ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ অভিযান


ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ অভিযান

 

ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গাছ বিতরণের কার্যক্রম চলছে।

বর্তমানে, ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচিটি ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরের সালন্দর ইসলামীয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে এ আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: হেমায়েত হোসেন

এই অনুষ্ঠানে, স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ফলজ বনজ ও ঔষধি প্রজাতির দুই শতাধিক গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

বৃক্ষরোপণ অভিযানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশও এখন বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ধর্ষণের মতো অপরাধ রাজনীতিকে কলুষিত করছে।’

একই সঙ্গে, পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে বৃক্ষরোপণের সাথে সাথে রাজনীতিকে দূষণমুক্ত করার জন্য সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার আহ্বান জানিয়ে দেন তিনি।

আরও পড়ুন: বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির গলাচিপা থানা পরিদর্শন

দেলাওয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ‘কার্বন ডাইঅক্সাইড যেমন পরিবেশকে দূষিত করছে, তেমনি দেশের রাজনীতিতেও এখন বিষাক্ত আবহাওয়া বিরাজ করছে। আগামী প্রজন্মের জন্য কল্যাণকর, নিরাপদ ও সুস্থ রাজনীতি গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সমাজ ও রাজনৈতিক পরিবেশকে নষ্ট করছে। কারণ এসব অধিকাংশ ঘটনায় রাজনৈতিক কর্মী ও নেতাদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে। তাই এসব কর্মকাণ্ড থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করতে হবে।’

আদর্শ পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত তিনটি করে গাছ লাগানোর জন্য এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।

কর্মসূচিতে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কফিল উদ্দিন আহাম্মদসহ দলীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: তালাশ বিডি নিউজের সংবাদে তৎপর পুলিশ, বাকেরগঞ্জে জোরদার মাদকবিরোধী অভিযান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনুশীলনে দুই ফুটবলারের হাতাহাতি, তবুও সন্তুষ্ট পানামা কোচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৯ পি.এম


অনুশীলনে দুই ফুটবলারের হাতাহাতি, তবুও সন্তুষ্ট পানামা কোচ

আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পানামা। তবে তাদের শেষ ম্যাচের আগে দলের অনুশীলনে সেসিলিও ওয়াটারম্যান ও হোসে লুইস রদ্রিগেসের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবুও পানামার কোচ থমাস ক্রিস্টিয়ানসেন এটিকে নেতিবাচকভাবে না দেখে বরং ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগে অনুশীলনে উভয়ের মধ্যে একটি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটেছিল। এই সময় ওয়াটারম্যান রদ্রিগেসের বুকে ধাক্কা দেন। পরে পরিস্থিতি আরও যাতে খারাপ না হয়, সেজন্য অন্যান্য খেলোয়াড়রা এসে তাকে থামান।

ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ার পর এটি দ্রুত ভাইরাল হয়। কিন্ত এরপরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং দলটি অনুশীলন অব্যাহত রাখে। যদিও তখনও ওয়াটারম্যান কিছুটা ক্রুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে আগ্রহী ক্রিস্টিয়ানসেন বলেন, এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তিনি আরও জানান, আমি আসলে চাই এ রকম ঘটনা আর কয়েকবার ঘটুক। এটি প্রমাণ করে যে দলটি খুবই প্রাণবন্ত। প্রত্যেকে যথার্থ চেষ্টা করতে প্রস্তুত এবং প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে।

তিনি আরও যোগ করেন, এমন ঘটনা আবার ঘটলে সেটিও ভালো লক্ষণ হবে। এর মানে হল খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান।

চলমান বিশ্বকাপে পানামা প্রথম দুই ম্যাচে পরাজিত হয়ে বিদায় নেবে। তবে ক্রোয়েশিয়া ও ঘানার বিপক্ষে তাদের লড়াকু পারফর্মেন্স প্রশংসনীয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে কেপ ভার্দিয়ানদের আনন্দে গোলাগুলিতে আহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে কেপ ভার্দিয়ানদের আনন্দে গোলাগুলিতে আহত ৪

২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র করে কেপ ভার্ডে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। ঐতিহাসিক এই সাফল্য উপলক্ষে গুরুত্ব সহকারে উদযাপন করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ব্রক্টনে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন শত শত কেপ ভার্ডিয়ান। কিন্তু ওই আনন্দ উৎসব শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়।

স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতের দিকে ব্রক্টনের মেইন স্ট্রিট ও পার্ক স্ট্রিটের সংযোগস্থলে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, কেপ ভার্ডের নকআউট নিশ্চিত হবার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় জড়ো হয়ে উদযাপন শুরু করেন। এক পর্যায়ে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটে যায়।

ব্রক্টন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাতের কিছু আগে তারা একাধিক ফোন কল পেয়েছিল গোলাগুলির তথ্য জানিয়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ চারজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছে। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ এখনো তাদের শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, গোলাগুলির পেছনে কারা ছিলেন এবং কীভাবে এটি ঘটেছিল, তা জানতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্রঃ এনবিসি বোস্টন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে প্রবেশে নতুন নির্দেশনা জারি করল নয়াদিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৭ পি.এম


ভারতে প্রবেশে নতুন নির্দেশনা জারি করল নয়াদিল্লি

আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য নতুন প্রবেশ নির্দেশনা জারি করেছে ভারত। এখন থেকে ভারতে এসে পৌঁছানো সব আন্তর্জাতিক যাত্রীকে, যেকোনো দেশ থেকেই আসুক, ফ্লাইটে ওঠার পূর্বে অনলাইনে স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র পূরণ করতে হবে।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই নতুন নিয়ম ২৫ জুন থেকে কার্যকর হচ্ছে এবং এর আওতায় চালু হচ্ছে স্পর্শহীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এয়ার সুবিধা ২.০। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার দাবিতে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনার ভিত্তিতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ভারতে ভ্রমণকারী সকল আন্তর্জাতিক যাত্রীকে যাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্রটি পূরণ করতে হবে। বিমানবন্দরে অতিরিক্ত বিড়ম্বনা এড়ানোর জন্য ওয়েব চেকইনের সময়ই ফর্মটি পূরণ করার জন্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শ রয়েছে।

এই ঘোষণাপত্রে যাত্রীদের গত ২১ দিনের ভ্রমণ ইতিহাস, ইবোলা আক্রান্ত অঞ্চলে সফরের তথ্য এবং জ্বর, শরীরব্যথা বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ রয়েছে কি না, তা উল্লেখ করতে হবে। ভারতে পৌঁছানোর পর আলাদা কোনো কাগজপত্র পূরণ করার প্রয়োজন নেই। অনলাইনে পূরণকৃত ঘোষণাপত্রটি ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দেখাতে হবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এবং ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে পৌঁছে যাবে।

ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের ভিত্তি বিশ্বের স্বাস্থ্য সংস্থার ১৭ মে দেওয়া সতর্কবাণী, যেখানে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবারের সংক্রমণ ইবোলার বিরল ধরন বুন্দিবুগিও ভাইরাসজনিত কারণে হচ্ছে, যার জন্য এখনও কোনো অনুমোদিত ভ্যাক্সিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

ডিআরসি, উগান্ডা এবং সীমান্তবর্তী দক্ষিণ সুদানসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে ভারতে পৌঁছে যাত্রীদের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দশকে আফ্রিকায় ইবোলা সংক্রমণে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সংস্থাটি এবং আফ্রিকান সিডিস আগামী ছয় মাসের জন্য যৌথভাবে ৫১৮ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লিমিটেড যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কন্টাক্টলেস এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে।

সূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে আবারও হামলা! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি কি ইরানের আরেকটি ভুল হিসাব?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৯ পি.এম


হরমুজে আবারও হামলা! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি কি ইরানের আরেকটি ভুল হিসাব?

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত নতুন করে একটি পুরনো প্রশ্ন সামনে এনেছে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো ধরনের সমঝোতা কি সত্যিই ইরানের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে, নাকি এটি কেবল আরও বড় সংঘাতের আগে সাময়িক বিরতি? যেখানে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার কথা প্রতি মুহূর্তে বদল করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বদল করেন বিশেষ করে ইরানে হামলার পর থেকে পশ্চিমা মিডিয়া তথা তার নিজ দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ায় তার এই কোন কথা স্থির না থাকার বিষয়টি সংখ্যা ধরে হিসেব করে তুলে ধরেছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে এবং বিশ্বের একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বস্ত মিত্র ইসরাইলকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সাথে চুক্তিকে কি ইরান সত্যিই চুক্তি বলে মনে করছে?

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল কর্তৃক ইরানে ভয়াবহ হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—যে, ইরান দীর্ঘ কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুপার পাওয়ার তথা পশ্চিমা পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের বিরুদ্ধে এমন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, যা বিশ্বের কোন রাষ্ট্র আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরাইলের বিরুদ্ধে দেখাতে পারেনি। যা শুধু ইসরাইল নয়, যুক্তরাষ্ট্রকেও নতুন বাস্তবতা বিবেচনা করতে বাধ্য করে।

দীর্ঘ সংঘাত, বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ,  এর ফলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং সামরিক ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি এবং সামরিক সরঞ্জাম ক্রমাগত ফুরিয়ে যাওয়া —সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্য বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ভয়াবহ ছিল অথবা পরিস্থিতি ততটা সহজ ছিল না।

এই বাস্তবতায় ইসরাইলকে সামনে রেখে পরম মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক যে কৌশল দীর্ঘদিন অনুসরণ করা হয়েছে, তা সাময়িকভাবে পরিবর্তিত হয়ে আলোচনার পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডিজিটাল আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী চুক্তির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেটিকে অনেকেই কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখলেও এখানে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের  প্রশ্ন ভিন্ন।

ইরান কি ইতিহাস থেকে যথেষ্ট শিক্ষা নিয়েছে?
যে পশ্চিমা শক্তি তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে ইরানের আঞ্চলিক শক্তিকে সীমিত রাখার দিকে, তাদের ঐতিহাসিক বিপ্লবী সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের দিকে, তাদের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্যে কার্যকর, সেই রাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি কতটা স্থায়ী হতে পারে কিংবা ইরান কোন বিশ্বাসে এই চুক্তি করতে পারে? ইতিহাস কি বলে যে, প্রতিটি চুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে? নাকি বহু ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক প্রয়োজন শেষ হলে চুক্তিও গুরুত্ব হারিয়েছে? আশঙ্কা এখানেই।

যদি এই যুদ্ধবিরতি কেবল সময় সংগ্রহের কৌশল হয়ে থাকে, তবে সেই সময় কে কীভাবে ব্যবহার করবে? ইরান কি নিজেদের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি আরও বাড়াবে? ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য কে বেশি লাভবান হবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আজই হয়তো পাওয়া যাবে না। কিন্তু যুদ্ধবিরতির অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা ও হামলার ঘটনাকে অন্তত সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা মনে হয় অস্বাভাবিক কিছু নয়। যদি ভার্সাই চুক্তি বৃহত্তর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের কৌশলের অংশ হয়ে থাকে, তবে ইরানের নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন করে পরিস্থিতি মূল্যায়নের সময় এসেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে যে শক্তি ইরান প্রদর্শন করেছে, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। যে পরাশক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা একসময় অকল্পনীয় মনে করা হতো, সেই শক্তিকেই দীর্ঘ সংঘাতের পর আলোচনার টেবিলে বসতে হয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা।
কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আলোচনার টেবিলে বসা আর স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কি একই বিষয়? এটি বিশ্বাস করা অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়।
কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা স্থায়ী শত্রু বলে কিছু নেই; আছে কেবল স্থায়ী স্বার্থ। আর সেই স্বার্থের কাছে চুক্তি, প্রতিশ্রুতি কিংবা কূটনৈতিক ভাষা অনেক সময়ই গৌণ হয়ে যায়।

তাই ইরানের সামনে আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যুদ্ধ জয় নয়; বরং প্রতিপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল সঠিকভাবে বোঝা। যদি এই চুক্তিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, তবে সেটি হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ খ্যাত ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত ভুল। আর যদি এটিকে সাময়িক বিরতি ধরে ভবিষ্যতের জন্য সামরিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়, তবে ইতিহাস হয়তো ভিন্নভাবে লেখা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখনো শেষ হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি। বরং যুদ্ধবিরতির আড়ালে নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি চলছে কি না, সেটিই আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ইরানের উচিত অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমানের বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি—সবকিছুকে নতুন করে মূল্যায়ন করা। তা না হলে পারস্য তথা ইরানি জাতি যে কারো কাছে কখনোই মাথা নত করে না- এই কথার যে বাস্তবতা কিংবা হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখার যে সাফল্য সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া যুদ্ধে দেখিয়েছে তা ভবিষ্যতে ধাক্কা খেতে পারে এমন আশঙ্কা করা আজকের দিনে অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%