১০:২৫ এম
মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে পদ থেকে সরানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন।
শুক্রবার এএফপির কাছে আসা হোয়াইট হাউসের একটি নথি থেকে এ বিষয়টি জানা যায়।
এর আগে জুনে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে বাধা দিয়েছিল।
আরও পড়ুন: ‘গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত ও সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে’
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট কুককে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আপনাকে জানানো হচ্ছে যে, প্রেসিডেন্ট আপনাকে আপনার পদ থেকে অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।’ ওই চিঠিতে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ড্যান স্ক্যাভিনোর স্বাক্ষর রয়েছে।
বন্ধকী ঋণের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগের সাথে সম্পর্কিত বিষয়ে কুককে চিঠির তারিখ থেকে ২১ দিন সময় দেওয়া হয়েছে জবাব দেওয়ার জন্য। তবে এসব অভিযোগ এখনও প্রমাণিত নয় এবং কুক যথাযথভাবে তা অস্বীকার করেছেন।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতার ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করেছেন। তিনি ফেডের সাবেক চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছেন এবং গভর্নর লিসা কুককে পদ থেকে সরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ১১১ বছরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে কুককে পদ থেকে সরানোর এই উদ্যোগটি কোনো প্রেসিডেন্টের দ্বারা প্রথমবারের মতো নেয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে রামলীলা মন্দির সিলগালা, প্রতিবাদ হিন্দু সম্প্রদায়ের
জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে জানায়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নরদের ‘যেকোনো কারণে বা কোনো কারণ ছাড়া’ বরখাস্ত করার ক্ষমতা নেই।’
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নির্দলীয় প্রতিষ্ঠান, যা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির মুদ্রানীতি নির্ধারণ করে। প্রেসিডেন্ট গভর্নরদের মনোনয়ন দেন এবং এরপর সিনেটের অনুমোদনের পরে তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে ফেডের স্বাধীনতার গুরুত্ব নিয়ে চাখ দিলেও তারা কুকের বিরুদ্ধে আনা বন্ধকী ঋণ জালিয়াতির মূল অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
জুনের রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, কুকের বিরুদ্ধে তিনি ‘অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা’ নেবেন।
আরও পড়ুন: চিফ হুইপ: আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না
হোয়াইট হাউসের নতুন চিঠিতে কুকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘অন্ততপক্ষে, এই আচরণ চরম অবহেলার প্রমাণ এবং এটি দেখায় যে আপনি এই পদে থাকার উপযুক্ত নন।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কুককে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দেওয়ার সুযোগ ছাড়াই তাকে বরখাস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। এ কারণে কুককে আগামী ২৬ আগস্টের মধ্যে অভিযোগগুলোর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী কুক শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কুক জানিয়েছেন, ‘আমি ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর হওয়ার কয়েক বছর আগে স্বাক্ষর করা বন্ধকী ঋণের নথিপত্র নিয়ে এই বিষয়টি কখনোই ছিল না।’
আরও পড়ুন: ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ২২ গ্রেফতার, উদ্ধার ৪০০ গ্রাম হেরোইন ও ১৫২০ পিস ইয়াবা
তিনি এটিও বলেছেন, ‘এটি ছিল একটি সাজানো অজুহাতের ভিত্তিতে আমাকে পদ থেকে সরানোর চেষ্টা।
কারণ, আমি রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি এবং আমেরিকান জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করেই সুদের হার নির্ধারণ করে গেছি।’
ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন কুককে বরখাস্তের নতুন পদক্ষেপকে ‘আবারও আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ অবৈধভাবে নেওয়ার ট্রাম্পের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্প যাতে সফল না হন, তা নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটরা ‘প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে’।
আরও পড়ুন: শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় সরছে, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন