০২:০২ পি.এম
নোয়াখালী জেলা প্রশাসন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রত্যেক নাগরিকের জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। এই আহ্বান নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় জানানো হয়।
আজ সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সভায় বলেন, অনেক অভিভাবক না বুঝে সন্তানকে বাল্যবিয়ে দেন। তারা বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না করেই বিবাহ সম্পন্ন করেন। ফলে পরবর্তীতে কোনো সমস্যা হলে আইনি আশ্রয় নিতে পারেন না। বাংলাদেশের আইনে প্রত্যেক নাগরিকের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তাই বাল্যবিবাহ বন্ধে নোটারি, পাবলিক, কাজী, ইমাম, পুরোহিতদের সকলকেই ভূমিকা রাখতে হবে। বিয়ে পড়ানোর আগে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করে বর ও কনের বয়স নিশ্চিত করতে হবে। কোনো যুক্তিতেই বাল্যবিয়েকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।
আরও পড়ুন: ৯৬ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় ভাগ নেওয়ার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম গ্রেপ্তার
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও যৌন নির্যাতন বন্ধে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাসাবাড়িতে শিশু ও গৃহকর্মীদের উপর নির্যাতন করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারে এসব ঘটনা বেশি ঘটে। এইসব নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের প্রতি সাইবার বুলিংও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিরাপদ সাইবার জগত তৈরিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শান্তনু কুমার দাশ। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুন নাহার সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সমাজে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীরা শুধুমাত্র পুরুষের নয়, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের দ্বারাও নির্যাতনের শিকার হন। তাই নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নারী-পুরুষ উভয়কেই সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই সুশাসন ও পারিবারিক মূল্যবোধের মধ্যে বড় করে তুলতে হবে। যাতে তারা কোনো ধরনের অপরাধ, হয়রানি বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, তার দিকে নজর রাখতে হবে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (চাটখিল সার্কেল) মনীষ দাশ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. পপি রানী কুন্ডু, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইশরাত নাসিমা হাবীব, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল মবিন মিয়া। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নারী অধিকার কর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার দিতে বাধার অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন