ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাভারের মহিলা মাদ্রাসা পরিদর্শন, কওমি আলেমদের শাস্তি নিশ্চিতে আশ্বাস


সাভারের মহিলা মাদ্রাসা পরিদর্শন, কওমি আলেমদের শাস্তি নিশ্চিতে আশ্বাস

কওমি অঙ্গনের শীর্ষ আলেমরা সাভারের বিরুলিয়ার কালিয়াকৈরে অবস্থিত তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন, যেখানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার দুপুরে মাদ্রাসা পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধিদলে ছিলেন—হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও আল হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমান, বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নাজমুল হাসান, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী প্রমুখ।

পরিদর্শনের পর আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, "মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মাওলানা আবদুল বারীর বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।" তিনি আরও জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তারা সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবেন।

আরও পড়ুন: একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগিনার প্রেমের জেরে ব্যবসায়ী হত্যা

তিনি প্রশ্ন তোলেন, "অন্যায় বা দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে একজন মানুষকে অপরাধী হিসেবে গোটা সমাজের সামনে চিত্রায়িত করা—এটি কোন ধরনের নিয়ম?" এ প্রসঙ্গে তিনি গোটা জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখেন।

মাওলানা মাহফুজুল হক আরও বলেন, "অপরাধ প্রমাণিত হলে তার যথোপযুক্ত শাস্তির জন্য আমরা উদ্যোগী হয়ে ভূমিকা পালন করব।" তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী আইনের শাস্তি কার্যকর না থাকায় দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাবেন।

তিনি বলেন, "কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, আলেম-উলামা ও মুরুব্বিদের অবহিত করা যেত।" তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে মাদ্রাসাটিতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

মাদ্রাসাটিতে হামলার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত আসবাবপত্রসহ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন সামগ্রী তছনছ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পরিবারসহ সেখানে বসবাস করায় তাঁদের ব্যক্তিগত অর্থকড়ি, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামালও লুট করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জামায়াত-এনসিপির ৯০ এমপির মেধা-যোগ্যতা বনাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাশেদ খান

এক ব্যক্তির অপরাধের দায়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, "কোনো ব্যক্তি অপরাধী হলেও সেই প্রতিষ্ঠানের কী অপরাধ?" তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। পরিদর্শনকালে নেতারা মাদ্রাসাটির সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

জানা গেছে, তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আবদুল বারীর (৫০) বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্তের স্ত্রী ও মাদ্রাসার পরিচালক তোহফাতুল জান্নাহকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অপরদিকে, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও নগদ টাকাসহ মালামাল লুটের অভিযোগে অপর একটি মামলার খবরও পাওয়া গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমনিরহাটে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গণ শৌচাগার নির্মাণের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


লালমনিরহাটে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গণ শৌচাগার নির্মাণের আহ্বান

লালমনিরহাট, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ : শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দৃশ্যমান স্থানে পর্যাপ্ত গণ শৌচাগার নির্মাণের জন্য লালমনিরহাটের বাসিন্দারা আহ্বান জানিয়েছেন। বাসসের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা শহরবাসীর দুর্ভোগ তুলে ধরতে গিয়ে প্রশাসনের কাছে এই আবেদন করেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, লালমনিরহাট শহরে গণশৌচাগারের অভাবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজনের সময় শৌচাগারের অভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত ১৪টি গণশৌচাগারের অধিকাংশই তালাবদ্ধ, পরিত্যক্ত অথবা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যমান শৌচাগার সংস্কার, নতুন স্থাপনা নির্মাণ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ এবং সরকারি স্থাপনার ভেতরে কিছু শৌচাগার থাকলেও সেগুলো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয়। রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি শৌচাগারও তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সচল কিছু শৌচাগার থাকলেও সেগুলো ব্যবহার উপযোগী নয়।

জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ৯টি ওয়ার্ডের লালমনিরহাট পৌরসভার আয়তন ১৭ দশমিক ৯৫ বর্গকিলোমিটার। ২০০৫ সালে পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, পৌরসভার জনসংখ্যা ৬৭ হাজার ৩৫৫ জন। একই জনশুমারি অনুযায়ী, সদর উপজেলার জনসংখ্যা ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ৯১ হাজার ৩৭১ জন বা ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ নগর এলাকায় বসবাস করেন।

সূত্র অনুযায়ী, লালমনিরহাট পৌরসভা ও সদর এলাকার প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭২৬ জন মানুষ শহরকেন্দ্রিক নাগরিক সেবা গ্রহণ করে। এছাড়া জেলার পাঁচ উপজেলার মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, আদালত এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন জেলা শহরে আসেন। জেলার মোট জনসংখ্যা ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৪০৬ জন। ফলে শহরের বিদ্যমান নাগরিক সেবার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

সদর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) ও পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরে নির্মিত ১৪টি গণশৌচাগারের মধ্যে ডিপিএইচইর নয়টি এবং পৌরসভার পাঁচটি।

ডিপিএইচইর নির্মিত নয়টি গণশৌচাগারের মধ্যে চারটি নির্দিষ্ট স্থাপনার ভেতরে, দুইটি তালাবদ্ধ এবং তিনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব শৌচাগারের কোনো পরিচালনাকারী নেই। এগুলো বিডিআর হাট, কালেক্টরেট মাঠ, স্মৃতিসৌধের পাশে, মার্কস মসজিদের ভেতরে, শহীদ শাহজান কলোনি, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে মুক্তমঞ্চের পাশে, চার্চ অব গড গির্জার পাশে এবং নয়ারহাট বাজারে অবস্থিত। অন্যদিকে, পৌরসভা দ্বারা নির্মিত পাঁচটি গণশৌচাগারের মধ্যে দুইটি তালাবদ্ধ, একটি উন্মুক্ত এবং দুইটি পরিত্যক্ত রয়েছে।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আখতারুজ্জামান বাবু বাসসকে বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে গণ শৌচাগার না থাকায় নারী-পুরুষদের বিপাকে পড়তে হয়, যা মানুষের জন্য স্বাস্থ্যহানিকর।"

পাটগ্রাম থেকে জেলা জজ আদালতে সেবা নিতে আসা হাফিজুর রহমান বলেন, "শহরের দৃশ্যমান স্থানে গণ শৌচাগার না থাকায় প্রয়োজনের সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।"

বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমান বেলি বেগম জানান, "বাসস্ট্যান্ডে একটি শৌচাগার থাকলেও সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত একজনের বাসায় গিয়ে শৌচাগার ব্যবহার করতে হয়েছে। যারা শিশুদের নিয়ে শহরে আসেন, শৌচাগারের অভাবে তাদেরও চরম সমস্যায় পড়তে হয়।"

তিনি আরও বলেন, "বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য দৃশ্যমান, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য গণ শৌচাগার থাকা জরুরি।"

পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলমগীর হক বলেন, "প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন গণ শৌচাগার নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান শৌচাগারগুলো সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিচালনাকারী নিয়োগ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।"

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম সাদেকী বাসসকে বলেন, "বিশেষ করে নারীদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারযোগ্য গণশৌচাগারের সংকট রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও জনসমাগমস্থলে দৃশ্যমান ও পর্যাপ্ত গণ শৌচাগার নির্মাণ করা প্রয়োজন।"

লালমনিরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবু-আল-হাজ্জাজ বাসসকে বলেন, "পর্যাপ্ত গণ শৌচাগার না থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পুরোনো শৌচাগার সংস্কারের পাশাপাশি নতুন শৌচাগার নির্মাণ করা উচিত।"

তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘ সময় প্রস্রাব বা পায়খানা আটকে রাখলে মূত্রনালির সংক্রমণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও দৃশ্যমান স্থানে পর্যাপ্ত গণ শৌচাগার নির্মাণ জরুরি।"

লালমনিরহাট পৌরসভার কর্মকর্তা ও শহর পরিকল্পনাবিদ এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামান তালুকদার জানান, "এ বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজেট দিলেই কাজ শুরু করা হবে।"

লালমনিরহাট সদরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. বাদশাহ্ আলমগীর বাসসকে বলেন, "তারা শৌচাগার নির্মাণ করে স্থানীয়দের দায়িত্বে দিয়ে দেন। হয়তো এ কারণেই সেগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না। বর্তমানে নতুন শৌচাগার নির্মাণের কোনো প্রকল্প নেই। নতুন করে প্রস্তাব দিতে হবে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

লালমনিরহাট পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হরানন্দ রায় বলেন, "পৌর এলাকার গণ শৌচাগার সংকট সমাধানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পরিকল্পনা প্রস্তাব দিতে বলেছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে দ্রুত স্থান নির্ধারণ করে কিছুদিনের মধ্যেই বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা হবে।"

সংশ্লিষ্টদের মতে, গণ শৌচাগার সংকট সমাধানে শুধু নতুন স্থাপনা নির্মাণ যথেষ্ট নয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল, আদালত এবং জনসমাগমস্থলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন শৌচাগার নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান স্থাপনাগুলো সংস্কার করে চালু করতে হবে। প্রতিটি শৌচাগারে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, নির্দিষ্ট পরিচালনাকারী এবং তদারকির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নারী, শিশু, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী নকশা, নিরাপদ প্রবেশ পথ এবং হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে গণ শৌচাগারগুলো সচল রাখা গেলে জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি শহরের পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনাই ‘নতুন কুঁড়ি’র লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনাই ‘নতুন কুঁড়ি’র লক্ষ্য

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক জানিয়েছেন, আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ‘নতুন কুঁড়ি’র দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করবেন। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।

প্রথম আসরে রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা ছিল মাত্র এক লাখ ৬৮ হাজার। দ্বিতীয় আসরে রেজিস্ট্রেশন করা খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে ৪৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ নতুন কুঁড়ির এই আসরে অংশগ্রহণ করবে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী বছরের মে বা জুন মাসে এর ফাইনাল রাউন্ড শেষ হবে।

আজ রোববার বিকালে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ (সিজন-২) উদ্বোধনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করতে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তুলে আনার উদ্দেশ্যে নতুন কুঁড়ির এই আয়োজন করা হয়েছে। নতুন কুঁড়ির প্রথম আসরে বিজয়ী অনেক ক্রীড়াবিদ বর্তমানে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, "আমরা তাদের হারিয়ে যেতে দিতে চাই না, বরং তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা ও পড়াশোনার দায়িত্ব সরকার বহন করবে।" নতুন কুঁড়ির আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গণে আমূল পরিবর্তন আসবে এবং খেলাধুলার মাধ্যমে দেশের সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, বিদ্যমান সামাজিক ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন করতে বর্তমান প্রজন্মকে ক্রীড়াঙ্গণের দিকে ধাবিত করা প্রয়োজন। খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ জাতি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, খুলনা জেলা স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ স্টেডিয়ামে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামীতে প্রণীত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আসন্ন জানুয়ারি থেকে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম, বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সারাবছর খেলাধুলা চলবে।

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো: মাহফুজুল আলম খান, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা খায়রুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম, বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।

পরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ (সিজন-২) উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো: মাহফুজুল আলম খানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুনসহ জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ, মূল্য ৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ, মূল্য ৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা

সাতক্ষীরা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : আজ কলারোয়া উপজেলার সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালীন ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।

আজ রোববার কলারোয়া উপজেলার কাঁকডাঙ্গা ও ঝাউডাঙ্গা বিওপির আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত থেকে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাঁকডাঙ্গা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি নামক সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় ওষুধ জব্দ করে। এর পাশাপাশি, ঝাউডাঙ্গা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার বোয়ালিয়া মোড় নামক সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে। জব্দকৃত এসব মালামালের মোট বাজার মূল্য আনুমানিক সাতলাখ ৩০ হাজার টাকা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি’র সাতক্ষীরা ব্যাটেলিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, জব্দকৃত ভারতীয় মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ শুরু করেছেন: বারাক ওবামা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ শুরু করেছেন: বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী যুদ্ধনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এই যুদ্ধকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এমন যুদ্ধের দাবি কেউ করেনি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি।

ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ওবামা বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এমন একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করা, যার প্রয়োজন কেউ অনুভব করেনি।

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানে হামলার পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়।

ওবামার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন।

ট্রাম্প লেখেন, ওবামা ছিলেন ‘চরম অযোগ্য’ প্রেসিডেন্ট। তিনি অভিযোগ করেন, ওবামা ইরানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিটি ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সম্পাদিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিটির বিরোধিতা করে আসছেন।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ওবামা ও ট্রাম্পের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরান যুদ্ধের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলোও নির্বাচনি বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%