০২:১২ পি.এম
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় নড়াইল সদরের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। সদর উপজেলার পেড়লি দাখিল মাদ্রাসা ও আফরা দাখিল মাদ্রাসা থেকে আসা সকল পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার কারণে শতভাগ ফেলের তালিকায় যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন।
জানতে পারা গেছে, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত পেড়লি দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার ১৮ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১২ জন নিয়মিত এবং ৬ জন অনিয়মিত রয়েছে। কিন্তু ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই ১৮ জন শিক্ষার্থীর সবাই ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে এবং কয়েকজন অন্য বিষয়েও ফেল করেছে। অথচ বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে কর্মরত আছেন ১৭ জন শিক্ষক।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এই ফলাফলে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বৃত্তিপ্রাপ্ত এক পরীক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেছেন, 'আমি এর আগে বৃত্তি পেয়েছি, টেস্ট পরীক্ষাতেও ফলাফল ভালো ছিল। দাখিলে ইংরেজি পরীক্ষাও ভালো হয়েছিল। অথচ শুধু আমি নই, সবাই ইংরেজিতে ফেল করেছে। বিষয়টির সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার।'
ব্যর্থতার দায় কিছুটা স্বীকার করে পেড়লি দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, 'শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিয়মিত ক্লাসে আসতে পারছে না। করোনার সময় পড়ালেখা বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া হয়েছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব ফলাফলে পড়েছে। পাশাপাশি আমাদের তত্ত্বাবধানেও নিঃসন্দেহে ঘাটতি ছিল। আমরা আরও তৎপর হলে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব।'
অন্যদিকে, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তালিকা অনুযায়ী, সদরের আফরা দাখিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর সাতজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে όλοι অকৃতকার্য হয়েছে।
সরেজমিনে আফরা দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা গেছে জরাজীর্ণ অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে নিয়মিত পাঠদান বন্ধ রয়েছে এবং স্থাপনা নষ্ট হচ্ছে। মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বর্তমানে সুপারিন্টেন্ডেন্ট আতিকুর রহমান ছাড়া সেখানে আর কোনো শিক্ষক নেই।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
আতিকুর রহমান বলেন, '২০০১ সাল থেকে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী এবং ২০০৮ সালে দাখিল পাঠদানের অনুমতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে আসছি। ২০১০ সাল থেকে এখান থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে এবং অন্যান্য বছর পাসও করেছিল। তবে এ বছরের ফলাফল খুবই খারাপ। এখন আর একা প্রতিষ্ঠানটি চালানো সম্ভব নয়।'
দুটি মাদ্রাসার শতভাগ ফেলের ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে নড়াইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, 'আমরা শিগগিরই এ দুটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করব। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে আগামী বছর যাতে ভালো ফলাফল করা যায়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন