বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৪:৫১ পি.এম
খাগড়াছড়িতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
কর্মশালায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষার বর্তমান অবস্থা, সংরক্ষণ, চর্চা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, ভাষার সঙ্গে জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। তাই গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ভাষা চর্চায় উৎসাহিত করা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে ফুচকা এবং চটপটি তৈরির দায়ে এক কারখানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়া শহরের মালতিনগর এলাকায় অবস্থিত ভাই বোন ফুচকার কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা যায়, ফুচকা তৈরির টেবিলের পাশেই পাতা ইঁদুর ধরার ফাঁদ। তার ঠিক মাথার ওপর কবুতরের খাঁচা। সেই খাঁচা থেকে কবুতরের বিষ্ঠা ও পাখনার ময়লা এসে পড়ছে প্রস্তুতকৃত খাবারে। চকচকে এসি আউটলেটের আড়ালে জনপ্রিয় ভাই বোন ফুচকার কারখানায় দেখা মিলেছে এমন ভয়াবহ নোংরা চিত্র। শহরে ভাই বোন ফুচকার আকর্ষণীয় আউটলেট থাকলেও মূল কারখানার পরিবেশ চরম অস্বাস্থ্যকর। খাবারে ইঁদুর ও কবুতরের বিষ্ঠার উপস্থিতির পাশাপাশি অভিযানে ফুটন্ত গরম টক ফুড-গ্রেডবিহীন প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা এবং বেশ কয়েক দিন আগের সেদ্ধ করা পচা ডিম পাওয়ার প্রমাণ মেলে। এছাড়া চটপটি ও ফুচকা তৈরিতে ব্যবহৃত গাজর ও শসার বড় একটি অংশই ছিল পচা ও মানহীন।
অভিযান পরিচালনা করেন বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহজালাল। তিনি জানান, বাইরের চাকচিক্যের পেছনে কারখানার ভেতরের পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর। ইঁদুরের উপদ্রব, কবুতরের বিষ্ঠা ও পচা কাঁচামাল দিয়ে খাবার তৈরির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল স্বীকার করে পরিবেশ উন্নত করার জন্য ১২ দিনের সময় চেয়েছে। এই ১২ দিন কারখানাটির সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনের পর সন্তোষজনক পরিবেশ পেলে পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হবে।
বগুড়া জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. রাসেল জানান, নিয়মিত ভেজালবিরোধী মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে বিরল ম্যালেরিয়া সংক্রমণের ঘটনায় দুই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মশাবাহিত এই গুরুতর রোগে বিমানবন্দরের মোট ছয় কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, আক্রান্তদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানো মশাগুলো কোনো একটি বিমানের মাধ্যমে জার্মানির সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দরে এসে থাকতে পারে। জুলাইয়ে প্রথম এই সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রাপোর্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংক্রমণের কারণে একজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। পরে বুধবার ফ্রাঙ্কফুর্টের জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে মোট দু’জন মারা গেছেন।
ঘটনার পর বিমানবন্দরজুড়ে মশা ধরার জন্য বিশেষ ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। এসব ফাঁদে ধরা পড়া মশাগুলো পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে তাদের প্রজাতি ও কোথা থেকে এসেছে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ফ্রাপোর্টের মুখপাত্র বলেন, বিমানবন্দরের সব কর্মীকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। কারও মধ্যে ম্যালেরিয়ার কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্যও কর্মীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ছয় কর্মীর শরীরে সংক্রমণ
ফ্রাঙ্কফুর্টের জনস্বাস্থ্য বিভাগ ঘটনাটি তদন্ত করছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় ও ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্বে কর্মরত ছয়জন পুরুষ কর্মী ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ এখন রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করে জানার চেষ্টা করছে, আক্রান্ত ব্যক্তিরা একই মশার কামড়ে সংক্রমিত হয়েছেন, নাকি একাধিক মশা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
বুধবার পরে ফ্রাঙ্কফুর্টের জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে পাঠানো এক চিঠিতে দুই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে নগরীর সাধারণ মানুষের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে বলা হয়, ম্যালেরিয়া সাধারণভাবে একজন মানুষ থেকে আরেকজনের শরীরে সরাসরি ছড়ায় না; মশার কামড়ের মাধ্যমেই রোগটি সংক্রমিত হয়।
আক্রান্তদের সংক্রমণের উৎস নির্ধারণে পরীক্ষাগারের ফল পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য বিভাগ।
বিমানে মশা আসার আশঙ্কা
জুলাইয়ে প্রথম এই সংক্রমণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সে সময় চারজন বিমানবন্দর কর্মী ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
জার্মানির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক ফেডারেল সংস্থা রবার্ট কোখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) জানিয়েছিল, আক্রান্ত চার কর্মী ৪ থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের সংক্রমণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিমানের মাধ্যমে মশা জার্মানিতে আসার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।
আরকেআইয়ের তথ্যানুযায়ী, জার্মানিতে ম্যালেরিয়ার অধিকাংশ ঘটনা দীর্ঘপথের আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মধ্যে দেখা যায়। সাধারণত তারা ম্যালেরিয়াপ্রবণ দেশ থেকে সংক্রমিত হয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু জার্মানির কোনও বিমানবন্দরের ভেতরেই মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া সংক্রমিত হওয়া অত্যন্ত বিরল।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে, আক্রান্ত ব্যক্তির বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস না থাকলে শুরুতে চিকিৎসকেরা ম্যালেরিয়া শনাক্ত করতে দেরি করতে পারেন। আর রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হলে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আরকেআই জানিয়েছে, জার্মানিতে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সর্বশেষ ম্যালেরিয়া সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল ২০২৩ সালে, সেটিও ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরেই।
কীভাবে ছড়ায় ম্যালেরিয়া?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যানুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্রবেশ করে। পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট এই রোগ প্রধানত বিশ্বের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
ম্যালেরিয়া প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য রোগ হলেও এর উপসর্গ কখনও হালকা, আবার কখনও প্রাণঘাতী হতে পারে। জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগটি জীবনহানির কারণও হতে পারে।
ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের ঝুঁকি খুব কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সংক্রমণের উৎস ও মশার প্রজাতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে নজরদারি ও নমুনা পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে।
কর্তৃপক্ষ এখন মূলত দুটি বিষয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে—আক্রান্ত কর্মীদের শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু কীভাবে পৌঁছাল এবং কোনও নির্দিষ্ট মশা বা মশার একটি দল বিমানবন্দরের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কি না। পরীক্ষাগারের ফল হাতে পাওয়ার পরই এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান এবং এএসপি (প্রবেশনার) মনিরুজ্জামান মাসুদ।
এ সময় গোপালপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই (নিঃ) চন্দন কুমার পাল, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান, সহকারী শিক্ষক এনামুল হক হিমেল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত এবং থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্য, শিক্ষক ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তারা মাদক নির্মূলে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুলিশ এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মাদকবিরোধী র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি গোপালপুরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে গোপালপুর থানা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২৮৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। মর্মান্তিক এই বিপর্যয়ে বিদেশি নাগরিক ও তীর্থযাত্রীসহ ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলো থেকে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন শত শত মানুষ।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে কাঠমান্ডু পোস্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুর্ঘটনাকবলিত দুর্গম পার্বত্য এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন উদ্ধারকারীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ও ড্রোনে ধারণ করা চিত্রে দেখা যায়, জীবন বাঁচাতে মানুষের আকুল আত্মচিৎকার ও জীবনপণ দৌড়ঝাঁপ। চোখের পলকে কাদা ও পানির তোড়ে ভেসে যাচ্ছে মানুষ, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে ঘরবাড়ি ও পাকা সেতু। নুয়াকোটের একাধিক ভবনের দোতলা পর্যন্ত কাদার পুরু আস্তরণে ঢেকে গেছে। গাছের ডালপালা ও বিদ্যুতের তারে ঝুলে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ, আর বহুতল কাঠামোর নিচে কাদার গভীরে চাপা পড়ে আছে একের পর এক যানবাহন।
কাঠমান্ডুভিত্তিক সাংবাদিক নিরঞ্জন পৌডিয়াল নিখোঁজ পিতা-মাতা ও স্বজনদের খোঁজে বৃহস্পতিবার ভোরে ছুটে যান নুয়াকোটের সোলি গ্রামে। প্রায় ২৫টি বসতবাড়ি নিয়ে গঠিত এই পুরো গ্রামটি প্রলয়ংকরী বন্যায় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। হাহাকার ভরা কণ্ঠে তিনি বলেন, স্বজনদের কোনো হদিস পাচ্ছি না। আশঙ্কা হচ্ছে, তাদের আর কোনো দিন কোনো খবরই পাব না।
অঞ্চলের খাড়া উপত্যকাগুলো দেশটির অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ও যোগাযোগের মূল পথ হলেও আকস্মিক এ রূপ পরিবর্তনের মুখে এগুলো এখন ভয়াবহ এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত পানি ও কাদার তীব্র স্রোত নেমে আসায় আত্মরক্ষার সামান্য সুযোগটুকুও পাননি স্থানীয়রা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দুর্গম এলাকাগুলোতে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক নিয়ে নিখোঁজদের খোঁজে দিশেহারা স্বজনেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ