ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্কুল মাঠে মেলা, পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ: বরিশালের দুই কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে


স্কুল মাঠে মেলা, পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ: বরিশালের দুই কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে

*স্কুল মাঠে মেলা, পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ: বরিশালের দুই কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে*

আগামী ২ জুলাই থেকে দেশব্যাপী একযোগে শুরু হচ্ছে এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) ও আলিম পরীক্ষা। এ অবস্থায় বরিশাল নগরীর পরেশ স্কুল মাঠে চলমান মাসব্যাপী মেলাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, মেলার কারণে সৃষ্ট শব্দদূষণ ও জনসমাগমের প্রভাব পড়তে পারে পার্শ্ববর্তী পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর পরীক্ষার্থী এবং আশপাশের শিক্ষার্থীদের ওপর।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মেলা প্রাঙ্গণের পাশেই অবস্থিত বরিশাল সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আলেকান্দা সরকারি কলেজ—যেখানে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া আশপাশে আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা থাকায় পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, র‍্যালি ও আলোচনা সভা

অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেলা চলাকালে উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার, বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম এবং দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে শিক্ষার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বিঘ্নের মুখে পড়ছে। তাদের আশঙ্কা, পরীক্ষা চলাকালেও একই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পরীক্ষার্থীদের মনোযোগ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

মেলা-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত মাইকের উচ্চ শব্দ ও কোলাহল চলায় বাসাবাড়িতে অবস্থানরত পরীক্ষার্থীরাও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে। তারা দ্রুত পরিস্থিতির সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।

এ বিষয়ে এক অভিভাবক শাহিদা আক্তার সাথী বলেন,
"সামনেই শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই সময়ে স্কুল মাঠে মেলা চালু থাকায় সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত মেলা বন্ধ বা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেলা-সংলগ্ন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক বলেন,
"পরীক্ষার সময় শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইল শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভা

স্থানীয়দের মতে, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কেন্দ্রের নিকটবর্তী স্থানে দীর্ঘমেয়াদি মেলা বা উচ্চ শব্দসৃষ্টিকারী অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিবেশগত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের বক্তব্য জানতে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে যোগাযোগ করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন: কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের ফলে ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কিংবা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা প্রকাশিত স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই তথ্য উঠে এসেছে।

৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে অন্তত ১ হাজার ৭০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটির তথ্য জানাচ্ছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার উচ্চ রেজোলিউশনের রাডার চিত্রগ্রহণকারী স্যাটেলাইট ‘সেন্টিনেল-১’-এর তথ্যের বরাত দিয়ে ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের এবং জ্যামন ভ্যান ডেন হুক উল্লেখ করেন যে, ভূমিকম্পের পরদিন ২৫ জুন সংগৃহীত স্যাটেলাইট রাডার তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা ধ্বংস হয়েছে।

গবেষকদের মতে, ‘এটি একটি প্রাথমিক ও দ্রুত মূল্যায়ন। এতে ভূপৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তনের যে চিত্র পাওয়া গেছে, তা ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

তারা আরও বলেন, এই সংখ্যাকে শুধুমাত্র একটি প্রাথমিক সূচক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ, ঘটনাস্থলে গিয়ে এখনও এর সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

এদিকে, জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রড্রিগেজ সোমবার জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৮৯টি ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

নাসা জানিয়েছে, তাদের স্যাটেলাইটগুলো গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি ও তথ্যের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের দলগুলো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে এবং ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দখল ও দূষণে বিপন্ন গাইবান্ধার ঘাঘট-আলাই নদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


দখল ও দূষণে বিপন্ন গাইবান্ধার ঘাঘট-আলাই নদী

একসময় যে নদী দিয়ে বড় বড় সওদাগরি নৌকা চলাফেরা করতো, সেই ঘাঘট ও আলাই নদী বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। দখল ও দূষণের ফলে নদী দুটি এখন সরু খালে পরিণত হয়ে গেছে।

নদীর পানি এতটাই দূষিত হয়েছে যে, এটি এখন মশার প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে রূপ নিয়েছে। মরা ঘাঘটকে নান্দনিক লেকে রূপান্তরের জন্য সরকারি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, কিন্তু তা এখন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। বর্তমানে নদী ও খাল খনন কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় বাসিন্দারা নদী দুটিকে দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন।

সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী গাইবান্ধার একসময়ের খরস্রোতা নদী ছিল ঘাঘট। এ নদী দিয়েই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে নৌপথে ব্যবসাবাণিজ্য চলতো। নব্বইয়ের দশকে, জেলা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য শহরের উত্তর প্রান্তে লুপ কাটিং করে মূল প্রবাহ ঘুরিয়ে দেয়া হয়। এরপর শহরের ভেতরের প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশ মরা ঘাঘটে পরিণত হয়।

দখল ও দূষণের কারণে নদীটি এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনাসহ কচুরিপানার স্তূপ নদীর বুককে ভরাট করে ফেলেছে। নদীর চারপাশে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। নদীর বুক চিরে তৈরি হয়েছে একের পর এক পাকা ভবন। শহরের সব ড্রেনেজ লাইন এবং হাটবাজারের বিষাক্ত বর্জ্যের জন্য নদীটি শেষ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। পানির রং কুচকুচে কালো হয়ে গেছে এবং সেখানে মাছসহ কোনো জলজ প্রাণীও নেই। নদীটি এখন রোগব্যাধি ছড়ানোর একটি কারখানায় পরিণত হয়েছে।

গাইবান্ধা পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক জনি জানান, মরা ঘাঘট নদীকে একটি দৃষ্টিনন্দন লেক হিসাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ প্রশাসন নিয়েছিল। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হওয়ায় কাজটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে দুটি ব্রিজ ও কিছু কাজ করে সেই মহাপরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়েছে।

জেলা শহরের পাশে বয়ে চলা আলাই নদীরও একই অবস্থা। শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা ঘাঘট নদী থেকে উৎপন্ন আলাই নদীটি শহরের অংশে প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং মোট ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। নদীটির অস্তিত্ব এখন শুধুমাত্র সরকারি ম্যাপ ও খাতা-কলমে বিদ্যমান। বাস্তবচিত্র অনুযায়ী সেখানে আবাদি জমি এবং অধিকাংশ স্থানে স্থায়ী বাড়িঘর গড়ে উঠেছে। একসময়ের উত্তাল এই নদী বর্তমানে দূষণ ও দখলদারদের থাবায় মরা খালে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযান ও নদী খননের ঘোষণা বারবার এলেও তা কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকারের নদী ও খাল পুনঃখননের চলমান কার্যক্রমের আওতায় তারা এই নদী দুটির খনন চান।

ঘাঘট পাড়ের বাসিন্দা গোলাম হোসেন বলেন, 'শহরের বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ নদীটি এখন রোগব্যাধি ছড়ানো ও মশার তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে।'

আরেক বাসিন্দা রনি মিয়া বলেন, 'নদীটিকে পরিকল্পিতভাবে খনন করা হলে এটি শহরের পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হবে। দু-পাড়ের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় শহরের কোলজুড়ে বয়ে চলা নদী দুটির দখল ও দূষণ বন্ধে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, 'নদী দুটি রক্ষায় বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ দূষণ বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন কমিটির সভাপতি, সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, মো. মুজিবুর রহমান এবং জি এম নজরুল ইসলাম।

বিশেষ কমিটির আমন্ত্রণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার শুরুতে পূর্বের বৈঠকসমূহের কার্যবিবরণী অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল-২০২৬ সম্পর্কে আলোচনা ও রিপোর্ট প্রদান করা হয় এবং এই বিল সংসদে পেশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে বিশদ পর্যালোচনা করেন কমিটির সদস্যগণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘এক টাকায় বিচার বিভাগ চললে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে’: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


‘এক টাকায় বিচার বিভাগ চললে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে’: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে, এক টাকায় আইন ও বিচার বিভাগ চালানো সম্ভব নয়। তার মতে, এভাবে চললে দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

তিনি মঙ্গলবার (৩০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিনের আলোচনা উপলক্ষে এসব কথা বলেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

অধিবেশনে আইনমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের জন্য ২ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মঞ্জুরি দাবি পেশ করেন। কিন্তু বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য এই দাবি ছাঁটাই করে বরাদ্দ ১ টাকা করার প্রস্তাব দেন এবং বিচার বিভাগের নানা সংকট তুলে ধরেন।

ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, “নিম্ন আদালত পৃথক করা হলেও পদোন্নতি ও বদলিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।” তিনি বিচারক সংকট, মামলাজট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করেন।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, বিচার বিভাগের জন্য এই বরাদ্দ ‘অত্যন্ত অপ্রতুল’। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, “দেশে ২৫ লাখের বেশি মামলা পেন্ডিং রয়েছে। কিন্তু বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট স্থাপন বা পেপারলেস জুডিশিয়ারি করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কেরামত আলী থানা ও পুলিশের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের হয়রানি এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার দুর্বলতা তুলে ধরেন।

অপর দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, “বিচার বিভাগের বরাদ্দ জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিটিভির বরাদ্দের চেয়েও কম।” তিনি দেশে ৫০ লাখের বেশি মামলা জটের কথা উল্লেখ করে প্রবীণ ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেন।

এদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদ সদস্যদের এসব প্রস্তাব ও সমালোচনার জবাবে বলেন, “অন্য দাবির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা নিজেরাই যুক্তি দিয়েছেন, তবে এই দাবির ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে তারা পোশাক পরিহিত আইনজীবী হায়ার করে এনেছেন।”

তিনি ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোর স্ববিরোধিতা তুলে ধরেন এবং বলেন, “বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে দুই ধরনের দাবি এসেছে। একজন বলছেন বরাদ্দ বেশি হয়ে গেছে তাই ১ টাকায় কমানো হোক, আরেকজন বলছেন বরাদ্দ অনেক কম হয়ে গেছে তাই ১ টাকায় কমানো হোক। ১ টাকা দিয়ে যদি আইন বিভাগ চালাতে বলা হয়, তাহলে তো বিচার বিভাগের দরকার নাই, এটা একটা পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাক।”

আইনমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের দাবিগুলোকে ‘জনপ্রিয়’ কিন্তু কার্যপ্রণালী বিধির ১১৮ বিধির পরিপন্থি (মিসকনসিভড) বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ১ টাকা দিয়ে কীভাবে গোটা বিচার বিভাগ চালানো সম্ভব, তার কোনও বিকল্প নীতি ছাঁটাই প্রস্তাবে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে বাস্তবতায় এই বরাদ্দ বিচার বিভাগের জন্য অপ্রতুল হলেও আপাতত এর কোনও বিকল্প নেই।” আইনমন্ত্রী ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ করে মূল বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য সংসদের কাছে আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%