১২:৪১ পি.এম
কোন প্রকার বন্ধ শিল্পকারখানা আবার চালু করা হবে, সেজন্য এক মাসের মধ্যে একটি তালিকা প্রস্তুত করে সরকারের হাতে দেবেন বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর সংগৃহীত তথ্য ও কলকারখানার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। তবে, শুধু ঋণ সহায়তার কথা নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যে খুবই জরুরি, তা মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে বিবেচনায় নিয়ে যদি আর্থিক বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তবে কর্মসংস্থানের বাজারও সম্প্রসারিত হবে।
যেখানে এক সময় শত শত শ্রমিক কাজ করতেন, সেই জায়গায় এখন গড়ে উঠেছে মাছের ঘের ও কৃষিজমি। কারখানার ভেতরের যন্ত্রপাতিও বিক্রি করে দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় পড়েছেন মালিকরা। এ কারণে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একটি কারখানা, যেখানে প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন, সেই কারখানার কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
কোভিডের পর মোশারফ হোসেনের জন্য ব্যাংক ৫০ লাখ টাকার বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু সেই টাকা তিনি এখনও হাতে পাননি। বরং, সুদের বোঝা বেড়ে গিয়ে তার প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের মুখে। তিনি বলেন, "ব্যাংকই আমার সঙ্গে জালিয়াতি করেছে। টাকা না দিয়েও সুদ সমন্বয় করে নেয়া হয়েছে। যদি ব্যাংক সহায়তা করতো তবে আমি আবার দাঁড়াতে পারতাম। ব্যবসা বুঝি, কাজ জানি, এবং পুনরায় ঘুড়ে দাঁড়ানোর সক্ষমতাও ছিল। কিন্তু বরাদ্দকৃত ৫০ লাখ টাকার কোন অংশই আমার কাছে পৌঁছায়নি।"
আরও পড়ুন: শাহজালালের রানওয়ে-অ্যাপ্রোন এলাকায় যানবাহনের অবাধ চলাচল
শ্রম হারানোর কাহিনীও কম নয়। অনেকে মোবাইলের ক্ষুদে বার্তায় চাকরি হারানোর খবর পেয়ে থাকেন। ২০ বছরের চাকরি হারানো মোতালিব হোসেন জানান, "সহকর্মীরা এখন কেউ অটো চালাচ্ছেন, কেউ গ্রামের দিকে ফিরে কৃষিকাজ করছেন।" দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণও করেছেন।
সাভারের একই সড়কে পরপর দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, যেখানে প্রায় ৯ হাজার ও ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ১১ হাজার কর্মীও এখন চাকরি হারানোর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। এই পরিস্থিতিতে বন্ধ কারখানা চালুর সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, "কেউ রফতানির উপর নির্ভরশীল ছিলেন কিন্তু বৈশ্বিক বাজার হারিয়ে ফেলেছেন, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদি ঋণের চাপের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন ধরনের কারণে কারখানাগুলো বন্ধ হয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হবে কোন কারখানার কী প্রয়োজন। পরে সরকারকে জানিয়ে নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা নিতে হবে। সব ধরনের সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে বন্ধ কারখানাগুলো আবার সচল করা যায়।"
বন্ধ কারখানা সচল করার জন্য শুধু ঋণের কথাই নয়, ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনেও জোর দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, "শুধু সরকার নয়, উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তবে, এর আগে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, নাহলে উদ্যোক্তারা আস্থা হারাবেন।"
আরও পড়ুন: বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ বিজিএমইএর উপদেষ্টার
বিগত রাজনৈতিক অসংগতির বা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা নীতি প্রয়োজন বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা মনে করছেন, বন্ধ ও রুগ্ন শিল্পকে আলাদা করে চিহ্নিত করে ঋণ ও সহায়তা দেওয়ার ফলে আর্থিক অপচয় কমবে এবং উৎপাদনশীল খাত পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন