শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৬ পি.এম
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান আলোচক হে লাইফেং। তার এই সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের আসন্ন বৈঠকের আগে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা।
শনিবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
সংবাদটি এসেছে বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে।
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির প্রেসিডেন্টরা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে বৈঠকে মিলিত হবেন। এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বৃহত্তর কৌশলগত বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের চলমান উত্তেজনা কমানো।
প্রায় এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে একটি সাময়িক সমঝোতা বজায় থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনও দুই দেশ সক্ষম হয়নি।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া, দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হে লাইফেং ১৯ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর একটি চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে থাকা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনাগুলি দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আগে হওয়া ‘গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যের’ ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, তিনি সপ্তাহান্তে হে লাইফেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় ইরান ইস্যুও উঠে আসতে পারে। চীনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে মতবিরোধের একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে ট্রাম্প ও শির বৈঠকে বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর তার শুল্কনীতিকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র বাণিজ্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি একটি নাজুক বা ভঙ্গুর সমঝোতায় পৌঁছায়।
ওই সমঝোতার ফলে দুই দেশের মধ্যে আরও বড় ধরনের বাণিজ্য সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহর ও আশপাশের জনপদ রক্ষায় বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা মেঘনার ভাঙনে বারবার বিপর্যস্ত হচ্ছে। নদীর ভাঙন প্রতিরোধের জন্য ৩৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ভৈরব ফেরিঘাট থেকে মেন্দিপুর পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নদীভাঙন থেকে শহর ও জনবসতি সুরক্ষার ব্যবস্থা হবে এবং দীর্ঘ এই সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সংযোগ তৈরি করবে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভৈরব শহরের কালিপুর এলাকায় মেঘনা নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "মেঘনা নদীর ভাঙনে ভৈরব শহরসহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ফেরিঘাট থেকে মেন্দিপুর পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।"
প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "শুধু ভাঙন প্রতিরোধ নয়, প্রকল্পে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বেড়িবাঁধের ওপর নির্মিতব্য সড়কটি স্থানীয় মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।"
তবে বাঁধ নির্মাণের সময় মেঘনার সঙ্গে সংযুক্ত খাল-বিলের পানি চলাচল বন্ধ না হওয়ার বিষয়েও পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় স্থানে সেতু নির্মাণ করা হবে। ফলে সড়ক ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি পানির স্বাভাবিক প্রবাহও বজায় রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
একইদিন ভৈরবে আরও কয়েকটি উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী।
সকালে ভৈরব উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় কমলপুর ডাকবাংলোয় ভৈরব ফুটবল একাডেমিকে ক্রীড়া ও প্রশিক্ষণ সামগ্রী প্রদান করা হয়। পরে ভৈরব বাজারের চান্দানী টিলার হরিজন পল্লীতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্যানিটেশন, সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন তিনি। স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এসব কাজ হচ্ছে।
এরপর বিকেলে উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা পরিষদ ও সংসদ সদস্যের তহবিলের অর্থায়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ সময় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সি আমির ফয়সাল, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হক, ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাহিদুল হক জাবেদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইডিশ পপ তারকা জারা লারসন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, কারণ তাঁর একটি জনপ্রিয় গান হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযানের দৃশ্যসহ ওই ভিডিওতে লারসনের ‘মিডনাইট সান’ গানটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পরবর্তীতে গানটি ভিডিও থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের টিকটক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি এখনো উপলব্ধ রয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘নেভার এন্ডিং ডিপোর্টেশনস’ (শেষহীন নির্বাসন), যা লারসনের গানের ‘নেভার-এন্ডিং মিডনাইট সান’ কথার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে লারসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় তিন মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তিনি হোয়াইট হাউসের ভিডিওটিকে ‘অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে গান ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করার শিল্পীদের তালিকায় তিনি যুক্ত হয়েছেন। এর আগে সাবরিনা কার্পেন্টার ও আরিয়ানা গ্রান্ডেসসহ অন্যান্য শিল্পীরা একই ধরনের আপত্তি জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের ওই ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের একাধিক দৃশ্য রয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মকর্তারা কয়েকজন ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে তুলে নিচ্ছেন।
লারসন তাঁর প্রতিক্রিয়া ভিডিওতে মূল ভিডিওর একটি অংশ পুনরায় প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাঁকে কপালে আঙুল দিয়ে ‘এল’ আকৃতি তৈরি করতে দেখা যায়। টিকটকে পোস্ট করার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি ইতিমধ্যে ৪২ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসের ভিডিওটি ‘খুবই অমানবিক’।
লারসন বলেন, ‘এই ভিডিওতে যাঁদের দেখা যাচ্ছে, তাঁরা বাস্তব মানুষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই মানুষদের অধিকাংশই কাগজপত্রহীন অভিবাসী। তাঁরা সাধারণ মানুষ, তাঁদের চাকরি আছে এবং তাঁরা শুধু আরও ভালো ভবিষ্যতের জন্য চেষ্টা করছেন।’
লারসন অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউস তাঁর গান ব্যবহার করে বিষয়টিকে যেন ‘হাসি-তামাশায়’ পরিণত করেছে। তাঁর ভাষায়, ‘সবকিছু কীভাবে মিমের মতো এবং “হা-হা-হা” হয়ে যাচ্ছে, সেটাই অবিশ্বাস্য।’
তিনি আরও দাবি করেন, হোয়াইট হাউস তাঁর গান ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে ‘বিভাজন’ তৈরি করার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, ‘মিডনাইট সান’ গানের কথা মূলত মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্কের প্রতিফলন।
এ বছর এর আগে লারসন তাঁর গান ব্যবহারের ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছিলেন। সে সময় তাঁর জনপ্রিয় গান ‘লাশ লাইফ’ ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নাচের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টকে এর আগে শিল্পীদের আপত্তির মুখে একাধিক গান সরিয়ে নিতে হয়েছে। আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত একটি রিল থেকে টেলর সুইফটের মৌসুমি গান ‘আগাস্ট’ সরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, গায়িকা অলিভিয়া রদ্রিগো তাঁর একটি গান ব্যবহারের প্রতিবাদ করার পর সেটিও একটি ভিডিও থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রদ্রিগো ওই ব্যবহারের ঘটনাকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
এ ছাড়া সাবরিনা কার্পেন্টার ও আরিয়ানা গ্রান্ডেও পৃথক ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টে তাঁদের গান ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
বিবিসি অবলম্বনে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক শ্রমবাজারে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ৫৫ হাজার ৬১৪ জন বাংলাদেশি কর্মী পৌঁছেছেন। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগে সিঙ্গাপুরের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার পরিকল্পনার কারণে এ শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিদেশে যাওয়া মোট ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৭ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশের গন্তব্য ছিল সিঙ্গাপুর। এ সময় সৌদি আরব ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৯৫ কর্মী নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
আরো পড়ুন
১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু : মীর শাহে আলম
এক প্রতিবেদনে টিবিএস জানায়, গত কয়েক বছর ধরে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে সেখানে ৬৪ হাজার ৩৮৩, ২০২৩ সালে ৫৩ হাজার ২৬৫, ২০২৪ সালে ৫৬ হাজার ৮৪৭ এবং ২০২৫ সালে ৭০ হাজার ৮৩২ জন বাংলাদেশি কর্মী সিঙ্গাপুরে গেছেন।
ওমান, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো বড় শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা সীমিত থাকায় সিঙ্গাপুরের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
শ্রমবাজারের পাশাপাশি রেমিট্যান্সের উৎস হিসেবেও সিঙ্গাপুরের গুরুত্ব বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে বাংলাদেশে ৯৮ কোটি ৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৪৯ কোটি ডলারে। এর ফলে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর দশম বৃহত্তম উৎসে পরিণত হয়েছে।
আরো পড়ুন
১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু : মীর শাহে আলম
গত ২৩ আগস্ট ন্যাশনাল ডে র্যালিতে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং বলেন, বিদেশি জনশক্তিকে স্বাগত জানানো হবে, তবে তা ‘সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত উপায়ে’ হবে। তিনি জানান, আগামী বছরগুলোতে দেশটির মোট জনসংখ্যা ও শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধি ধীর হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তবে মাইগ্রেশন বিশেষজ্ঞ ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সিকদারের মতে, সিঙ্গাপুর বিদেশি কর্মী নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করবে এমন আশঙ্কার কারণ নেই। তার মতে, দেশটির অর্থনীতির জন্য অভিবাসী শ্রমিকের প্রয়োজন রয়েছে। তবে স্বল্প ও অর্ধদক্ষ কর্মীর চাহিদা কমে দক্ষ ও উচ্চ দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে।
সিঙ্গাপুরে বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ বিদেশি কর্মী কর্মরত আছেন। আনুমানিক দুই লাখ বাংলাদেশি নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ ও বাগান পরিচর্যার মতো কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
সিকদার বলেন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সিঙ্গাপুর এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের দক্ষ কর্মী তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সিঙ্গাপুরে যেতে বাংলাদেশি কর্মীদের উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি নিশ্চিত করতে তাদের ১৪ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, সিঙ্গাপুরের ছয়টি কোম্পানি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত ব্যয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা হওয়ার কথা হলেও কর্মীদের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আরো পড়ুন
বাগানে হাসনাহেনা বা জুঁই গাছ থাকলে কি সত্যিই সাপ আসে?
সিঙ্গাপুরের নির্মাণ খাত এখনও বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে খাতটির প্রবৃদ্ধি ১১.৮ শতাংশ হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধি ৬.২ শতাংশ হয়েছে।
তবে সিঙ্গাপুরে যাওয়া কর্মীদের সবাই নতুন অভিবাসী নন। কর্মী পাঠানো এজেন্সিগুলোর সংগঠনের সাবেক মহাসচিব আহমেদ চৌধুরীর মতে, অনেক কর্মী চুক্তি শেষে দেশে ফিরে নতুন ভিসা বা ক্লিয়ারেন্স নিয়ে আবার সিঙ্গাপুরে যান। ফলে বিএমইটির পরিসংখ্যানকে দেশটির শ্রমবাজারে নতুন বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশের সংখ্যা হিসেবে সরাসরি বিবেচনা করা ঠিক নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশের তৎপরতায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের আয়োজন ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট লিংক রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুবেল আফ্রাদ জানান, ফৌজদারহাট লিংক রোডে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করছিলেন। খবর পাওয়ার পর সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ তাদের ধাওয়া করে ৬ জনকে আটক করে। বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও জানান, আটককৃতদের নাম ও পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ