বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৪ পি.এম
রিয়াল মাদ্রিদে কিলিয়ান এমবাপ্পের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। কিন্তু দুই বছরের মধ্যেই সেই স্বপ্নের আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে।
এখন এমবাপ্পের মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে তার আচরণ, চোটের সময়ে জীবনযাপন এবং কোচ জোসে মরিনহোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েই আলোচনা বেশি হচ্ছে। এমনকি আগামী মৌসুমে এমবাপ্পে রিয়ালে থাকবেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ ও আরএমসি স্পোর্টের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুম শেষে এমবাপ্পের রিয়াল ছাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এমবাপ্পে ক্লাব ছাড়তে চান বা রিয়াল তাকে বিক্রি করতে চায়—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সমস্যার সূত্রপাত মূলত চোটের সময় এমবাপ্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে। সম্প্রতি বাঁ হাঁটুর চোটে ফ্রান্সের দল থেকে বাদ পড়ার পর তাকে প্রেমিকার সঙ্গে প্যারিসের একটি নাইটক্লাবে দেখা যায়। এর পর সুইজারল্যান্ডে সাইকেল চালানোর ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। এতে রিয়ালের অস্বস্তি আরো বেড়ে গেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
কোচ মরিনহোর অবস্থানও কঠোর। গত মাসে তিনি বলেছিলেন, “আপনি ২৪ ঘণ্টাই একজন ফুটবলার। আপনি কী খান, কী পান করেন, কীভাবে ঘুমান—সবকিছুই আপনার পেশার অংশ। আপনি স্কি করতে পারবেন না, সাইকেলও চালাতে পারবেন না।”
মরিনহো আরো সতর্ক করে বলেছিলেন, “সাইকেল থেকে পড়ে গেলে হয়তো তিনটি ম্যাচ খেলতে পারবেন না, কিংবা আরো খারাপ কিছু হতে পারে। ফুটবলার হতে গেলে অনেক কিছুই আপনাকে ছাড়তে হবে।”
সব মিলিয়ে রিয়ালের ড্রেসিংরুমের অস্বস্তির সঙ্গে এমবাপ্পেকে ঘিরে নতুন বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। তবে চোট কাটিয়ে তিনি অনুশীলনে ফিরেছেন এবং লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে শনিবারের ম্যাচে খেলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আটজন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তদন্ত কর্মকর্তা শাহআলী থানার উপপরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ প্রদান করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ডে থাকা আসামিরা হলেন— মো. শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, মো. শাহ আলম, মো. আতিকুর রহমান, মো. কামরুল ইসলাম, মো. নুর আলম, মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ ওরফে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন মিশু।
এদিন আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এখন পর্যন্ত এ মামলায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ ওরফে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, শাহ আলম, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম, সোহেল ও শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর মিলন ও মিন্টুকে, ৩০ সেপ্টেম্বর শহিদুল ইসলামকে, ১ অক্টোবর সাইফুল ইসলাম ও আলমকে এবং ২ অক্টোবর নুর আলমকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে শাহআলী থানা এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলাকারীরা হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখে। পরে হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে তারা ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের একটি সেমিপাকা ঘর, পরিবার পরিকল্পনা সেবার আরেকটি সেমিপাকা ঘর এবং ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের সেমিপাকা ঘর ভাঙচুর করা হয়। এসব কক্ষে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতিও ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ভাঙচুরের পর প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে সেখানে সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে তারা চলে যায়। এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর শাহআলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়া নামে একজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের আন্ত কলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগের ৩৩টি কলেজ থেকে জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান ও স্বর্ণপদক পাওয়া ১ হাজার ১২৬ জন শিক্ষার্থী-অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করছেন। তাদের মধ্যে ৭৮২ জন ছাত্র এবং ৩৪৪ জন ছাত্রী রয়েছেন।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে খুলনার সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজের মাঠে বেলুন উড়িয়ে করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তর কর্তৃক আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসসহ মোট ৬৬টি ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রধান অতিথি রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, "গতানুগতিক শিক্ষা ও কার্যক্রম দিয়ে বর্তমান বিশ্বে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।" তিনি উল্লেখ করেন, "বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।" তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালুর উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, "কর্মমুখী ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে নিজেদের জায়গা করে নেবে এবং দেশকে এগিয়ে নেবে।" তিনি বলেন, "দেশব্যাপী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার এই আয়োজন সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।"
হুইপ বলেন, "শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি উল্লেখ করেন, "খেলাধুলা শুধু শরীর সুস্থ রাখে না, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করে।" তিনি বলেন, "মাঠে নিয়ম মেনে খেলা এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান করার অভ্যাস জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও একজন তরুণকে দায়িত্বশীল করে তোলে।" বর্তমান সময়ে তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখার কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, "শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে তাদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়।" তিনি বলেন, "খেলাধুলা একজন শিক্ষার্থীকে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, দলগতভাবে কাজ করা এবং জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার শিক্ষা দেয়।" তিনি আরও বলেন, "এছাড়া নেতৃত্ব দেওয়ার আত্মবিশ্বাসও তৈরি করে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।" ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আনন্দের সঙ্গে শেখার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।
এদিকে, উদ্বোধন উপলক্ষে সকাল থেকেই সরকারি বিএল কলেজ মাঠে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী-অ্যাথলেট, শিক্ষক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। প্রতিযোগীদের মধ্যে ছিল নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয়, আর দর্শকদের মধ্যে ছিল খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়ার উচ্ছ্বাস। তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা আগামী ১০ অক্টোবর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। বিভিন্ন ইভেন্টে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক পাওয়া শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মেয়েদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের নারীরা জাতীয় পর্যায়ের গণ্ডি অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এটাই তাঁর প্রত্যাশা। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা আবশ্যক।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর লালমাটিয়া গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, মেয়েদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে হবে। দাবা, ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, ক্রিকেটসহ শিক্ষার্থীদের আগ্রহের প্রতিটি খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। শুধু জাতীয় পর্যায় নয়, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও বাংলাদেশের মেয়েরা অংশগ্রহণ করবে এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে—এটাই লক্ষ্য।
শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে মাঠ, প্রশিক্ষণ, কোচিং কিংবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি থাকলে তা কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে তাঁর পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও তিনি প্রদান করেন।
তিনি বলেন, নারী শিক্ষার্থীরা দেশের গর্ব। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দায়িত্ব আরও শক্তভাবে গ্রহণের জন্য তাদের প্রস্তুত করতে হবে। শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি—সব ক্ষেত্রেই তাদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও মানোন্নয়নে সরকারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও ইতিবাচক সহযোগিতা প্রয়োজন। ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে লালমাটিয়া গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজকে আরও মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলায় সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনে আমন্ত্রণ জানালে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
লালমাটিয়া গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি রুনা লায়লা রুনা। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বাইরের নারী উদ্যোক্তাদের উন্নতির লক্ষ্যে এসএসএলকমার্সের সহযোগিতায় পরিচালিত সর্বাত্মক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম জেডকমার্স এবং রাজশাহী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি আঞ্চলিক নারী উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল ব্যবধান কমানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জেডকমার্স সম্প্রতি নাটোর উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাথে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের ৩০০ সদস্যকে প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেছে। জেডকমার্স এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মালিকরা কোডিং বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়াই সম্পূর্ণ কার্যকর অনলাইন স্টোর তৈরি ও পরিচালনা করতে সক্ষম হন।
প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা পণ্যের তালিকা প্রদর্শন, অর্ডার ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, নিজস্ব স্টোরের লিংক শেয়ার এবং এসএসএলকমার্সের বিশ্বস্ত পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে নিরাপদ ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন। এর মূল সুবিধাগুলি তিনটি—কোনো কোডিং ছাড়াই কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যক্তিগতকৃত ই-কমার্স ওয়েবসাইট চালু করার সুবিধা; দেশের বিশ্বস্ত পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ও নিরাপদ লেনদেনের সমন্বিত ব্যবস্থা; এবং একটি ড্যাশবোর্ড থেকেই পণ্যের মজুত, অর্ডারের অবস্থা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের জন্য সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা সুবিধা।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে রাজশাহী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রাতিষ্ঠানিক পরিসর এবং এসএসএল কমার্সের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে একত্রিত করে চেম্বারের ৪০০ সদস্যকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। রাজশাহী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই সহযোগিতা সদস্যদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এর ফলে উদ্যোক্তারা পেশাদার ডিজিটাল স্টোর ও সহজ ব্যবস্থাপনা সরঞ্জাম পাবেন, যা স্থানীয় ব্যবসা থেকে ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং স্থানীয় নারী ব্যবসায়ীদের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।
বাংলাদেশের ডিজিটাল বাণিজ্যিক পরিবেশ দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ৩ লাখেরও বেশি ফেসবুকভিত্তিক ও অনলাইন ব্যবসা সক্রিয় রয়েছে। এর আনুমানিক ৫০ শতাংশ নারীদের দ্বারা পরিচালিত অথবা নারীদের যৌথ মালিকানাধীন। শহর ও জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে নারী উদ্যোক্তারা কাঠামোগত ও সরবরাহসংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নিজেদের উদ্যোগে এগিয়ে যাচ্ছেন, জীবিকা গড়ে তুলছেন এবং নিজেদের সম্প্রদায়ের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
উদ্যোগটি সম্পর্কে এসএসএলকমার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাইয়ান এস. ইসলাম বলেন, "দেশের বৃহত্তম অনলাইন পেমেন্ট সক্ষমতাদাতা হিসেবে ডিজিটালভাবে দক্ষ, লেনদেনে স্বাধীন এবং ভবিষ্যৎমুখী বাংলাদেশ গঠনে আমাদের ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রমাণিত সক্ষমতা এবং আধুনিক উদ্ভাবনকে আমরা জেডকমার্সের মতো ব্যবসাবান্ধব সমাধানে রূপ দিয়েছি। এই যাত্রায় রাজশাহী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে অংশীদার হিসেবে যুক্ত করতে পেরে আমরা আনন্দিত।"
রাজশাহী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রোজেটি নাজনীন বলেন, "আমাদের সদস্যদের জন্য এটি একটি পরিবর্তনের সূচনা। আমাদের অনেক নারী উদ্যোক্তা শুধুমাত্র নিজেদের দৃঢ়তা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে ব্যবসা গড়ে তুলেছেন, কিন্তু নিজেদের তাৎক্ষণিক বাজারের বাইরে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সরঞ্জাম তাদের ছিল না। জেডকমার্সের মাধ্যমে তারা একটি পেশাদার স্টোর, নিরাপদ পেমেন্ট এবং সারাদেশে বিক্রি করার আত্মবিশ্বাস পাবেন। রাজশাহীর নারীদের জন্য এই সুযোগ নিয়ে আসতে পেরে আমরা গর্বিত।"
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পরপরই চেম্বারের সদস্যদের জন্য একটি নিবিড় ডিজিটাল ব্যবসা সক্ষমতা বৃদ্ধির সেশন আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় ধাপে ধাপে অনলাইন স্টোর তৈরি, পণ্যের তালিকা উন্নয়ন, অর্ডার অনুসরণ, স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইনে বিক্রির নিরাপত্তা এবং ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে প্রচার ও গ্রাহক সম্পৃক্ততা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
অংশগ্রহণকারীরা জেডকমার্স প্ল্যাটফর্মের সরাসরি প্রদর্শনী দেখেন এবং অনুষ্ঠানস্থল থেকেই বিক্রি শুরু করার জন্য একান্তভাবে যুক্ত হওয়ার সহায়তা পান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ