বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:২৪ পি.এম
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় দিনের বেলায় এক বিজিবি কর্মকর্তার বাড়িতে একটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা ঘরের দরজার তালা ভেঙে আলমারি কুপিয়ে প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার, ৭০ হাজার টাকা এবং সোনালী ব্যাংকের স্বাক্ষর করা একটি ব্ল্যাংক চেক নিয়ে গেছে। প্রকাশ্য দিনের বেলায় এমন চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের আকনেরহাট বাজারসংলগ্ন মাওলানা তৈবুর রহমান হুজুরের মাদ্রাসার সামনে বিজিবি কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী শহীদা বেগম জানান, শনিবার দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি ঘরে তালা লাগিয়ে বাবার বাড়িতে যান। সন্ধ্যার আগে বাড়িতে ফিরে এসে দেখতে পান ঘরের দরজার তালা ভাঙা। ভেতরে ঢুকে দেখেন আলমারিও কুপিয়ে ভাঙা হয়েছে। পরে আলমারিতে রাখা স্বর্ণালংকার ও টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
তিনি বলেন, “চোরেরা আলমারির ভেতরে থাকা তিন জোড়া কানের দুল, দুই জোড়া চুড়ি, এক জোড়া বালা ও অন্যান্য স্বর্ণালংকারসহ প্রায় সাত ভরি স্বর্ণ নিয়ে গেছে। এছাড়া প্লাস্টিকের ব্যাংকে জমানো ও আলমারিতে রাখা প্রায় ৭০ হাজার টাকা এবং সোনালী ব্যাংকের স্বাক্ষর করা একটি ব্ল্যাংক চেকও নিয়ে গেছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় বসতঘরে তালা ভেঙে এভাবে চুরি সংঘটিত হওয়ায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চোরেরা দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে পরিকল্পিতভাবে চুরি করেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কাঁঠালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
এদিকে চুরি যাওয়া স্বাক্ষর করা ব্ল্যাংক চেক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবারটি। চেকটি যাতে কোনোভাবে অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কাঁঠালিয়া থানার ওসি রায়হান নেছার জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
দিনদুপুরে জনবহুল এলাকার একটি বাড়িতে তালা ভেঙে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও ব্যাংকের স্বাক্ষর করা চেক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের ছাত্রলীগ নেতা সোহেল গ্রেপ্তার
পুলিশ জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের কালীতলা বটতলা মোড় থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সোহেল রানা চর ভবসুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মজিবর রহমানের সন্তান।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসে পৌর শহরের বাদে শশারিয়া এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ‘ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে পাঠানোর পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় আশাদুল হক মিন্টু (৩৯) নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি, তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।
জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত এক মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১ম আদালত) সত্যব্রত শিকদার এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্টু চুয়াডাঙ্গা শহরতলির দৌলতদিয়াড় চুনুরীপাড়ার মৃত রমজান আলীর পুত্র।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ মাদকবিরোধী অভিযানের সময় মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের ডান পকেট থেকে তিনটি পলিথিনে মোড়ানো হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া প্যাকেটগুলোর মোট ওজন ছিল ১৩৫ গ্রাম। তার বাঁ পকেট থেকে ১৮টি প্যাথিডিন ইনজেকশনের অ্যাম্পুলও উদ্ধার করা হয়। জব্দ তালিকা অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ছিল এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
প্যাথিডিন ইনজেকশনের মূল্য ধরা হয়েছিল এক হাজার ৮০০ টাকা। এ ঘটনায় মিন্টুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এপিপি মানাজার আলী জোয়ার্দ্দার মন্তব্য করেন, ‘দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা মামলায় আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।’
এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফজলে রাব্বী সাগর জানান, ‘এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং রুফটপ সোলারের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে সরকার নতুন উদ্যোক্তা ও সার্ভিস প্রোভাইডার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে জেলা ও ভৌগোলিক এলাকার ভিত্তিতে যোগ্য সার্ভিস প্রোভাইডারদের তালিকাভুক্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সারাদেশে একযোগে সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, তালিকাভুক্ত সার্ভিস প্রোভাইডাররা স্থানীয় পর্যায়ে রুফটপ সোলারসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির স্থাপনে কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক প্যাকেজ, গ্রাহকসেবা এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা প্রদান করবে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তারা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে নিজেদের প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানাচ্ছে, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করা হবে। একক প্রতিষ্ঠান এবং যৌথ উদ্যোগ উভয়েই আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এতে নতুন ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রুফটপ সোলার ব্যবসাকে শুধুমাত্র বড় প্রতিষ্ঠান বা শহরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
এর ফলে গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী ও উদ্ভাবনী বিনিয়োগ এবং সেবা প্যাকেজ তৈরির পাশাপাশি সার্ভিস প্রোভাইডারদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বৃদ্ধি পাবে।
রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা, কর ও শুল্ক সুবিধা, সহজ ও স্বল্পসুদের অর্থায়ন এবং নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও সরকার কাজ করছে। বিশেষভাবে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬–২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রুফটপ সোলার থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানাচ্ছে, নিরাপদ, সাশ্রয়ী, টেকসই ও নিম্ন-কার্বন জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন এগিয়ে নিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে সারা দেশে দক্ষ জনবল, স্থানীয় উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও কার্যকর সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।
সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রুফটপ সোলার দেশের জ্বালানি রূপান্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, স্থানীয় বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। পঞ্চগড় থেকে পটুয়াখালী এবং কুড়িগ্রাম থেকে কক্সবাজার—দেশের সব অঞ্চলের ব্যবসায়ী, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের এই ক্রমবর্ধমান বাজারে যুক্ত করাই উদ্যোগটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর ধামইরহাটে আত্রাই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিমুলতলী ব্রিজের পাশে আত্রাই নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের রসপুর গ্রামের তহিদুল ইসলামের ছেলে জিসান (৮) এবং দেলোয়ার হোসেনের ছেলে তাহমিদ হোসেন (৮)। সম্পর্কে তারা সমবয়সী ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ওই দুই শিশু বাড়ির পাশে আত্রাই নদীতে মাছ ধরার উদ্দেশে বের হয়। একপর্যায়ে তারা নদীর পানিতে নামলে তীব্র স্রোত ও গভীরতার কারণে তলিয়ে যায়। দূর থেকে বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। নদী থেকে উদ্ধার করে দুই শিশুকে তাৎক্ষণিকভাবে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নদীতে মাছ ধরতে নেমে পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে শিশু দুটির মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নিয়েছে। এ বিষয়ে নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে একসঙ্গে দুই শিশুর এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে রসপুর গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়েছে। শোকে স্তব্ধ পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ