০৮:২২ পি.এম
মৃদু তাপপ্রবাহে পুড়ছে বরিশাল। চলমান তাপদাহে থমকে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান নগরীর স্বাভাবিক জনজীবন। আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, এ মাসে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকতে পারে।
রোববার (৮ জুন) পূর্বাভাসে আরও এই তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, দিন দিন তাপমাত্রার পারদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভোগান্তির কারণে হাসপাতালে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়রিয়া, ডিহাইড্রেশনসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে অসুস্থ সাংবাদিকদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিল
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ উঁচুতে থাকবে। এই মাসে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকতে পারে বলেই জানা গেছে।
তবে পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের পেছনে শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়, বরং অপরিকল্পিত নগরায়ন ও যন্ত্রের অবাধ ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি দায়ী।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নগরীর প্রায় ২৫ হাজার ভবনে গড় হিসেবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) সংখ্যা প্রায় পৌনে দুই লাখ। এসব এসি থেকে প্রতিদিন নির্গত কোটি কোটি কিউবিক ফুট গরম বাতাস পুরো শহরকে যেন একটি জ্বলন্ত ওভেনে পরিণত করেছে।
নগরীর চকবাজার এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক কালাম মিয়ার সঙ্গে; তিনি জানান, ‘রাস্তায় নামলে মনে হয় ওপর থেকে আগুন পড়ছে। আবার বড় বড় বিল্ডিংয়ের পাশ দিয়ে যখন যাই, মনে হয় গরম বাতাস গায়ে আইসা লাগে। রিকশা চালানোই এহন সবচেয়ে বেশি কষ্টের।’
আরও পড়ুন: মাইশার মৃত্যুর পর সীতাকুণ্ডে ২০ স্পিডব্রেকার, যানজট বেড়েছে
একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী লামিয়া আক্তার। তিনি বলেন, ‘আগে বরিশালে এত গরম লাগত না। এখন রাস্তায় বের হলে দম বন্ধ হয়ে আসে। চারদিকে শুধু ইট-পাথর আর এসি। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবন এখন ওষ্ঠাগত।’
নগরীর কৃত্রিম উত্তাপ ও অপরিকল্পিত বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নগরপরিকল্পনাবিদ স্থপতি নূরুল হাসান সাক্ষর। তিনি বলেন, ‘আমাদের নগর পরিকল্পনায় মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে। শহরে দিন দিন গাছপালা কমছে, আর তার জায়গা দখল করছে কাঁচ ঘেরা বহুতল ভবন। এই কাঁচের ভবনগুলো প্রচুর তাপ শোষণ করে। আবার ভেতরের কক্ষগুলো শীতল রাখতে মানুষ অবাধে এসি ব্যবহার করছে, যা বাইরের পরিবেশকে একটা জ্বলন্ত চুল্লিতে রূপান্তর করছে। আমাদের গ্রিন আর্কিটেকচার বা পরিবেশবান্ধব ভবনের দিকে দ্রুত নজর দেওয়া উচিত।’
এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর সমন্বয়ক লিঙ্কন বায়েন জানান, ‘প্রকৃতির ওপর মানুষের এই অত্যাচারই এখন আমাদের দিকে তেড়ে আসছে। এসিগুলো থেকে নির্গত ক্লোরোফ্লোরো কার্বন পরিবেশের ওজোন স্তরের মারাত্মক ক্ষতি করছে, একইসঙ্গে এই উত্তপ্ত বাতাস ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আটকে থেকে তৈরি করছে ‘হিট আইল্যান্ড’। এ কারণে বাতাসে আর্দ্রতা ও গরমের অনুভূতি দুটোই তীব্র হচ্ছে।’
আবহাওয়া অধিদফতর বরিশাল অফিসের উচ্চপর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান জানান, ‘চলতি মাসে মৃদু তাপদাহ বইছে এবং মাসজুড়েই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।’
আরও পড়ুন: নওগাঁ সীমান্তে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নব-আদাতলা বিওপি উদ্বোধন
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, কৃত্রিম উত্তাপে প্রতি বছর বরিশালে গড় তাপমাত্রা বাড়ছে দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন