ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি, ৩০০ কোটি ডলার জব্দ


৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি, ৩০০ কোটি ডলার জব্দ

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন প্ল্যাটফর্ম বিন্যান্সে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের তহবিল চুরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটি এক নিরাপত্তাজনিত ঘটনার কথা জানিয়ে বলেছে, প্রাথমিক তদন্তে হ্যাকিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

ঘটনার পর বিন্যান্সে অর্থ জমা ও উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। তবে ব্যবহারকারীদের অর্থ নিরাপদ রয়েছে এবং চুরির ঘটনায় হওয়া সব ক্ষতি প্রতিষ্ঠানটি নিজেই বহন করবে।

বিন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হ্যাকার অননুমোদিত লেনদেন সম্পন্ন করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ল্যাপটপটি আগে থেকেই হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

আরও পড়ুন: ‘যৌন হয়রানি, ধর্মান্তরের চাপ’: আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টানরা

আল–জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিন্যান্স বলেছে, ‘সমস্যাটি নিরাপদে ও পুরোপুরি সমাধানের জন্য আমাদের দল দিনরাত কাজ করছে।’ প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, অপরাধীদের পরিচয় শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চলছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএমের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটারের হাত থাকার বিষয়ে তাদের ‘উচ্চমাত্রার আস্থা’ রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, অনলাইন ও অফলাইন—দুই ধরনের শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ মূল্যায়নে পৌঁছেছে।

বিন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সবচেয়ে বড় শেয়ারধারী চ্যাংপেং ঝাওও এর আগে প্রতিষ্ঠানটিতে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি এখন আর বিন্যান্সের কার্যক্রম পরিচালনা করি না। তবে একজন শেয়ারধারী হিসেবে আশা করি, ব্যবহারকারীদের সব অর্থের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’ ২০২৩ সালে প্রধান নির্বাহীর পদ ছাড়ার পর থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে নেই।

এই ঘটনার পর বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। একপর্যায়ে এর দাম ৭৭ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী দম্পতির ১০ বছরের কারাদণ্ড

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ম্যাককুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ শন ফোলি আল–জাজিরাকে বলেন, বিন্যান্স বিশ্বের বৃহত্তম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। এতে ক্রিপ্টো সম্পদের দাম কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ফোলির মতে, এই হামলা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তাঝুঁকিও সামনে এনেছে। এর ফলে আরও বেশি লেনদেনকারী বিকেন্দ্রীভূত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে আগ্রহী হতে পারেন। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত কোনো বিনিময় প্ল্যাটফর্মে রাখা সম্পদের নিরাপত্তা নির্ভর করে ওই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর। আর কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে যত বেশি সম্পদ থাকবে, সেটি হ্যাকারদের কাছে তত বড় লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবে।’

এই চুরির পরিমাণ আগের সব ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হ্যাকার গোষ্ঠী লাজারাস গ্রুপ প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি করেছিল।

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএমের তৈরি ২০২৬ সালের ক্রিপ্টো অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ১৫০টি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় সাইবার অপরাধীরা মোট ২৮৭ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি করে।

আরও পড়ুন: মক্কায় ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করল হুথিরা

২০১৭ সালে চীনে চ্যাংপেং ঝাওয়ের হাত ধরে বিন্যান্সের যাত্রা শুরু হয়। কয়েনমার্কেটক্যাপের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের সম্পদ রয়েছে। অন্য যেকোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্মের তুলনায় এই পরিমাণ বেশি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাহাজভাড়া বাড়ল ৭০০ টাকা, দিতে হবে নতুন ‘পরিবেশ ফি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩১ এম


জাহাজভাড়া বাড়ল ৭০০ টাকা, দিতে হবে নতুন ‘পরিবেশ ফি’

দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি ও জনপ্রতি ১০০ টাকা ‘পরিবেশ ফি’ আরোপ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর জাহাজভাড়া ৭০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ ৪,২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পর্যটকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের নামে আদায় করা ১০০ টাকার ফি কতটা যৌক্তিক এবং এর অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অন্যদিকে, জাহাজ পরিচালনার ব্যয় বিবেচনা না করে শুধু ভাড়ার অঙ্ক দেখে সমালোচনা করা ঠিক নয় বলে দাবি করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীদের নেতা আকতার নুর। তিনি বলেন, ডকিং, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, লাইসেন্স, অনুমতি ও রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়।

ভাড়া বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক পর্যটক দাবি করছেন, বাড়তি ভাড়া তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে জাহাজ পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের অভিযোগও তুলছেন কেউ কেউ।

গণমাধ্যমকর্মী শামসুল আলম শ্রাবণ ‘পরিবেশ ফি’ নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, ‘চাঁদাবাজির নতুন নাম পরিবেশ সংরক্ষণ ফি। সেন্টমার্টিনে যেতে হলে পর্যটককে জনপ্রতি ১০০ টাকা দিতে হবে। কী তামাশা শুরু করল এরা?’

ছাত্রদল নেতা সাহাব উদ্দিন বলেন, গত বছর জাহাজভাড়া ছিল ৩,৫০০ টাকা, এবার তা বেড়ে হয়েছে ৪,২০০ টাকা। তার অভিযোগ, জাহাজ সিন্ডিকেটই কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। তবে জাহাজ পরিচালনাকারীদের মধ্যে যোগসাজশ বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভাড়া বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পরিচালন ব্যয়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সমালোচনার জবাবে আকতার নুর বলেন, জাহাজের ডকিং বাবদ ১০ লাখ নয়, কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়। এছাড়া ১২ মাসের ভাড়া ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদই প্রায় চার কোটি টাকা খরচ করতে হয়।

তিনি জানান, ডকিং ও বেতনের বাইরে রক্ষণাবেক্ষণ, অফিস পরিচালনা, এজেন্ট কমিশন, ভয়েজ লাইসেন্স, বিআইডব্লিউটিএর নৌপথ সংরক্ষণ ফি, এমএমডির সার্ভে সনদ, জেলা প্রশাসনের অনুমতি এবং একাধিক অফিস পরিচালনায়ও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়।

আকতার নুরের দাবি, সব খাতের ব্যয় যোগ করলে মোট অর্থের পরিমাণ এতটাই বেশি যে, সেই অর্থ দিয়ে একটি ছোট আকারের লঞ্চ কেনা সম্ভব। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কিছু নতুন সাংবাদিক প্রবাদটি ভুলে গেছেন—আদার ব্যাপারী জাহাজের খোঁজ নিচ্ছে তাই।’

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাহাজ পরিচালনাকারীদের ব্যয়ের এ দাবির বিষয়ে বিস্তারিত আর্থিক নথি প্রকাশ করা হলে ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে জাহাজের ধারণক্ষমতা, আসনপ্রতি ভাড়া, মৌসুমভিত্তিক যাত্রীসংখ্যা এবং পরিচালন ব্যয়ের তুলনামূলক হিসাব পর্যালোচনা করে ভাড়ার যৌক্তিকতা যাচাই করা সম্ভব। এ বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও খতিয়ে দেখতে পারে।

পরিবেশ ফি নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি

সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দ্বিমত না থাকলেও জনপ্রতি ১০০ টাকা ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ফি’ আদায়ে সরকারি ভিত্তি, অর্থ নির্ধারণের পদ্ধতি এবং সংগৃহীত অর্থ কোথায় ব্যয় হবে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন সমালোচকরা।

তাদের বক্তব্য, পরিবেশ রক্ষার নামে অর্থ আদায় করা হলে সেই অর্থের ব্যবহার, বাস্তবায়িত সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং এর ফলাফল সম্পর্কে জনসাধারণকে স্পষ্ট তথ্য জানাতে হবে। একই সঙ্গে অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সমালোচকদের মতে, পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ যেন পর্যটকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ কারণে ফি আদায়ের যৌক্তিকতা ও বাস্তব প্রভাব মূল্যায়নের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

তবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই মনে করেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটনশিল্পের বিকাশ—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই একদিকে জাহাজ পরিচালনাকারীদের প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব যাচাই, অন্যদিকে ভাড়া ও ফি নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সেন্টমার্টিনের জন্য অপেক্ষা বাড়ছে

এদিকে ১ নভেম্বরের থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও নির্ধারিত দিন থেকেই পর্যটকরা সেখানে যেতে পারছেন না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরো কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ফলে দ্বীপে ভ্রমণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া পর্যটকদের জাহাজ চলাচল শুরুর অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং জেলা প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না মেলায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললে আগামী ৪ অথবা ৫ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে এসব তথ্য জানা যায়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালের সাক্ষী চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেওপুরা গ্রামের সেই দৃষ্টিনন্দন মাটির দোতলা বাড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


কালের সাক্ষী চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেওপুরা গ্রামের সেই দৃষ্টিনন্দন মাটির দোতলা বাড়ি

 

আধুনিকতার ছোঁয়া ও ইটের কংক্রিতের দালানকোঠার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ বাংলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর। তবে এর মাঝেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের দেওপুরা গ্রামে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন ও ঐতিহ্যবাহী মাটির দোতলা বাড়ি। কালের সাক্ষী হয়ে টিকে থাকা এই বাড়িটি দেখতে এবং এর গ্রামীণ স্থাপত্যশৈলী উপভোগ করতে কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমান।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির বাড়ি বলতেই একতলা বা সাধারণ কুঁড়েঘরের কথা মাথায় আসে। কিন্তু দেওপুরা গ্রামের এই বাড়িটি দুই তলা বিশিষ্ট হওয়ায় এটি এলাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ঐতিহ্যবাহী এই দোতলা মাটির বাড়ির ছাদ টিনের তৈরি এবং এর দেওয়ালগুলো বেশ চওড়া ও মজবুত মাটি দিয়ে সুনিপুণভাবে তৈরি করা হয়েছে। বাড়ির সামনে মাথা বাড়িয়ে থাকা সবুজ গাছপালা এবং গ্রামীণ মেঠো পথের পাশেই এর অবস্থান বাড়িটির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, মাটির তৈরি এসব ঘরের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—এগুলো গরমে ঠান্ডা এবং শীতে বেশ উষ্ণ থাকে। আধুনিক আধুনিকতার যুগে যেখানে ইট-সিমেন্টের দালানে এসসি বা ফ্যানের বাতাস ছাড়া টেকা দায়, সেখানে এই মাটির ঘরগুলোতে প্রকৃতির সঙ্গেই এক ধরনের আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় থাকে।

আধুনিকতার স্পর্শে ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গ্রামীণ এই অমূল্য সম্পদগুলো আজ বিলুপ্তির পথে। দেওপুরা গ্রামের এই পুরনো ঐতিহ্যবাহী মাটির দোতলা বাড়িটি আমাদের গ্রামীণ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আবহমান বাংলার সোনালী অতীতের স্মৃতি বহন করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলো টিকিয়ে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ ইতিহাস তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছুটির দিনেও ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, বায়ুমান স্কোর ১৬১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৮ এম


ছুটির দিনেও ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, বায়ুমান স্কোর ১৬১

জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে, আজ ছুটির দিনেও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। ঢাকার বায়ুমান স্কোর ১৬১। এই স্কোর নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এই তথ্য প্রাপ্ত হয়েছে।

আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, এদিন বিশ্বের বায়ুদূষণ শহরগুলোর তালিকার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরবের রিয়াদ, যার বায়ুমান স্কোর ২১৬। এই মান নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তানের লাহোর রয়েছে, যার স্কোর ১৭০। তৃতীয় স্থানে ভারতের মুম্বাই ১৬৫ স্কোর নিয়ে এবং চতুর্থ স্থানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ১৬২ স্কোর নিয়ে অবস্থান করছে। পঞ্চম স্থানে থাকা ঢাকার স্কোর ১৬১।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ হিসেবে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে সেটি ‘মাঝারি বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে সেটি ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো, বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণ সাইটের ধুলা।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সভাপতি ইয়াহিয়া মির্জা, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম: প্র্যাবের নতুন কমিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


সভাপতি ইয়াহিয়া মির্জা, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম: প্র্যাবের নতুন কমিটি

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এক প্রীতি সম্মেলনে প্র্যাবের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান টিপু নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করেন।

দেশের ব্যাংকগুলোর জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তাদের সংগঠন পাবলিক রিলেশনস অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (প্র্যাব) নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইয়াহিয়া মির্জা। তিনি বর্তমানে সিটি ব্যাংক পিএলসির হেড অব পিআর অ্যান্ড মিডিয়া হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম।

নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করার সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্র্যাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আতাউর রহমান, সদ্যবিদায়ী সভাপতি শামসুদ্দোহা শিমু এবং সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ স্বপনসহ সংগঠনটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।

২০১১ সালে দেশের ব্যাংকগুলোর ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্র্যাব যাত্রা শুরু করে। সাধারণত ৩৩ সদস্যের একটি কার্যনির্বাহী কমিটির মাধ্যমে সংগঠনটি পরিচালিত হয়, যা প্রতি দুই বছর পর পর গঠন করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জনসংযোগ ও ব্র্যান্ডিং প্রধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ জনসংযোগ কর্মকর্তারা এ কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে মনিরুজ্জামান টিপু বলেন, ‘আগামী নভেম্বরে বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) মাধ্যমে ৩৩ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে।’

প্রীতি সম্মেলনে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ বিভাগে কর্মরত দুই শতাধিক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%