ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রতিবেশীর ঘর বাঁচাতে নিভে গেল সোহাগের জীবন


প্রতিবেশীর ঘর বাঁচাতে নিভে গেল সোহাগের জীবন

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে একই বাড়ির দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাইয়ের ঘরের আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হওয়া মো. সোহাগ (৪৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে ঢাকার বার্ন ইউনিট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, গত ৩ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কালুয়াই গ্রামের সুলতান চকিদার বাড়িতে আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হন সোহাগ।

নিহত সোহাগ ওই বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার ছেলে। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর সোহাগের দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই সালাউদ্দিনের বসতঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির ছয়টি ঘর পুড়ে যায়। আগুন দেখে অন্যদের সঙ্গে সোহাগও তা নেভাতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে সালাউদ্দিনের ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করার সময় তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকার বার্ন ইউনিট হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত দিন পর তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজগর হোসেন সহেল বলেন, সোহাগ বেকার ছিলেন। তিনি খুব অসহায় ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোনাইমুড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডিউটি অফিসার ফায়ার ফাইটার নোমান হোসেন বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ওই দিন ছয়টি ঘর পুড়ে যায়। আগুন লাগার খবর পেয়ে সোহাগও অন্যদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। একপর্যায়ে একটি ঘর থেকে আসবাবপত্র বের করতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগের মৃত্যু হয়েছে বলে তার স্বজনেরা জানিয়েছেন। তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিতে আবেদন করেছেন। এ জন্য সোনাইমুড়ী থানা থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় একটি ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করতে গিয়ে তিনি আগুনে দগ্ধ হন।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুয়েটে কোডিং পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে কার্যকর হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


রুয়েটে কোডিং পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে কার্যকর হয়নি

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) বহুল প্রতীক্ষিত ‘ইউনিক কোডিং পদ্ধতি’ চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ দেখা যায়নি। পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি বিভাগে এ পদ্ধতি চালুর কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিশ্রুতিটি এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ১২ দফা দাবির অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল উত্তরপত্রে রোল নম্বরের পরিবর্তে কোড প্রবর্তন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২ মে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের (২৫ সিরিজ) তিনটি বিভাগ—কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট (বিইসিএম) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই)—এ পরীক্ষামূলকভাবে কোডিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নির্ধারিত তিনটি বিভাগে সফলভাবে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের পর পর্যায়ক্রমে সব বর্ষ ও বিভাগে তা সম্প্রসারণ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিভাগ তিনটির প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় এ পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটেনি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সূত্রে কোডিং পদ্ধতির প্রাথমিক বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকটিতে ইতোমধ্যে কোডিং পদ্ধতি চালুর দৃশ্যমান অগ্রগতির তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পরীক্ষার উত্তরপত্রে কোডিং পদ্ধতি চালু রয়েছে।

অন্যদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিকভাবে ছয়টি বিভাগে এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ইতিহাস ও ইংরেজি বিভাগে এ পদ্ধতির আওতায় পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সব পরীক্ষায় কোডিং পদ্ধতি চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এ ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও রুয়েটের মতো একটি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এমন স্থবিরতায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়ে রুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তৌহিদ আরিফ খান চৌধুরী জানান, কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যানকে দিয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ইতোমধ্যে কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে পরীক্ষামূলকভাবে এ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও নির্ধারিত ফরম্যাট পেলে টপশিট প্রস্তুত, কোডিং-ডিকোডিং এবং ফলাফল প্রক্রিয়াকরণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, ‘কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কোথাও জটিলতা থাকলে তা ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।’ পাশাপাশি পরীক্ষা ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রশ্ন প্রণয়ন, মডারেশন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের সঙ্গে একাধিক শিক্ষক যুক্ত থাকেন। এ ছাড়া উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের (রিভিউ) সুযোগ থাকায় কোনো শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র এককভাবে অবমূল্যায়িত হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশেই কম।

প্রশাসনের বক্তব্যের বিপরীতে শিক্ষার্থীরা জানান, উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কোডিং পদ্ধতির বিকল্প নেই। দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে দ্রুত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি এবং সব বিভাগে কোডিং পদ্ধতি কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুভ মহালয়া, কুমিল্লার মন্দিরে দেবীর আগমনের অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


শুভ মহালয়া, কুমিল্লার মন্দিরে দেবীর আগমনের অপেক্ষা

ভোরের আলো ফোটার পূর্বে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপস্থিতি শুরু হয়। কেউ ফুল নিয়ে আসে, কেউ পূজার ডালা নিয়ে। ধূপের মনমুগ্ধকর গন্ধ, মন্ত্রোচ্চারণ এবং চণ্ডীপাঠের সুরে মন্দিরের চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে।

দেবীপক্ষের সূচনা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো কুমিল্লার বিভিন্ন মন্দিরে মহালয়া উপলক্ষে আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ভক্তদের কাছে পৌঁছে যায়।

মহালয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি বিশেষ ধর্মীয় দিন। এই দিনেই দেবীপক্ষের সূচনা ঘটে। পিতৃপক্ষের অবসানের পর দেবী দুর্গাকে বরণ করার প্রতীক্ষা শুরু হয়। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা এগিয়ে আসতে থাকে।

মহালয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো চণ্ডীপাঠ। দেবী দুর্গার আবির্ভাব, অসুরবিনাশ এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়ের কাহিনী এই পাঠের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়। ভক্তদের কাছে এর ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে, পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি, প্রার্থনা এবং নতুন আশার বার্তা প্রদান করে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুরে শ্রী শ্রী রাজ রাজেশ্বরী কালী মাতার মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, মহালয়া উপলক্ষে প্রাঙ্গণ সজ্জিত করা হয়েছে। ধর্মীয় কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করছেন শত শত ভক্ত। শ্রী শ্রী চণ্ডীপূজা, চণ্ডীপাঠ, বর্ণনা-কীর্তন, ধর্মীয় নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন এবং প্রসাদ বিতরণসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মন্দিরে আসা অনেকের কাছে দিনটি শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার পালনের জন্য নয়, বরং পরিবার-পরিজন ও পরিচিতদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার একটি উপলক্ষও।

মন্দিরের আয়োজকরা জানান, এ বছর কুমিল্লার ১৭টি গীতাশিক্ষালয় থেকে ৩০০ শিক্ষার্থী এবং দুই হাজার অভিভাবক ও ভক্ত মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণ করেন।

অ্যাড. স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, কুমিল্লায় মহালয়ার আয়োজন বৃহত্তর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়। দেবীপক্ষের সূচনায় প্রার্থনা ও ভক্তির মাধ্যমে ভক্তরা দেবীর আগমনকে স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আজ থেকে দুর্গোৎসবের দিনগুলোর জন্যও অপেক্ষা শুরু হয়।

মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর থেকেই দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। মণ্ডপ সাজানো, প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জা, পূজার উপকরণ সংগ্রহ এবং স্বেচ্ছাসেবীদের দায়িত্ব বণ্টন—সব মিলিয়ে উৎসব ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মন্দিরকেন্দ্রিক এসব আয়োজন ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ দেব বলেন, মহালয়া কেবল একটি তিথির নাম নয়; এটি অপেক্ষা, স্মরণ এবং আশার সম্মিলন। অশুভের বিনাশ এবং শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় দিনটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে নতুন উদ্দীপনা জাগায়।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুমিল্লায় মোট ৮৬০টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মহানগরী এলাকায় ১৩১টি মণ্ডপে আয়োজন চলছে। গত বছরের তুলনায় এবছর মণ্ডপের সংখ্যা ৪২টি বেড়েছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আকতার বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আজ (১০ অক্টোবর) থেকে মণ্ডপগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাইকগাছায় নানা প্রতিকূলতায় আমন আবাদে ১৫০ হেক্টর ঘাটতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


পাইকগাছায় নানা প্রতিকূলতায় আমন আবাদে ১৫০ হেক্টর ঘাটতি

খুলনার পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। অতিবৃষ্টির ফলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চারা রোপণের সময় বৃষ্টির ঘাটতি, লবণাক্ততা এবং জলাবদ্ধতার কারণে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কম আবাদ হয়েছে। এর ফলে ফসলের ফলন এবং লাভ নিয়ে কৃষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। কিছু কৃষক ধানের পরিবর্তে মাছ চাষে বেশি লাভের সম্ভাবনা দেখছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। এর মানে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

পাইকগাছার উপকূলীয় জনপদের বহু মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাদের মধ্যে আমন ধান অন্যতম প্রধান ফসল। বর্ষার বৃষ্টি ও জমির আর্দ্রতাকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা এই ধান চাষ করেন। তবে এবারের মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টি এবং পরে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চাষাবাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে বীজতলা তৈরি করা হলেও অতিবৃষ্টির কারণে সেগুলো পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে নতুন করে চারা উৎপাদনের প্রয়োজন দেখা দেয়। পরে চারা রোপণের সময় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় অনেক জমিতে সময়মতো রোপণ করা সম্ভব হয়নি। কিছু জায়গায় লাগানো চারা মারা যাওয়ায় জমি অনাবাদি থেকে গেছে।

কৃষির জন্য আবহাওয়ার পাশাপাশি জমিতে পানির সঠিক ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে চারা রোপণ ব্যাহত হয়। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার অভাবে নতুন চারা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। উপকূলীয় এলাকায় মাটির লবণাক্ততাও ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করতে পারে। পাইকগাছায় এসব প্রতিকূলতা আমন আবাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

পাইকগাছা পৌরসভার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, "ধান চাষের শুরু থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে খরচ করতে হয়। জমি চাষ, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার ও রোগবালাই দমনের পাশাপাশি ধান কাটার জন্য শ্রমিক নিয়োগ করতে হয়। আবহাওয়ার কারণে চারা নষ্ট হলে খরচ আরও বেড়ে যায়। কিন্তু উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে।"

তিনি আরও বলেন, "কৃষি উপকরণের দাম ও উৎপাদন খরচ কমানো গেলে কৃষকেরা স্বস্তি পাবেন। পাশাপাশি ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়াজনিত প্রতিকূলতার পাশাপাশি জমির ব্যবহার পরিবর্তনের বিষয়টিও আমন আবাদের ওপর প্রভাব ফেলছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের ইউনিয়নভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেলুটি ইউনিয়নে সর্বাধিক ৩ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। গড়ইখালী ইউনিয়নে ২ হাজার ৩১৫ হেক্টর এবং চাঁদখালী ইউনিয়নে ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

এছাড়া কপিলমুনি ইউনিয়নে ৮৮০ হেক্টর, লতা ইউনিয়নে ৮৭০ হেক্টর, লস্কর ইউনিয়নে ৮২০ হেক্টর, হরিঢালী ইউনিয়নে ৮১৫ হেক্টর, গদাইপুর ইউনিয়নে ৫৯০ হেক্টর, সোলাদানা ইউনিয়নে ৫৮০ হেক্টর ও রাড়ুলী ইউনিয়নে ৫২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। পৌরসভা এলাকায় আবাদ হয়েছে ১৪০ হেক্টর জমিতে।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একরামুল হোসেন বলেন, "চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে কয়েক দফায় বীজতলা নষ্ট হয়েছে। পরে চারা রোপণের সময় বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় অনেক জমিতে সময়মতো চারা লাগানো সম্ভব হয়নি। কিছু জমিতে রোপণ করা চারাও মারা গেছে। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার সমস্যাও রয়েছে। এসব কারণে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কম আবাদ হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কৃষকরা যাতে ভালো ফলন পান, সেজন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জমির ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত জাত নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমন ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষকেরা যাতে উৎপাদন ধরে রাখতে পারেন, সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল সর্বাধিক। ২০২০ এবং ২০২১ সালেও পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তবে বর্তমান সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে ডেঙ্গু অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি টিকাদান, ই-ট্র্যাকার ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি বললেও রাজশাহী বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা কম জানিয়ে বলেন, মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে; তবে যথাযথ চিকিৎসা ও প্রকোপ কমানোর জন্য কাজ চলছে।

তিনি আরো বলেন, অতীতে গণমাধ্যমে লেখালেখি হলে তবেই সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ নিত। কিন্তু এবার তিন মাস আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করে কাজ শুরু করা হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলছে এবং ডেঙ্গু চিকিৎসায় দুই হাজার চিকিৎসক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি অতীতের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুহার কম বলেও দাবি করেন।

হামের প্রকোপ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় টিকা না দেয়ার কারণে পরিস্থিতি এ পর্যায়ে এসেছে। হাম করোনার চেয়ে অধিক সংক্রামক, একবার শুরু হলে থামানো কঠিন। তাই শত চেষ্টাতেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। টিকাদান ক্যাম্পেইন চলছে এবং এ পর্যন্ত দুই কোটি শিশুকে টিকা প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব কমপ্লেক্সে রোগ নির্ণয়ের সুবিধা থাকবে এবং ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপস্থিতি বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ হয়েছে। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় পাঁচ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ছয় মাসে চিকিৎসক, নার্স এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরেছে বলে তিনি দাবি করেন।

সেমিনারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%