বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৫ পি.এম
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা কোনো স্লোগান নয়।
তিনি জানান, সরকার চলতি দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে এবং বাংলাদেশের একটি নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া। এটি কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি পরিকল্পনা। আমরা এই দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চাই।’
আজ বৃহস্পতিবার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।
চুক্তির অধীনে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে।
তারেক রহমান বলেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র এবং এ অঞ্চলের প্রবেশদ্বারে পরিণত করা।
তিনি বলেন, ‘পোশাকশিল্প আমাদের প্রথম প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। এখন আমরা চাই ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং সবুজ শিল্প পরবর্তী প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করবে। আমরা এমন কারখানা চাই, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং এমন কর্মসংস্থান চাই, যা মানুষের মর্যাদা তৈরি করবে।’
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং হেলথ কার্ড প্রবর্তনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধি উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
তিনি বলেন, ‘কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এখন অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও আইএসডিবি’র মধ্যে নতুন ধরনের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই সহযোগিতা আরও উদ্ভাবনী, সাড়াপ্রদানকারী ও ফলাফলভিত্তিক হবে এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আইএসডিবি ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ড. আল জাসেরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংকটি সদস্যদেশগুলো ও মুসলিম উম্মাহর জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে যে আপনার দ্বিতীয় মেয়াদ আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে। আমাদের সরকার আপনার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।’
অর্থায়ন চুক্তিটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি লেনদেন নয়; বাংলাদেশের প্রতি ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের আস্থারও বহিঃপ্রকাশ।
তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমরা এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে গর্বিত।’
তিনি বলেন, ‘এই সদস্যপদ আমাদের জন্য অনেক বড় একটি বিষয়। এটি শুধু অর্থায়নের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং ইসলামি উম্মাহর সদস্য হিসেবে আস্থা, সংহতি এবং অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিদেরকে আজ গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানায় ৫ জন, শেরেবাংলা নগর থানায় ৭ জন, মোহাম্মদপুর থানায় ১২ জন, আদাবর থানায় ২১ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ৫ জন ও হাতিরঝিল থানায় ১৩ জন রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার শ্যামনগর উপজেলায় অবৈধভাবে দখল হওয়া জেলা পরিষদের জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে উপজেলা সদরের শ্যামনগর থানার সামনে নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনার কাজ বন্ধ করে জায়গাটি দখলমুক্ত করেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান, শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশেক এলাহী মুন্না, জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার আল-আমিন, শ্যামনগর থানার ওসিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনা ও সম্পত্তি পরিদর্শন করেন।
পরে তিনি শ্যামনগরের নীলডুমুর ডাকবাংলো, চন্ডিপুর ২২ বিঘা পুকুর, আকাশনীলা ইকোপার্কসহ উপজেলার বিভিন্নস্থানে জেলা পরিষদের সম্পত্তির অবস্থা সরেজমিনে দেখেন।
এসব সম্পত্তি কীভাবে অবৈধ দখলমুক্ত করে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিব বলেন, শ্যামনগর উপজেলায় জেলা পরিষদের যেসব সম্পত্তি বিভিন্ন সময়ে দখল হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করে সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এসব সম্পত্তি আইন অনুযায়ী সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে গতকাল বুধবার দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর সাতক্ষীরার আশাশুনি থেকে জেলা পরিষদের ৫৫ শতক জমির ওপর খননকৃত পুকুর দখল মুক্ত করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যয়ের ভিত্তিতে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করা হয়।
আজ সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সয়াবিন তেল সম্পূর্ণরূপে আমদানি-নির্ভর পণ্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা দেশের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। আমদানিকৃত তেলের দাম নির্ধারণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতিতে এফওবি মূল্যের সাথে জাহাজ ভাড়া, খালাস ব্যয়, বিমা, পরিশোধন ব্যয়, পরিবহন এবং অপচয়জনিত খরচ যুক্ত করে চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যদি আমদানিকারকরা দীর্ঘ সময় ধরে লোকসানে থাকেন, তাহলে বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। তাই সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ব্যবসায়ীদের লোকসান থেকে সুরক্ষা দিতে বাজারে একটি যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। দুই ঈদ উপলক্ষে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়মিত ওএমএস কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। একই সাথে কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে আমদানিকারকদের ঋণপত্র খোলা এবং আমদানির সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত তদারক করা হচ্ছে।
চিনির বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত চিনি মজুদ রয়েছে। ইউটিলিটি-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সাময়িক উৎপাদন ব্যাহত হলেও দ্রুত সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর তাদের বেতন সমন্বয় করা হয়নি। বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে বেতন সমন্বয় একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ। তবে নতুন বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর হবে না, বরং আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। ফলে বাজারে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।
সুগন্ধি চাল রপ্তানির প্রসঙ্গে তিনি জানান, অনুমোদনের বিপরীতে এ পর্যন্ত মাত্র আড়াই হাজার টন চাল রপ্তানি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে যারা চাল রপ্তানি করতে পারেননি, তাদের অনুমোদন উল্লেখযোগ্য হারে বাতিল বা কমানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগকে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
আজ ইনভেস্ট বাংলাদেশের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত ইউএনসিটিএডি (আঙ্কটার্ড)-এর বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও উন্নয়ন কমিশনের ১৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি এবং পরিবেশ উন্নয়নে অগ্রগতির বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। বৈশ্বিক অর্থনীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ প্রবাহে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে তাদের বিনিয়োগ নীতি নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করছে, সে বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এই আলোচনায় বাংলাদেশ এবং তিউনিসিয়াকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। উভয় দেশের উদ্যোগ এবং অর্জনকে অন্যান্য উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি। তিনি বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশের বাস্তবায়ন কেন্দ্রিক উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, "বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে হলে বাস্তব বাধাগুলো দূর করতে হবে।" এর মধ্যে নিরাপত্তা ছাড়পত্র দ্রুত দেওয়া, বৈদেশিক অর্থায়ন সহজ করা, মূলধন প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো অন্যতম।
নাহিয়ান রহমান রোচি আরও বলেন, "গত বছর এসব অঙ্গীকার প্রকাশ্যে ঘোষণা করার পাশাপাশি অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।" বর্তমানে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এর ফলাফলও শিগগির প্রকাশ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "এ ধরনের জবাবদিহির চর্চা উদ্যোগগুলোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ।"
বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনার ভিত্তি ছিল ইউএনসিটিএডি’র বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনার সুপারিশ বাস্তবায়ন শীর্ষক প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনে ২০১৩ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনার সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, ডিজিটাল বিনিয়োগসেবা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করা হয়।
ইউএনসিটিএডি’র ২০২৬ সালের বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনেও বৈশ্বিক বিনিয়োগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানের স্বীকৃতি পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে গত বছর গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ পাওয়া স্বল্পসংখ্যক স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১৭৭ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএনসিটিএডি এ ধরনের পদক্ষেপকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করার উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগ সহায়তা, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কার্যক্রম একটি প্রতিষ্ঠানের আওতায় এসেছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ ও সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ইউএনসিটিএডি’র বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনায় দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও বাস্তবায়িত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ