁচ গোলরক্ষকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গতবারের পুরস্কারজয়ী হানা হ্যাম্পটন এবারও মনোনয়ন পেয়েছেন। তার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছেন জার্মানির অ্যান-কাটরিন বার্গার, স্পেনের কাটা কোল, ব্রাজিলের লোরেনা এবং জাপানের আয়াকা ইয়ামাশিতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের সাথে সম্পর্কিত সামরিক সরঞ্জামবাহী ট্রাকের বহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে একটি ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ঘটনা ঘটে ইয়েমেন-সৌদি সীমান্তের আল-ওয়াদিয়া সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছে অবস্থিত একটি শিবিরে। হুতি মিডিয়ার সূত্রে জানা গেছে, এই হামলায় সৌদি সামরিক শিবিরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইয়েমেন নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, হুতি বিদ্রোহীরা আল-ওয়াদিয়া শিবিরে অবস্থানরত সৌদি বাহিনী ও তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি চালিয়ে আসছিল। সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদবাহী যানবাহন পর্যবেক্ষণ করার পর তারা এই হামলা পরিচালনা করে। সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, একটি ফ্র্যাগমেন্টেশন ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক সরঞ্জাম বোঝাই ট্রাকে আঘাত হানার সাথে সাথেই সেখানে এক ধারাবাহিক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ভিডিওতে অনেক সৈন্যকে আতঙ্কিত হয়ে শিবিরের চারপাশ থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।
গত জুলাইয়ে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে এটি অন্যতম বড় সংঘাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সংঘাতের কারণে তেল বাজারে মন্দা ও বিশ্বজুড়ে দাম বৃদ্ধির মধ্যে সংঘাতের এই নতুন দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া হুতিদের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় আঘাত হেনেছে এবং সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করেছে। ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের এই বছরের অন্যতম শক্তিশালী হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের মতে, এই হামলায় তাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের বেশ কয়েকটি শক্তি স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন তেল কেন্দ্রে সাময়িক উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরব এই ঘটনাকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে হুতিদের বিরুদ্ধে কড়া জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সৌদি আরব তার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সাথে রিয়াদ অবিলম্বে হুতিদের হামলা বন্ধ করার এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে তাদের আক্রমণ প্রতিরোধ করার দাবি জানিয়েছে।
এই সাম্প্রতিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে তীব্রতর হলো যখন ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণ লড়াই আরও বেগবান হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃত এবং সৌদি-সমর্থিত সরকার হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে আবার নতুন করে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। এর জবাবে হুতিরা উল্টো রিয়াদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বিমান হামলার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, একটি কারাগারে সৌদি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের নেতা টিপু হাওলাদার এবং জাসাস নেতা কবির মোল্লাকে ২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন টিপু হাওলাদারের স্ত্রী সুমা আক্তার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
সুমা আক্তার আদালতে বলেন, ঘটনার পূর্বে তার স্বামী ‘ক্রসফায়ারের’ আশঙ্কায় ছিলেন। এ কারণে তিনি তাকে সাময়িকভাবে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যেতে বলেছিলেন।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জবানবন্দি দেন সুমা আক্তার।
জবানবন্দিতে তিনি জানান, তার স্বামী টিপু হাওলাদার তাকে জানিয়েছিলেন যে, এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ একটি সভায় তাকে দেখা করতে বলেছেন। এ নিয়ে তিনি মানসিক চাপ অনুভব করছিলেন। একপর্যায়ে টিপু তাকে বলেন, ‘বরিশালে দুই-তিনটা ক্রসফায়ার হয়ে গেছে, আমার কিছু হয়ে গেলে তোমার আর সন্তানদের কী হবে?’
সুমা বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি স্বামীকে ঢাকায় গিয়ে চাকরির চেষ্টা করার পরামর্শ দেন। এরপর ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি টিপু ঢাকায় যান। কিন্তু ১৯ ফেব্রুয়ারি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ডিবি পুলিশ এসে টিপুকে তুলে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আগৈলঝাড়া থানায় গেলেও পুলিশ প্রথমে টিপুর গ্রেফতারের বিষয়ে কিছু জানে না বলে জানায়। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে সহযোগিতা চাইলেও তারা কোনো সহায়তা করতে পারেননি। তাদের পরামর্শে তিনি শাশুড়ি ও ভাসুরকে নিয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বরিশালের বাসভবনে যান। তবে দারোয়ান তাকে ভেতরে ঢুকতে দেননি।
সুমা আক্তার জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তিনি দেখতে পান, টিপু হাওলাদার ও জাসাস নেতা কবির মোল্লা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এরপর স্বজনদের নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। পোস্টমর্টেম শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দ্রুত দাফন সম্পন্ন করতে বলা হয়।
তিনি দাবি করেন, থানার লোকজন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্রুত দাফনের জন্য চাপ ও হুমকি দিয়েছিল।
সাক্ষ্যে সুমা আক্তার জানান, ঘটনার কিছুদিন পর তিনি লোকমুখে জানতে পারেন, স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তৎকালীন পুলিশ সুপার এহসানউল্লাহর নির্দেশে উজিরপুর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ, উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন। মাহাবুল ও জসিম বর্তমানে গ্রেফতার আছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস এলাকার বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক আজ (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। এটি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে, আলোচনা সূচি অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি, সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ পরিচিতি পর্বে অংশগ্রহণ করেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভাগসমূহের কার্যাবলী সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন পেশ করা হয়। চলমান প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেন, "প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়নে কমিটির তৎপরতার গুরুত্ব অনেক বেশি।" তিনি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সভাপতি তার বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, স্থায়ী কমিটি জনগণের প্রতি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।
বৈঠকে কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি, কাজী রফিকুল ইসলাম এমপি, মঈনুল ইসলাম খান এমপি, ফখরুল ইসলাম এমপি, শওকতুল ইসলাম এমপি, ফরিদা ইয়াসমিন এমপি, সাইফুল আলম এমপি এবং রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এমপি অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া, বৈঠকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ, পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিববৃন্দ, বিপিপিএ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্য ঘোষণা করেছে যে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড মঙ্গলবার পার্লামেন্টে উল্লেখ করেছেন যে, ব্রিটেন পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। তিনি আরও জানান, বসতি সম্প্রসারণের সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে দেওয়া বক্তব্যে মিলিব্যান্ড বলেন, "অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং এর ফলে ফিলিস্তিনিদের ওপর যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ বা অন্যায়ের সমালোচনা করে বসে থাকার সময় শেষ হয়েছে। এখন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "আজ আমরা আরও দুর্ভোগ এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংসের ঘটনায় নীরব দর্শক হয়ে থাকতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি।"
যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে আসছে। এই ব্যবস্থার আওতায় একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে, তবে ইসরায়েলি সরকার এই ধারণার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
মিলিব্যান্ড উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ মনে করে। তিনি বলেন, "পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নির্মূল’ সংঘটিত হচ্ছে।"
কী থাকছে নিষেধাজ্ঞায়
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার পর, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। পাশাপাশি, বসতি সম্প্রসারণের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তবে নতুন ব্যবস্থার বিস্তারিত এখনও পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষ করে, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং ইসরায়েলের ভেতরে উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কীভাবে পার্থক্য করবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আপত্তি
যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
ইসরায়েলের দুই মন্ত্রীও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে, ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত লন্ডন ও তেল আবিবের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যে প্রভাব কতটা?
যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে বছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৮ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে সামগ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর অন্যতম কারণ হলো, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে আসা পণ্যের পরিমাণ দুই দেশের মোট বাণিজ্যের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং কোন কোন পণ্য এর আওতায় পড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা গেলে এর প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে লন্ডনের অবস্থান কঠোর হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে যুক্তরাজ্য তার দীর্ঘদিনের নীতিকে আরও সক্রিয় পদক্ষেপের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চাইছে। সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ