রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৫ পি.এম
বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার জুয়েল খানের বিরুদ্ধে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দিতে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ দিতে অনীহা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট কাজ পেতে বিলম্ব ও নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাদের নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সরকারি ফি বা বৈধ খরচের বাইরে রেকর্ড কিপার জুয়েল খান অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি না হলে কাজ বিলম্বিত বা জটিল করে দেওয়ার আশঙ্কা দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমির নকশা, পর্চা, দাগের সূচি, কেসের নকল এবং পর্চায় ভুল সংশোধনসংক্রান্ত ৫৩৪/৩৩ ধারায় আবেদনসহ বিভিন্ন নথি ও রেকর্ডসংক্রান্ত কার্যক্রমে রেকর্ড কিপারের দায়িত্ব রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব সেবা নিতে গিয়ে সরকারি নির্ধারিত ফির তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নকশার সরকারি নির্ধারিত ফি ৫০০ টাকা হলেও এর বিপরীতে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। একইভাবে একটি পর্চার জন্য ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা, দাগের সূচির জন্য ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা এবং কেসের নকলের জন্য ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া পর্চায় ভুল সংশোধনসংক্রান্ত ৫৩৪/৩৩ ধারায় আবেদন গ্রহণ ও কার্যক্রম সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমির মালিকদের সঙ্গে লক্ষাধিক টাকার অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আলোচনা করা হয় বলেও তাদের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ডেসপাচ রাইডার পদে কর্মরত নাঈমের মাধ্যমে এসব অর্থ লেনদেন করা হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে নাঈমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা একপ্রকার জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছি। টাকা দিতে না চাইলে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরি হয় এবং কাজ পেতে ভোগান্তি বাড়ে।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, ভূমিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
### অভিযোগ অস্বীকার রেকর্ড কিপার জুয়েলের
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার জুয়েল খানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, *“আমার নামে যে অভিযোগগুলো রয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।”*
### কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট জোনের যুগ্মসচিব মৃধা মো. মোজাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট নথি, সরকারি ফি’র নির্ধারিত তালিকা, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি সম্পত্তি, কিন্তু সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। জলাশয় এবং পানি রয়েছে; তবে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন ১৩টি পুকুর বছরের পর বছর ধরে দখলে রয়েছে। সদর, শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা এই পুকুরগুলোর মোট আয়তন ১৫ দশমিক ২৮ একর।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এসব জলাশয় থেকে প্রতি বছর ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব আহরণ সম্ভব। কিন্তু দখলমুক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ইজারা না দিলে সেই সম্ভাবনাও কাজে লাগানো হচ্ছে না। ফলে সরকারি সম্পদের ব্যবহার হচ্ছে না এবং সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে।
রাজস্বের পাশাপাশি, এসব জলাশয়ের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও জড়িত। পুকুরগুলো দখলমুক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেওয়া গেলে স্থানীয়ভাবে মাছ চাষের মাধ্যমে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। মাছচাষি, জেলে, শ্রমিক, মাছ ব্যবসায়ী এবং পরিবহনকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় চারটি, শৈলকুপায় পাঁচটি এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় চারটি পুকুর রয়েছে। হরিণাকুণ্ডুর চারটি পুকুরের মোট আয়তন ৫ দশমিক ৪৩ একর, যার সম্ভাব্য রাজস্ব ৫৪ হাজার টাকা। শৈলকুপায় পাঁচটি পুকুরের মোট আয়তন ৬ দশমিক ৬০ একর, সম্ভাব্য রাজস্ব ৬৬ হাজার টাকা। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চারটি পুকুরের মোট আয়তন ৩ দশমিক ২৫ একর, যার সম্ভাব্য রাজস্ব ৩২ হাজার ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে ১৩টি পুকুরের আয়তন ১৫ দশমিক ২৮ একর এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পত্তি দখলে থাকলে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হয় না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দখল আরো পাকাপোক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, "সরকারি পুকুর দখলে পড়ে থাকলে সরকারের রাজস্বও আসে না, এলাকার মানুষও কোনো সুবিধা পায় না। এগুলো দখলমুক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেওয়া হলে সরকার যেমন আয় করবে, তেমনি স্থানীয় মানুষও মাছ চাষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।"
আরেক বাসিন্দা রহিম মন্ডল বলেন, "পুকুরগুলো যদি সরকারি সম্পত্তি হয়, তাহলে এগুলো ফেলে না রেখে সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা দরকার। পরে ইজারা দিলে সরকারও রাজস্ব পাবে এবং এলাকার অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে।"
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "পুকুর উদ্ধার করে যদি মাছ চাষ করা যায়, তাহলে একই সঙ্গে সরকার রাজস্ব পাবে এবং অনেক মানুষের কাজের সুযোগ হবে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।"
এদিকে, জলাশয় দখলমুক্ত করার কাজ চলছে জানিয়ে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, "সরকারি জলাশয় দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।"
তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন যেসব জলাশয় দখলে রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি যাতে অবৈধভাবে কেউ ভোগদখল করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রঞ্জন কুমার দাস আরো বলেন, "দখলমুক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট নিয়মনীতি অনুসরণ করে এসব জলাশয় ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জলাশয়গুলো মাছ চাষের কাজে ব্যবহার করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়া কিয়েভস্টারের সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে, যা ইউক্রেনের বৃহত্তম মোবাইলসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। রবিবার, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। একই দিনে, দেশের বিভিন্ন ডেটা সেন্টার ও যোগাযোগ অবকাঠামোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিয়েভস্টার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, তাদের প্রধান কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। তবে এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর ভোডাফোন ইউক্রেনের একটি ডেটা সেন্টারেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে ভোডাফোন ইউক্রেন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রবিবার সকালে কিয়েভের একটি ডেটা সেন্টারে দুই দফা হামলা চালানো হয়। এতে দুই শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
ইউক্রেনের ডিজিটাল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশের ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেটা সেন্টারেও হামলা হয়েছে। এসব হামলার কারণে কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় প্রায় এক লাখ পরিবারের ইন্টারনেট ও যোগাযোগ সেবা ব্যাহত হয়েছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তার দাবি, এর উদ্দেশ্য তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত করা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়ে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যোগাযোগ অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টারগুলোতে হামলার ঘটনা নতুন করে সামনে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নাটোরের বেশ কিছু এলাকায় টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নাটোরের বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ১ নম্বর ফিডারের আওতাধীন লাইনের পার্শ্ববর্তী গাছের ডালপালা কর্তন করার জন্য সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট ৮ ঘণ্টা বড়াইগ্রাম উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এই এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কালিকাপুরের আংশিক এলাকা, কালিরগুন, চরনটাবাড়িয়া, মহিষভাঙ্গা মোল্লাপাড়া, নটাবাড়িয়া, জোয়ারী, কালিকাপুর কারিগরি কলেজপাড়া, খৌদ্দকাচুটিয়া ও বৃহৎ কাচুটিয়া এবং এর আশপাশের এলাকা।
নির্ধারিত সময়ের পূর্বে কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
এদিকে, সোমবার রাজশাহীর বেশ কিছু এলাকায় পর্যায়ক্রমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না। রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) রাজশাহীর বিমানবন্দর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৩৩ কেভি কাটাখালী-বিমানবন্দর বিদ্যুৎ লাইনের নিকটবর্তী গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তনের জন্য সোমবার ১১ কেভি বাইপাস ফিডারের আওতাধীন ওমরপুর, কুচপাড়া, মাস্টারপাড়া, নামোপাড়া পর্যন্ত এলাকাগুলোতে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ১০টা পর্যন্ত মোট আড়াই ঘণ্টা এবং সার্ভে কলেজ থেকে খড়খড়ি পর্যন্ত এলাকাগুলোতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মোট ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে নেসকো রাজশাহীর বিমানবন্দর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ নদী অধিকার এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর পানি ভবন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের নদী অধিকার ও আন্তর্জাতিক পানির ন্যায্য বণ্টন’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। দেশের অর্থনীতি, কৃষি, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং মানুষের জীবন-জীবিকা নদীর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সুতরাং, নদী রক্ষা করা শুধুমাত্র পরিবেশের জন্য নয়, বরং এটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের জন্যও অপরিহার্য।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা, সমতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং কোনো পক্ষের ক্ষতি না করার নীতি অনুসরণ করা জরুরি। আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি একক দেশের সম্পদ নয়। উজান ও ভাটির দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতার ভিত্তিতে এসব নদীর পানিব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ, ন্যায্য হিস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন কার্যকর এবং টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিস্তা নদীসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ তার যৌক্তিক দাবি অব্যাহত রাখবে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে সেই সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যায্যতা ও আস্থার ওপর। অভিন্ন নদীর পানিব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তথ্য বিনিময়, পূর্বাভাস, যৌথ গবেষণা এবং সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নদী দখল, দূষণ এবং অবৈধ স্থাপনা বন্ধের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, নদীকে বাঁচাতে হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নদী পুনরুদ্ধারে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশবিদ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ ক্রমেই পানি ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এই বাস্তবতায় পানিসম্পদের সমন্বিত, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। নদী রক্ষা এবং পানির ন্যায্য বণ্টনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হবে এমন একটি পানিব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নদী থাকবে প্রাণবন্ত, মানুষ পাবে নিরাপদ ও ন্যায্য পানির অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের নদী ও জলসম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।’
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান খোকন এমপিও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিশেষজ্ঞ আলোচকেরা বাংলাদেশের নদী, আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা, নদী অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, পানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশবিদ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ