বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:১১ পি.এম
বাংলাদেশের বাইশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস আগে শপথ নেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে এই পদের মেয়াদ পাঁচ বছর।
বুধবার (২২ জুলাই) দেশের কয়েকটি পত্রিকায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ করার সম্ভাবনা নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব খবরের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, পদত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ে উল্লেখ করা হতে পারে।
একইসঙ্গে, সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগ করার জন্য বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও বিভিন্ন সংবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে, তিনিও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন সম্পর্কে শুনেছেন বলে জানান। সাংবাদিকদের কথায় তিনি বলেন, ‘আপনি নিজেই বললেন, এটা একটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তো গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। আর যদি এটি সত্যি হয়, আমরা তাকেও দেখবো।’
এ সময় সাংবাদিকরা গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার বিষয়ে উল্লেখ করলে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘গণমাধ্যমে আসছে? হতে পারে, আপনারা রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞেস করেন।’
প্রক্রিয়া কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চান কিংবা স্বাস্থ্যগত কারণে, যে কারণে হোক, তার সেটি করার অপশন রয়েছে।
এক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ কী এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের কোনো পদক্ষেপ এখানে নেই।’
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত উল্লেখ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে তো আর কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় দেখছেন যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, আমিও শুনছি।’
রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করছেন কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে বিদেশে গিয়েছিলেন, তো চিকিৎসা তো নিতেই পারেন।’
কিন্তু পাঁচ বছরের নির্ধারিত মেয়াদের আগে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, এবং পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কিভাবে হবে এসব বিষয়ে মানুষের মাঝে কৌতূহল রয়েছে। রাষ্ট্রপতি কার কাছে পদত্যাগপত্র দেবেন অথবা তার অনুপস্থিতিতে কে দায়িত্ব পালন করবেন- এসব প্রশ্ন আলোচনায় আসছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা জানান, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। ম্যাক্সিমাম তিন মাসের মধ্যে সংসদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে? বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ দুইবার দায়িত্ব পালন করতে পারেন তিনি।
২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। সে সময় আওয়ামী লীগের মনোনয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার দিক থেকে প্রথম স্থানে থাকা রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সময়ের হিসাবে প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে এই পদে রয়েছেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
তাহলে মেয়াদের আগে পদত্যাগ করতে চাইলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, সেটির বিস্তারিত নির্দেশনা সংবিধানে রয়েছে বলে জানান সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক।
পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানের নিয়ম অনুসারে স্পিকারকে তাকে পত্র জমা দিতে হবে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ সম্পর্কে সংবিধানের ৫০ এর তিন অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে শাহদীন মালিক বলেন, ‘স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করবেন।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে দেওয়া পত্রটি সাধারণত বেশ ছোট হয়ে থাকে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘উনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন। স্বেচ্ছায় হোক বা চাপে পড়ে হোক, যেটাই হোক উনি লিখবেন, আমি স্বাস্থ্যগত বা ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। পদত্যাগ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। এটি সাধারণত দুই লাইনের চিঠি হয়। সাধারণত ব্যক্তিগত কারণই উল্লেখ করেন সকলে।’
একইসঙ্গে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সাথে সেটি গ্রহণ কিংবা গ্রহণ না করার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও সংবিধান বিশেষজ্ঞগতভাবে উল্লেখ করেন এই আইনজীবী।
তিনি বলেন, ‘এসব পদে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হয়ে যায়। এর অর্থ পদত্যাগপত্রটি স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর থেকে কার্যকর হবে, অর্থাৎ এখানে গ্রহণ করার বা না করার কিছুই নেই। পড়ে গেলেই এটি গ্রহণযোগ্য।’
পদত্যাগপত্র দেওয়ার পরে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই পদ শূন্য থাকবে না, এমনটাই জানান শাহদীন মালিক। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে অনুপস্থিতি কালীন রাষ্ট্রপতি পদে স্পিকার থাকবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে, অথবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, সেই পরিস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত, কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’
এই অনুচ্ছেদটির ব্যাখ্যা করে আইনজীবী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করা বা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে, সে সময় স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’
পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষের পূর্বে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে ওই পদ শূন্য থাকবে না, বরং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি থাকবেন এবং সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে।
এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ওই পদ শূন্য হলে, মেয়াদ শেষের তারিখের আগে ৯০ অথবা সর্বনিম্ন ৬০ দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তবে এই নির্বাচন সম্পর্কিত কয়েকটি শর্ত সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যার মামলার আসামি রনি, যিনি ওরফে ভাঙারি রনি নামে পরিচিত, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) দ্বারা। এই সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ডিবি রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রেজাউল করিম এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১২টার দিকে রনিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি রমনা জোনাল টিম মঙ্গলবার মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি অস্ত্রসহ রনি, যিনি ওরফে ভাঙারি রনি, তাকে গ্রেপ্তার করে। ভাঙারি রনি টিটন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
তিনি আরও জানান, তাকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নতুন একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় ৭৪ বছর পরে আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতায় খুঁজে পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা প্যান অ্যামের বহুদিনের হারিয়ে যাওয়া বিমান প্যান অ্যাম ফ্লাইট ৫২৬এ-এর ধ্বংসাবশেষ। ১৯৫২ সালের মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ৬৪ জন যাত্রী এবং পাঁচজন বিমানকর্মীর মধ্যে মাত্র ১৭ জন বেঁচে ছিলেন। বাকি সবাই সমুদ্রে প্রাণ হারান।
উদ্ধারকারী দলের তথ্য অনুযায়ী, পুয়ের্তো রিকোর উত্তর উপকূল থেকে কিছু দূরে, সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ২ হাজার ফুট গভীরে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে একাধিক অনুসন্ধান পরিচালিত হলেও, এবারই প্রথম আধুনিক উচ্চ-রেজোলিউশনের সোনার প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের ড্রোন ব্যবহার করে এ সফলতা অর্জিত হয়েছে।
এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন এবং ডিপ সি ভিশন। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট রাস ম্যাথিউস বলেন, "এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর ও আবেগঘন একটি আবিষ্কার। বহু বছর আগে এখানে ঘটে যাওয়া সেই ট্র্যাজেডিকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।"
তদন্তে জানা যায়, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটির তৃতীয় ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। তখন বিমানটি মাত্র ৩৫০ ফুট উচ্চতায় ছিল। পাইলট ক্যাপ্টেন জন সি. বার্ন বিমানটিকে পুয়ের্তো রিকোতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই চতুর্থ ইঞ্জিনও বিকল হয়ে পড়ে। ফলে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে সমুদ্রে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বিমানটি সমুদ্রে অবতরণের সময় দু’টুকরো হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর বহু যাত্রী বিমানের ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করলেও উত্তাল সমুদ্র ও হিমশীতল পানির কারণে অধিকাংশকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এই দুর্ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক পরিবর্তন আনে। যাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নির্দেশনা, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ এবং বিমানের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক অভিযানে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসাবশেষের প্রায় সাড়ে তিন লাখ ছবি তোলেন। তবে দুর্ঘটনায় নিহতদের দেহাবশেষ উদ্ধারের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী বাংলাদেশের মধ্যে কোনো রোগাক্রান্ত গ্রামবাসী যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারান, তা নিশ্চিত করার জন্য মানবিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে, রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
ডা. জুবাইদা বলেছেন, ডাক্তারদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশ। তারা নিশ্চয়ই মেধা, শ্রম, অধ্যবসায় ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকলের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। দেশের গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসকের অভাবে গ্রামবাসীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে যদি দেশবাসী সেবার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যান, তাহলে নিশ্চয়ই এই সমস্যার সমাধান আছে।
বলেন, দেশে প্রতি ১ হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ০ দশমিক ৮৩। এর মানে হল একজন চিকিৎসককে গড়পড়তা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ রোগীর সেবা দিতে হয়। গ্রামাঞ্চলে এই অনুপাত আরও বৈষম্যপূর্ণ। কিন্তু আমরা যদি শিক্ষাজীবন থেকেই দেশসেবার অঙ্গীকারে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে কর্মরত, অথচ দেশের ৭৮ শতাংশ মানুষ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করেন। এছাড়া প্রতি ১ হাজার মানুষের বিপরীতে নার্সের সংখ্যা মাত্র ০ দশমিক ৫৪৯। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতি ১ হাজার মানুষের জন্য ২ দশমিক ২৮ জন চিকিৎসক এবং ১ দশমিক ৪৮ জন নার্স থাকা উচিত। কিন্তু দেশে সরকারি চিকিৎসকের অনুপাত প্রতি ৬ হাজার ৫০০ জনে মাত্র একজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনপ্রিয় আলেম ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ সরকারকে রেলপথে নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এ আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪টা ৬ মিনিটে তিনি এ বিষয়ে একটি স্টাটাস দেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, এই দেশে পাথর ছুড়ে অন্ধ করে দেওয়াও কিছু মানুষের কাছে বিনোদন! কী অমানবিক এবং ভয়ানক অসুস্থ সমাজে আমরা বসবাস করছি। চলন্ত ট্রেনে প্রায়ই পাথর নিক্ষেপ এবং অন্ধ হওয়ার মতো নির্মম ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়। যারা এই অমানবিক অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের অধিকাংশই ঝরে পড়া কিশোর।
এই নৃশংসতা থামাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রেলপথে নিরাপত্তা জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ ও নজরদারি বাড়ানো, দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ উল্লেখ করেন, রেললাইনের পাশের মসজিদের ইমাম, আলেম ও সচেতন নাগরিক সমাজেরও এই বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে উদ্যমী তরুণেরা মাঝে মাঝে পাহারার ব্যবস্থা করতে পারে।
তিনি বলেন, রেল তুলনামূলক নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত মাধ্যম। লক্ষ লক্ষ যাত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে রেলপথকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করা এখন সময়ের অন্যতম দাবি।
একই পোস্টের কমেন্ট বক্সে তিনি আরও লেখেন, পাথর ছোড়া শুধু একটি অপরাধ নয়; এটি সামাজিক অবক্ষয়ের গভীর লক্ষণ। যখন একটি কিশোর অন্যের চোখ নষ্ট করে আনন্দ খুঁজে পায়; তখন বুঝতে হবে সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার নয়—পরিবার, শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক পরিবেশেও বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, একই সমাজে আমরা কিশোর গ্যাং, মাদক, পর্নোগ্রাফির প্রভাব, আত্মহত্যার প্রবণতা, সহিংসতা ও নানা বিকৃত আচরণের উত্থানও দেখছি। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; একই অবক্ষয়ের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, তাই শুধু অপরাধীকে শাস্তি দিলেই হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্র—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যদি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে এই সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ