০৯:০২ পি.এম
রাজধানীর দক্ষিণখানের তুরাগ নদীতে মো. লোকমান সরদার (৩৮) নামের একজন উবার চালকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হওয়ার ঘটনার রহস্যটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) উদঘাটন করেছে।
মূলত, প্রাইভেট কার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে ওই চালককে ডেকে আনা হয় একটি অপরাধী চক্রের মাধ্যমে, যার নেতৃত্বে ছিলেন একজন চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য।
এই ঘটনায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর মূল আসামি সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের নাম হলো—চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. এস এম সালমান (২৯), মো. আদিব ইসলাম (১৯), জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ওরফে আর্নবা মীম (২১) এবং মো. সবুজ মিয়া (৩৫)। তাদের মধ্যে সালমান ও আদিবকে কক্সবাজার সদর থেকে, মীমকে ঢাকা খিলক্ষেত থেকে এবং সবুজ মিয়াকে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে চীনের নিয়ন্ত্রণে ভারতের 'অসহায়ত্ব', মোদি সরকার ব্যাকফুটে
এই ঘটনায় ছিনতাই হওয়া প্রাইভেট কারটি গাজীপুরের গাছা এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী সালমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন সংস্থাটির অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।
তিনি জানান, গত ১ জুন উত্তরার দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে জানা যায় তার নাম লোকমান সরদার, যিনি পেশায় উবার চালক। তাকে টঙ্গীর পাখির বাজার এলাকায় হত্যা করার পর লাশটি তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একটি হানিট্র্যাপ চক্র জড়িত রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, গত ২৬ মে রাতে এই চক্রটি পাখির বাজার বস্তি এলাকায় মাদকসেবন করে। ভোরে তারা একটি উবার ডাকে এবং সালমান ও মীমসহ তিনজন লেকসিটির কনকর্ড টাওয়ার এলাকায় চলে যান। সেখান থেকে মীম গাড়িটি ২ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে সাভারের উদ্দেশ্যে যান। ফিরে আসার পর তারা সেই গাড়িটি ছিনতাই করার পরিকল্পনা করে।
আরও পড়ুন: মাদরাসা শিক্ষকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আহমাদুল্লাহর সমালোচনা ও সতর্কতা
তিনি আরও জানান, চক্রটি ৩০ মে মধ্যরাতে মীমকে দিয়ে লোকমানকে ফোন করায় এবং হানিট্র্যাপে ফেলে টঙ্গীর পাখির বাজার এলাকায় ডেকে আনে। লোকমান সেখানে আসার সঙ্গে সঙ্গে চক্রের সদস্যরা তাকে ধরে মারধর শুরু করে। তারা মিথ্যা অভিযোগ তোলে যে—সাভার যাওয়ার দিন মীম এর কাছ থেকে লোকমান ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং দুই ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়েছে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে লোকমান বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেন। তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকাও চক্রটি নিয়ে নেয়। এরপরও মারধরের ঘটনায় লোকমান মারা যান এবং পরে মরদেহটি বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
চক্রের হোতা সালমান সম্পর্কে পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত এস এম সালমান একসময় সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। তবে বিভিন্ন অপকর্মের কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপরই সে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। মীম ও সালমান নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিতেন, যদিও বাস্তবে তারা স্বামী-স্ত্রী নন।
অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, সালমানের নেতৃত্বে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলাও হয়েছে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন