১০:০৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি পর্যটক বা ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন একটি প্রিমিয়াম ভিসা সেবা চালু করতে যাচ্ছে। আগামী মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার ফি পরিশোধ করলে কিছু আবেদনকারী ১০ কর্মদিবসের মধ্যেই ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় পাবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত একটি অস্থায়ী বিধিমালার মাধ্যমে এই উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত বি১ এবং বি২ ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এটি প্রযোজ্য হবে। পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে।
বর্তমানে বি১ বা বি২ ভিসা আবেদনের জন্য নিয়মিত ফি ১৮৫ ডলার। নতুন প্রিমিয়াম সেবা নিতে চাইলে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিতে হবে। ফলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৯৩৫ ডলার।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ আনতে বাংলাদেশের ৮০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা
মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই অতিরিক্ত অর্থ শুধুমাত্র দ্রুত সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়ার সুযোগ দেবে। এটি কোনোভাবেই ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনা বাড়াবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মতে, অনেক দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য আবেদনকারীদের কয়েক মাস, এমনকি কোথাও কোথাও এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ফি দিলে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময় পাবেন, যদি নির্ধারিত স্লট খালি থাকে।
তবে এই সুবিধা সব দূতাবাসে পাওয়া যাবে না। সীমিত সংখ্যক নির্বাচিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে এটি চালু হবে। অংশগ্রহণকারী মিশনগুলোর তালিকা পরে প্রকাশ করা হবে।
আরও পড়ুন: চীনের বাজার হারানোর ভয়ে নতজানু লা লিগা ও রিয়াল মাদ্রিদ
মার্কিন সরকার বলছে, আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে ২০২৬ সালের ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ এবং ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমস-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হবে এবং ২০২৮ সালের অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে। কর্মকর্তাদের মতে, এই পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত সাক্ষাৎকার সেবার চাহিদা মূল্যায়ন করা হবে এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে এমন সেবা চালুর সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ধারণা, এই কর্মসূচির আওতায় বছরে ২৫ হাজারের বেশি আবেদনকারী অংশ নিতে পারেন। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে এবং দ্রুত সাক্ষাৎকার সেবার প্রতি ভ্রমণকারীদের আগ্রহ সম্পর্কেও সরকার স্পষ্ট ধারণা পাবে।
নতুন প্রিমিয়াম সেবা শুধুমাত্র বি১ এবং বি২ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে, যা ব্যবসা ও পর্যটন উদ্দেশ্যে অস্থায়ী সফরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে যেসব দেশের নাগরিকরা ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রাম-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি সফরে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন, তারা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন না।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সল আমীনকে নির্বাচিত ঘোষণা, গেজেট প্রকাশ
অতিরিক্ত ফি দিলেও আবেদনকারীদের জন্য নিরাপত্তা যাচাই, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং ভিসা যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসবে না। সাক্ষাৎকারের পর যদি অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটিও স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।
নতুন এই উদ্যোগ এমন সময়ে আসছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করছে। সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিসা আবেদনকারীদের ওপর বাড়তি নজরদারি, বিস্তৃত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার হার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে প্রবেশের আগে আর্থিক জামানত (বন্ড) জমা দেওয়ার প্রস্তাব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন