রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৯ পি.এম
বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ নদী অধিকার এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর পানি ভবন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের নদী অধিকার ও আন্তর্জাতিক পানির ন্যায্য বণ্টন’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। দেশের অর্থনীতি, কৃষি, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং মানুষের জীবন-জীবিকা নদীর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সুতরাং, নদী রক্ষা করা শুধুমাত্র পরিবেশের জন্য নয়, বরং এটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের জন্যও অপরিহার্য।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা, সমতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং কোনো পক্ষের ক্ষতি না করার নীতি অনুসরণ করা জরুরি। আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি একক দেশের সম্পদ নয়। উজান ও ভাটির দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতার ভিত্তিতে এসব নদীর পানিব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ, ন্যায্য হিস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন কার্যকর এবং টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিস্তা নদীসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ তার যৌক্তিক দাবি অব্যাহত রাখবে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে সেই সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যায্যতা ও আস্থার ওপর। অভিন্ন নদীর পানিব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তথ্য বিনিময়, পূর্বাভাস, যৌথ গবেষণা এবং সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নদী দখল, দূষণ এবং অবৈধ স্থাপনা বন্ধের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, নদীকে বাঁচাতে হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নদী পুনরুদ্ধারে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশবিদ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ ক্রমেই পানি ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এই বাস্তবতায় পানিসম্পদের সমন্বিত, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। নদী রক্ষা এবং পানির ন্যায্য বণ্টনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হবে এমন একটি পানিব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নদী থাকবে প্রাণবন্ত, মানুষ পাবে নিরাপদ ও ন্যায্য পানির অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের নদী ও জলসম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।’
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান খোকন এমপিও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিশেষজ্ঞ আলোচকেরা বাংলাদেশের নদী, আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা, নদী অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, পানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশবিদ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে এক দিনে এক হাজারের বেশি অবৈধ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে, যা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, রবিবার ইহুদিদের সুক্কোট উৎসবের দ্বিতীয় দিনে এক হাজার ১৪৩ জন ইসরায়েলি মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।
ইসরায়েলি পুলিশের নিরাপত্তায় তারা ধারাবাহিকভাবে মাগরিবি গেট দিয়ে আল-আকসায় প্রবেশ করেন। এ সময় কিছু ইহুদি ধর্মীয় প্রার্থনা ও বিভিন্ন আচার পালন করেন। প্রাঙ্গণে উদ্ভিদজাত উৎসর্গ সামগ্রীও নিয়ে আসা হয় বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গভর্নরেটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব ঘটনা আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনগত স্থিতাবস্থা লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতার অংশ। চলতি মাসে মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পূর্বে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য খালেদ মেশাল শনিবার সতর্ক করে বলেছেন, আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরায়েলের বিভিন্ন পদক্ষেপ ওই স্থানের ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করছে বলেও তিনি মনে করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১০ মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তির এক মাস ১০ দিনের মাথায় মারা গেলেন সাংবাদিক আজহার আলী সরকার। তার বয়স ছিল ৫৭ বছর।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আজহার আলী। তার অবস্থার অবনতি হলে, তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী রোকসানা পারভীন।
রোকসানা পারভীন বলেন, ‘শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। পরে বেশি অসুস্থ হওয়ায় বেলা ১টা ১০ মিনিটের দিকে আমরা সেখান থেকে বের করি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার জন্য। তখনই রাস্তায় মারা গেছে।’
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজহার আলী দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। তার দুই ছেলে রয়েছে।
রবিবার আসরের নামাজের পর রাজধানীর বনশ্রীর আইডিয়াল মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আজহার আলী সরকারকে গত বছরের ১০ অক্টোবর ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরিবারের দাবি, ওই দিন সন্ধ্যায় ডিবির একটি দল বনশ্রীর বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন তাকে রমনা থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কাশিনগরের একটি মাদরাসার দুই ছাত্রী মাহিমা আক্তার মাহি (১২) ও মরিয়ম আক্তার তানিশা (১৩) গত চারদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই ছাত্রীর মায়েরা থানায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেছেন, যা তাদের উৎকণ্ঠার মাত্রা বাড়িয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মো. আরিফ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ মাহিমা আক্তার মাহি ওই ইউনিয়নের জুগীরকান্দি গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মহি উদ্দিনের কন্যা। অপরদিকে, মরিয়ম আক্তার তানিশা দুবাই প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের কন্যা।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করে জানা যায়, মাহিমা আক্তার মাহি (১২) ও মরিয়ম আক্তার তানিশা কাশিনগর বাজারের ভুশ্চি রোডে অবস্থিত আল-আমিন মহিলা মাদরাসার ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় তারা বাড়ি থেকে মাদরাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করার পর শুক্রবার তানিশার মা সালমা বেগম ও মাহিমার মা তাসলিমা বেগম চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডাইরি করেন। রবিবার রাত পর্যন্ত পুলিশ তাদের কোনো সন্ধান পায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, নিখোঁজ ছাত্রীরা মানবপাচারকারী চক্রের হাতে পড়তে পারে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত তাদের উদ্ধার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তানিসার মা সালমা বেগম ও মাহিমার মা তাসলিমা আক্তার জানান, তাদের মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাগলা থেকে পটুয়াখালী হাইওয়ে সড়কে দুর্ঘটনা রোধে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল হাইওয়ে পুলিশ।
আজ বরিশাল হাইওয়ে পুলিশের এসআই জয়ন্ত কুমার দাসের নেতৃত্বে এ বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়।
অভিযানে সড়ক পরিবহন আইন ও ট্রাফিক নিয়ম না মানা চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও দুর্ঘটনা রোধে এ ধরনের চেকপোস্ট ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ