ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

নিরাপত্তার কারণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জাতীয় চার নেতার প্রদর্শনী স্থগিত


নিরাপত্তার কারণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জাতীয় চার নেতার প্রদর্শনী স্থগিত

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনী ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতীয় চার নেতা’ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর কিছু আগে আয়োজকরা এটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী ও মফিদুল হক জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সারওয়ার আলী বিডিনিউজকে বলেন, ‘আজ বিকেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের জানিয়েছে যে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রদর্শনীটি বন্ধ রাখা উচিত হবে। তাদের সেই পরামর্শক্রমেই উদ্বোধন আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন: পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

এদিন বিকেল ৪টায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা কয়েকজন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। এর কিছু সময় আগে ১২-১৫ জন পুলিশ এসে নিরাপত্তার কথা বলে অনুষ্ঠান শুরু করতে নিষেধ করেন। পরে আয়োজকরা উদ্বোধন অনুষ্ঠান স্থগিতের ঘোষণা দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার ইবনে মিজান এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘অনুমতি ছাড়া একটা প্রোগ্রাম হচ্ছিল আর কি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের হেল্প চাওয়া হইছে যে, অনুমতি ছাড়া এখানে প্রোগ্রাম হবে না। পরে আমাদের পুলিশ ওখানে গিয়ে জাস্ট দেখভাল করছে আরকি?’

অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাদুঘর কর্তৃপক্ষ নিষেধ করছে কোনো অনুষ্ঠান হবে না।

জাদুঘরের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় জাদুঘরের ষষ্ঠতলার ৬ নম্বর গ্যালারিতে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের কর্মকর্তা ও সাবেক সচিব ওয়ালিউল ইসলামের।

আরও পড়ুন: মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যার রহস্য উদঘাটন, ১১ গ্রেপ্তার ও সোনার বার উদ্ধার

প্রদর্শনীটি ৩ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলার পরিকল্পনা ছিল জাদুঘরের ট্রাস্টিবৃন্দের। বিডিনিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর তার ঘনিষ্ঠ চার সহচর, মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ চার সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে কারাগারে ঢুকে হত্যা করা হয়।

এ প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য তুলে ধরে সারওয়ার আলী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ১৬ ডিসেম্বরের পরবর্তী সময়ের ঘটনাবলী নিয়ে সাধারণত অনুষ্ঠান করা হয় না। আজকের প্রদর্শনীটি মূলত জাতীয় চার নেতার মুক্তিযুদ্ধে প্রস্তুতি পর্ব ও মুক্তিযুদ্ধকালীন তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকাকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছিল, এটি কোনো সাধারণ জেল হত্যা দিবসের অনুষ্ঠান ছিল না।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা শঙ্কা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে চাইনি। নিশ্চয়ই উদ্ভূত পরিস্থিতির সুবিধাজনক বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে, আর আমাদের কাছে নিরাপত্তার বিষয়টির গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি।’

এ প্রদর্শনীর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাধারণত তো এই ধরনের অনুষ্ঠান, ঘরোয়া অনুষ্ঠান বা এ ধরনের কোনো আইনতো নেই। এবং এটি তিন-চার দিন আগেই প্রচার হয়েছে। কাজেই শেষ মুহূর্তে এটাই অপ্রত্যাশিত আমাদের কাছে।

আরও পড়ুন: কালিহাতীতে ফেসবুকে ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাহসিফ হত্যা মামলার রিমান্ড শুনানিতে সাংবাদিকদের বের করে দিলেন বিচারক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ পি.এম


তাহসিফ হত্যা মামলার রিমান্ড শুনানিতে সাংবাদিকদের বের করে দিলেন বিচারক

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লে. কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় উত্তরখান থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া ব্যবসায়িক পার্টনার ও বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের রিমান্ড শুনানির সময় সাংবাদিকদের আদালত থেকে বের হয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে শুনানির আগ মুহূর্তে এই ঘটনা ঘটে। এদিন বিচারক এজলাসে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আদালতের মধ্যে সাংবাদিকরা কেন? আপনারা কি ভেতরে ঢুকতে পারেন? শুনানির পর পিপি এপিপিরা আপনাদের বিস্তারিত জানাবে। আপনারা বেরিয়ে যান। আপনারা থাকতে পারবেন না।”

বিচারক পুলিশকে নির্দেশ দেন, “সব ক্লিয়ার করেন, কেউ থাকবে না ভিতরে।”

পরে সাংবাদিকরা এজলাসের পেছনে একপাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর শুনানি শুরু হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব ও সাবেক জেলা জজ শাহজাহান সাজু মন্তব্য করেন, এটি যেহেতু ক্যামেরা ট্রায়াল নয়, ওপেন ট্রায়াল। তাই শুধু সাংবাদিকরা নয়, পাবলিককেও থাকতে দেওয়া উচিত। সাংবাদিকরা জাতির দর্পণ এবং ন্যায়বিচারে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করে। ওপেন ট্রায়ালে তারা উপস্থিত থাকলে শুনানির বিষয়বস্তু জাতিকে জানাতে পারেন। সুতরাং সাংবাদিকদের এজলাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া ঠিক হয়নি।

এ দিন দীপকে দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন। রিমান্ড আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথম দফার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এই আসামি ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসামি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির। তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যেতে দেখা গেছে এবং তিনি নীরবতা পালন করেছেন। নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আবারও রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন। এ দিন আসামি পক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে আদালতকে জানান, মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে আসামিকে ফের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আসামির সঙ্গে মামলার ভুক্তভোগীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আসামি সুকৌশলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এড়িয়ে যাচ্ছেন। এই কারণে তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং কথোপকথন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এই মামলার সঙ্গে অন্য কোনো রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত কিনা এবং ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা তা জানার জন্য তার পুনরায় রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

মামলায় গ্রেফতারের পর গত শনিবার দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। একই মামলায় গ্রেফতার এক তরুণী বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে আছেন। গত রোববার তার রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

জানা যায়, তাহসিফ সৌরি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ঘটনার দিন নিহত সৌরিকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন আসামি দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করেন, নিহত সৌরি তার সিনিয়র ভাই ছিলেন। এরপর তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমদানির ডলারের দাম বেড়ে ১২৫ টাকায় পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ পি.এম


আমদানির ডলারের দাম বেড়ে ১২৫ টাকায় পৌঁছেছে

আমদানির ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে আমদানির এলসির ডলারের দাম প্রায় ১ টাকা বেড়ে গেছে। গত ২৭ অক্টোবর আমদানির জন্য ডলারের সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ১২৪ টাকা ১৮ পয়সা। মঙ্গলবার, এই মূল্য বেড়ে ১২৫ টাকায় পৌঁছেছে। এদিন খোলাবাজারে ডলারের দাম ১২৮ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছে।

ব্যাংকারদের মতে, জ্বালানি আমদানির দায় পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রমজানকে সামনে রেখে পণ্য আমদানির এলসি খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা ডলারের মূল্য বৃদ্ধির একটি কারণ।

ব্যাংকগুলোর ঘোষিত দরের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আজ জনতা ব্যাংকে ডলারের স্পট বিক্রয়মূল্য ১২৫ টাকা এবং ক্রয়মূল্য ১২৪ টাকা। গত ২৭ অক্টোবর এ দুই দর ছিল যথাক্রমে ১২৪ টাকা ও ১২৩ টাকা।

এদিন সোনালী ব্যাংকে ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৪ টাকা ৭০ পয়সা। ইস্টার্ন ব্যাংকে ডলারের বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৪ টাকা ৬০ পয়সা এবং ক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা।

সিটি ব্যাংক প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৪০ পয়সায় কিনে ১২৪ টাকা ৬০ পয়সায় বিক্রি করেছে। ব্র্যাক ব্যাংকে ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৪ টাকা ৬০ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের গড় বিনিময় হার বেড়ে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায় পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক অবস্থায় থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে জ্বালানি আমদানির দায় পরিশোধে সরকারি পর্যায়ে অর্থের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং বিনিময় হারে সাময়িক ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে এই সময়ে এলসি খোলার পরিমাণ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে আগেভাগেই এলসি খোলা হয়ে থাকে, যাতে পণ্য সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকে।

এদিকে, ডলারের বিনিময় হারে হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার বিষয়ে ব্যাংক নির্বাহীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এ সতর্কবার্তা প্রদান করেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যাংক নির্বাহী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বেশির ভাগ ব্যাংকের ডলার ধারণক্ষমতা বা এনওপি (নিট ওপেন পজিশন) বর্তমানে ভালো অবস্থায় রয়েছে। বাজারে ডলারের সরবরাহেও খুব বেশি ঘাটতি নেই। বিপরীতে, ডলারের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবুও এক মাস ধরে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের পাশাপাশি কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ব্যাংক নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে ডলার প্রবাহের এই চিত্র তুলে ধরে গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলোর এনওপি ইতিবাচক থাকার পরও ডলারের দাম এত বেশি হওয়ার কথা নয়। কোনো পক্ষ যাতে সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক: বিশেষ কমিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক: বিশেষ কমিটি

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রতি সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, বিরোধী পক্ষের যেকোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

আজ জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির দশম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে জানানো হয়, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কার’-এর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময়ের সময় সংবিধানে শিক্ষা ও চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা, গণ-অভ্যুত্থানের দাবি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের টেকসই বাস্তবায়ন, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যমান ক্ষমতা, নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, জরুরি অবস্থাসংক্রান্ত বিধান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা এবং গণভোটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে তরুণরাই জাতিকে পথ দেখিয়েছে উল্লেখ করে তরুণদের কল্যাণে জনবান্ধব সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী সংবিধান প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিংড়ি মহাল কমিটির পুনর্গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিংড়ি মহাল কমিটির পুনর্গঠন

সরকার চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্দেশ্যে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন, নতুন খাজনা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ১ লাখ ৯৫ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সভার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "চিংড়ি মহালের সুষ্ঠু ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। সরকারি রাজস্ব আদায়ে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কোনো লিজ নেওয়া জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার রাজস্ব আদায় অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিংড়ি চাষের উপযোগী এবং ইতিমধ্যে চিংড়ি চাষ হচ্ছে—এমন খাসজমি দ্রুত বন্দোবস্ত দেওয়ার পাশাপাশি চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো পুনর্গঠনের তাগিদ দেন। তিনি উপকূলীয় বনাঞ্চল নির্ধারণ ও সীমানা চিহ্নিত করে পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি ১৯৮০-এর দশকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় সুন্দরবন নিধনের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "উপকূলীয় পরিবেশ ও বনাঞ্চল রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।"

সভাপতির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, "চিংড়ি খাতে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকলেও কয়েক দশকের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।" তিনি জানান, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য শুধু রাজস্ব বাড়ানো নয়, বরং এ খাতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা ও স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

বৈঠক শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, দেশের চিংড়ি মহালগুলো থেকে কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় এবং অতীতের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য হচ্ছে, "হয়রানি ছাড়াই দেশের বঞ্চিত মানুষের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া।" তিনি জানান, চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় যেসব সিদ্ধান্ত

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেসব জমিতে বনাঞ্চল নেই, সেসব জমি বন বিভাগের গেজেট থেকে বাদ দিয়ে চিংড়ি চাষের জন্য অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া। এছাড়া বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ১ লাখ ৯৫ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বেলা) করা হাইকোর্টের রিট মামলা নম্বর ৭৪৮৩/২০১২-এর কারণে ২০১২-১৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত স্থগিত থাকা কক্সবাজারের ১ হাজার ৪৬৬টি চিংড়ি মহালের কার্যক্রম পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া ১৯৯২ সালের চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন, নতুন করে খাজনা নির্ধারণ এবং চিংড়ি মহালের আগের অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিয়ম কমবে। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। চিংড়িচাষিদের বিনিয়োগ ও উৎপাদন কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ভূমি সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%