০৬:২৬ পি.এম
বাংলাদেশ সরকার এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এর মধ্যে একটি ঋণচুক্তি সই হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদারে সহায়ক হবে। এই ঋণচুক্তির অধীনে ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের ঋণ সহায়তা প্রদান করা হবে।
‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফর এনহ্যান্সিং ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড স্টেবল এনার্জি সাপ্লাই’ শিরোনামের অধীনে জাইকা বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণ দেবে। এই সহায়তা দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
এর আগে, জাপান সরকারের ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া (POWERR Asia)’ উদ্যোগের আওতায় এটি প্রথম সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) ঋণ হিসেবে কার্যকর হচ্ছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করা।
আরও পড়ুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের সঙ্গে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ
ঋণচুক্তিতে সই করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের পক্ষে নোট বিনিময় (এক্সচেঞ্জ অব নোটস) চুক্তিতে সই করেন মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।
এই কর্মসূচির মূল ভিত্তি দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর কাজ করবে। প্রথমত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন শক্তিশালী করা। এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর টেকসই পরিচালনা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নত পরিকল্পনা এবং জ্বালানি সাশ্রয় কার্যক্রমের উন্নয়ন করতে হবে। পাশাপাশি, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহ-অর্থায়নে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন সংক্রান্ত সংস্কার কার্যক্রমেও সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই উদ্যোগের ফলে দেশটির সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালীকরণে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেক্ষেত্রে এমন একটি সময়ে এই সহায়তা পাওয়া গেল।
জাপানের সাথে এই চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। পাশাপাশি বাংলাদেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য পেতে জাইকার অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হলো।
আরও পড়ুন: হাসপাতালে সাংবাদিক এনাম সরকারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন রিজভী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন