১২:২৯ পি.এম
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বিয়ের আট বছর পর তথ্য গোপন করে সেনাবাহিনীতে চাকরি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে।
এছাড়াও, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিবাহিত ওই নারীকে পুলিশ ভেরিফিকেশনে অবিবাহিত দেখানোর অভিযোগ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উঠেছে।
অভিযুক্ত তরুণী হলো উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের লহনী গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে মোছা. আফছানা মিমি। তার স্বামী একই উপজেলার পায়রাবন্দ সদরপুর গ্রামের দুলু মিয়ার পুত্র মো. খায়রুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ১১ বছরের মাদরাসাছাত্র নিহত
গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে নিয়োগের সার্কুলার প্রকাশিত হয়। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সৈনিক পদে আবেদন করেন প্রার্থীরা। সার্কুলার অনুযায়ী অবিবাহিতদের আবেদনের কথা উল্লেখ থাকলেও বিবাহের তথ্য গোপন করে সৈনিক পদে আবেদন করেন আফছানা মিমি।
অভিযোগ রয়েছে যে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পুলিশ প্রতিবেদনে মিমিকে অবিবাহিত দেখায় তদন্তকারী কর্মকর্তা। বর্তমানে অভিযুক্ত আফছানা আক্তার মিমি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসে ট্রেনিংয়ে রয়েছেন।
আফছানা মিমির স্বামী খায়রুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিবাহ হয়। তিনি বলেন, "এসএসসি পাশ করার পরে গাজীপুরের হাতীমারা কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি করিয়ে দিই আমার স্ত্রী আফসানা মিমিকে। এরপরেই সে অবাধ্য হয়ে জীবনযাপন শুরু করে।"
তিনি আরও বলেন, "অনেক চেষ্টার পরেও সমাধান না হওয়ায় ২০২৩ সালে গ্রামে নিয়ে আসি। তারপর থেকেই সে শ্বশুরবাড়িতে থাকতো। গত ৩ বছরে একাধিকবার বিচার সালিশেও সমাধান মিলেনি। এর মধ্যে আমাকে না জানিয়ে সেনাবাহিনীর চাকরিতে গোপনে যোগদান করে। এজন্য আমি বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল তাকে তালাক দিয়েছি।"
আরও পড়ুন: বদরগঞ্জে মাদক ও জুয়া বন্ধের দাবিতে র্যালি ও পথসভা
অভিযুক্ত তরুণীর মা রুপালী বেগম বলেন, "আমার মেয়ে অনেক ছোট থাকায় খায়রুলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলাম। খায়রুল আমার মেয়েটাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করতো। আর্মির চাকরির জন্য আবেদন করার পর চাকরি হয়ে যায়। আমার মেয়ে এখন সিরাজগঞ্জে ট্রেনিংয়ে আছে। আমরা চাকরি হওয়ার কথা কাউকে বলিনি। বাড়ির আশেপাশের লোকও কেউ জানে না।"
১ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশ ভেরিফিকেশনের রিপোর্টে অবিবাহিত দেখানোর বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "আমরা এত টাকা দিইনি। তদন্তকারী অফিসারকে নিয়ম অনুযায়ী ৪ হাজার টাকা দিয়েছি। আর খায়রুলের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হলেও কাবিননামা হয়নি। এজন্য কোনো সমস্যা নেই। বিয়ের বিষয়ে কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।"
এ সময় প্রতিবেদককে সংবাদ না প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করেন অভিযুক্ত তরুণী আফছানা মিমির মা রুপালী বেগম।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে কর্মী নিয়োগ: অনলাইনে আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র
অন্যদিকে, অভিযুক্ত তরুণী আফছানা মিমি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসে ট্রেনিংয়ে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিবাহিত নারীকে পুলিশ ভেরিফিকেশনে অবিবাহিত দেখানোর ডিএসবির সেই অভিযুক্ত এসআইয়ের তথ্য নিতে গেলে রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, "পুলিশ ভেরিফিকেশন গোপনীয় জিনিস। ভেরিফিকেশন করা কর্মকর্তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ নেই। আমি কয়েকদিন আগেই ডিএসবির অতিরিক্ত দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার স্যারের সঙ্গে কথা বলুন।"
রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: ফ্রিতে ২ লাখ টাকার আইটি প্রশিক্ষণ, চাকরির সুযোগসহ আবেদন শুরু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন