০৮:০৭ পি.এম
‘আমার বয়স এখন ৮৫। এই ৮৫ বছরের দীর্ঘ জীবনে কখনও বন্যার এমন পানি দেখিনি। এখানে স্মরণকালের বন্যা হয়েছিল ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল। তখনও এমন পানি হয়নি।’
শুক্রবার এ কথাই জানাচ্ছিলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মধ্যম মিনজিরীতলা ঘোড়াপাড়া এলাকার ঘোরামিয়া মাস্টার বাড়ির মুহাম্মদ নুরুল হক। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এবারের বন্যা বাঁশখালীর অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত করে ফেলেছে। ঘর-বাড়ি, মসজিদ-মাদরাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে।
জানা গেছ, টানা তিন দিনের বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে সমুদ্রের জোয়ারের পানিও লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার দুই লক্ষাধিক মানুষ এই পানির শিকার হয়েছে। সংকটে পড়তে হয়েছে বিশুদ্ধ পানির এবং শুকনো খাবারের।
আরও পড়ুন: পটুয়াখালী জেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে জনতার উপস্থিতি, আলোচনায় কবির শিকদার
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উপজেলার পুইছড়ি, ছনুয়া, শেখারখীল, চাম্বল, গন্ডামারা, শীলকুপ, পৌরসভা, সরকার, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধানপুর, খানখানাবাদ, বাহারছাড়া, এবং পুকুরিয়া এলাকার ৮০ শতাংশ বাড়ি-ঘর পানির নিচে ডুবে গেছে। ভেঙে গেছে পাঁচ শতাধিক কাঁচা মাটির তৈরি বসতবাড়ি। অতিটি ঝুঁকিতে রয়েছে পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, চাম্বল, বৈলছড়ি, পৌরসভা, কালিপুর, সাধানপুর, গন্ডামারা, বাহারছাড়া ও খানখানাবাদ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিন রুহুল আমিন বলেছেন, বাঁশখালী উপজেলার অধিকাংশ এলাকার ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর ফলে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিওর পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তবে এগুলো পর্যাপ্ত নয়। আরও বিশুদ্ধ পানি ও খাবার প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন