ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুলাদীর কাজিরচরে চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল সরদারের সামর্থের জানান দিয়ে শোডাউন


মুলাদীর কাজিরচরে চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল সরদারের সামর্থের জানান দিয়ে শোডাউন

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী মো. কামাল সরদার দিনভর গণসংযোগ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে শতাধিক মোটরসাইকেল ও অর্ধশতাধিক অটোরিকশার বহর নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘুরে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে কামাল সরদারের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা নিয়ে গণসংযোগে অংশ নেন। প্রথমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। পরে খাশেরহাট বাজার, বড়ইয়া বাজার ও প্যাদারহাট বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চান।

গণসংযোগকালে কামাল সরদার বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজিরচর ইউনিয়নের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার বিষয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেই এগোচ্ছি। জনগণ যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন এবং তাদের দোয়া ও সমর্থন দেন, তাহলে আমি তাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।”

আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

তিনি আরও বলেন, “কাজিরচরের মানুষের নানা সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”

পরে দিনব্যাপী গণসংযোগ শেষে চরকমিশনার মডেল গ্রাম সমিতির সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাঁচ শতাধিক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

সমাবেশে কামাল সরদার বলেন, “নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। আমি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখতে চাই। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি কারও বিরুদ্ধে নয়, কাজিরচরের মানুষের পক্ষে কথা বলতে চাই।”

তিনি বলেন, “আমার রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য মানুষের পাশে থাকা। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের কথা শুনে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার পথ সহজ করার বিষয়ে কাজ করতে চাই।”

আরও পড়ুন: কাউখালীতে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সমাবেশে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকেরা কামাল সরদারের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান বলে জানান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে তৎপরতা বাড়িয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে কামাল সরদারের এ গণসংযোগে বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি দেখা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করল লেবানন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করল লেবানন

লেবাননের পার্লামেন্ট মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের প্রস্তাব গ্রহন করেছে। এর মাধ্যমে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শাস্তির বিধান বাতিল করলো দেশটি। ২০০৪ সালের পর লেবাননে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি, কিন্তু আদালতগুলোতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া অব্যাহত ছিল। সর্বশেষ রায়টি সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে যে, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৮৫ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি কারাগারে ছিলেন।

বৈরুত থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সাধারণত হত্যা, সন্ত্রাসবাদ ও গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুতর অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো। তবে, লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, এখন সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের জন্য কঠোর শ্রমসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

পার্লামেন্টে উপস্থিত বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার এই মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায় আগের সময়ের যে দেশগুলোর কাছে প্রত্যর্পণের জন্য সমস্যা সৃষ্টি হতো, এমন দেশগুলোতে সন্দেহভাজনদের প্রত্যার্পণের ক্ষেত্রে লেবানন সমস্যায় পড়েছে।

স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা ফিরাস হামদান এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন, মন্তব্য করে বলেন, ‘দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই মুহূর্তে পৌঁছাতে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

জাতিসংঘও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব প্রতিবেশী দেশে এখনও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে, তাদের লেবাননের পথ অনুসরণ করে ‘এই অমানবিক প্রথা বন্ধ’ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, একজন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে এই সিদ্ধান্ত ‘জীবনের অধিকারের প্রতি শক্তিশালী ও নীতিনিষ্ঠ অঙ্গীকার’ প্রকাশ করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে যে, লেবানন ‘মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশের জন্য শক্তিশালী দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।’ লেবাননের সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সও এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক ও সাহসী’ বলে অভিহিত করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এক্সে লিখেছেন যে, এই ভোট প্রমাণ করে যে লেবানন ‘তার অস্তিত্বের ভিত্তিতে থাকা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার সক্ষমতার মাধ্যমে এখনও একটি দৃষ্টান্ত।’

অ্যাক্টিভিস্ট ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বহু বছরের প্রচারণার পর অবশেষে আইনটি পাস হলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবাননবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস এএফপিকে বলেন যে, এই সিদ্ধান্ত ‘দেশটির মানবাধিকারের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি এমন একটি নিষ্ঠুর ও স্বেচ্ছাচারী শাস্তি থেকে স্পষ্ট বিচ্ছেদ, যা কখনোই দেওয়া উচিত নয়।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এই সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক হেবা মোরায়েফ মন্তব্য করেন, ‘এই আইনকে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে কার্যকর করতে লেবাননের কর্তৃপক্ষকে সব মৃত্যুদণ্ডের রায় কমিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অনুমোদন দিতে হবে। পাশাপাশি মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতে বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বৃহত্তর সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে।’

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিয়মিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে, গত বছর ইরানে ২ হাজারের বেশি এবং সৌদি আরবে ৩৫০টির বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। জুনে জর্ডান নিরাপত্তাকর্মীদের হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ছয় ব্যক্তিকে ফাঁসি দেয়, এর মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর দেশটির নয় বছরের স্থগিতাদেশের অবসান ঘটে। প্রতিবেশী ইসরাইলে মাত্র দুবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, প্রথমে ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এক সামরিক ক্যাপ্টেনকে এবং পরে ১৯৬২ সালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানকে। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে ইসরাইলের পার্লামেন্ট প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অনুমতি দিয়ে নতুন আইন পাস করেছে।

জাতিসংঘে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশের পক্ষে লেবানন বারবার ভোট দিয়েছে এবং এ বিষয়ে ২০২৪ সালের একটি প্রস্তাবও সমর্থন করেছে দেশটি। লেবাননে জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কারী জ্যঁ আরনো বলেছেন, সর্বশেষ পদক্ষেপটি ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড এবং মানবিক মর্যাদার সঙ্গে ন্যায়বিচারের প্রতি দেশটির অঙ্গীকার আরও এগিয়ে নিয়েছে।’ চলমান আইনসভা অধিবেশনে আলোচনার জন্য উত্থাপিত একাধিক বিলের অংশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা হয়েছে, এসব বিলের মধ্যে বহু বছর ধরে আলোচিত সাধারণ ক্ষমা আইনও রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডে ৭ আইনের ২৯ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ পি.এম


সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডে ৭ আইনের ২৯ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি

সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে ৭টি আইনের ২৯টি ধারার বিচারে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রম সম্প্রতি চালু করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো: আল-ইমরান খান স্বাক্ষরিত ৯ আগস্টের একটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, উপর্যুক্ত বিষয় ছিল নির্দেশিত, এবং এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিগণের অবগতির জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। জানানো হচ্ছে যে, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, বিশেষত: মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী অনুমতি প্রদান করেছেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে যে ৭টি আইনের ২৯টি ধারার বিচার বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো: পারিবারিক আদালত আইন-২০২৩ এর ৫ ধারা, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩ এর ৫ ধারা, যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৮ এর ৩ ও ৪ ধারা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ১১(গ) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩৫৪, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৮১, ৪০৬, ৪১৭, ৪২০, ৪৯৪, ৫০০, ৫০১, ৫১১ ধারা। এছাড়া সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-১৮৭৭ এর ৮, ৯, ১২, ৩৯, ৪২, ৫৪ ধারাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন-১৮৮১ এর ১৩৮ ধারাও বিচারাধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক প্রেসিডেন্ট লুঙ্গুর দাফন বিরোধে জমে উঠেছে জাম্বিয়ার নির্বাচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৮ পি.এম


সাবেক প্রেসিডেন্ট লুঙ্গুর দাফন বিরোধে জমে উঠেছে জাম্বিয়ার নির্বাচন

জাম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে প্রচারণা এখন জমে উঠেছে। তবে নির্বাচনী মাঠে সাবেক প্রেসিডেন্ট এডগার লুঙ্গুর প্রভাব এখনো স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

মৃত্যুর এক বছরেরও বেশি সময় পরেও তার মরদেহের দাফন হয়নি। প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা এবং লুঙ্গুর পরিবারের মধ্যে এই বিরোধ দেশটির রাজনৈতিক বিভাজনকে আরো গভীর করেছে।

আগামী ১৩ আগস্ট জাম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে ৮০ লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

কয়েক বছরের মধ্যে এটিকে দেশের সবচেয়ে অনিশ্চিত নির্বাচনগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে এডগার লুঙ্গুকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন হিচিলেমা। এবার তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে চান। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে।

লুঙ্গুর মৃত্যু, বিরোধী প্রার্থী ব্রায়ান মুন্ডুবিলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয়, বিদ্যুৎ সংকট এবং নির্বাচনের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ভোটের হিসাব বদলে গেছে।

রাজধানী লুসাকা শহরের রাস্তায় এখন নির্বাচনী প্রচারণার ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। দুপুরের তীব্র গরমের মধ্যেও বাজার এবং রাস্তায় মানুষজনের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক কোলাহলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে নির্বাচনী প্রচারের গান আর স্লোগান। শহরের প্রায় সব জায়গায় নির্বাচনী পোস্টার স্থাপন করা হয়েছে।

বাতির খুঁটি, দোকানের দেয়াল এবং রাস্তার পাশে পোস্টারগুলোতে ছেয়ে গেছে। বড় বড় বিলবোর্ডে প্রেসিডেন্ট এবং সংসদ সদস্য প্রার্থীদের ছবি রয়েছে। সেই ছবিগুলোর দিকে যেন দেখা যাচ্ছে পথচারীদের চোখ স্থির হয়ে আছে। কিন্তু প্রচারণার সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়বস্তু রাজনীতি নয়, বরং জীবনযাত্রার ব্যয়। বিভিন্ন জায়গায়, রাস্তার মোড় থেকে মিনিবাস পর্যন্ত, মানুষ খাবার, জ্বালানি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে আলাপ করছেন।

করোনাভাইরাস মহামারির পর খাদ্য এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও পড়েছে জাম্বিয়াতে। দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি অবশেষে কমে এখন প্রায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। এটি আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। দেশটির মুদ্রা কোয়াচার মানও শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষেরা বলছেন, অর্থনীতির এই উন্নতির সুফল তাদের দৈনন্দিন জীবনে এখনো খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। ২৭ বছর বয়সী ময়দা কারখানার শ্রমিক গিভেন কাঙ্গওয়া অভিযোগ করেন, তার আয় দিয়েই সংসার চালানো কঠিন। তিনি মাসে প্রায় ৩ হাজার কোয়াচা আয় করেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ হাজার টাকা। এই অর্থ দিয়ে খাবার, বাড়িভাড়া এবং অন্যান্য খরচ চালানো তার জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তার খাবার বিক্রেতা থেরেসা জুলুও এই একই সমস্যা সম্পর্কে জানাচ্ছেন। তার ভাষায়, টাকা পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে এবং বেঁচে থাকার জন্য অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে।

গত পাঁচ বছরে রান্নার তেলের দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে দেশের অর্থনীতির বড় সূচকের চেয়ে এ ধরনের পণ্যের দাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাম্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহে সিরিয়াস সমস্যায় ভুগছে। ২০২৪-২৫ সালে ভয়াবহ খরার কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পায়। দেশের কিছু অংশে দিনে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায়নি। পরে সরকার বেশি অর্থ খরচ করে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিছুটা কমেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে খাবার নষ্ট হওয়ার অভিজ্ঞতা এখনো মানুষের মনে বিদ্যমান। প্রেসিডেন্ট হিচিলেমা অবশ্য তার সরকারের কাজের পক্ষে সাফাই দিচ্ছেন। তার দাবি, ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার সময় দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। বর্তমানে তিনি অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করেছেন। লুসাকায় বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিচিলেমা জানান, তিনি একটি ভেঙে পড়া অর্থনীতি পেয়েছিলেন। তার দায়িত্ব নেওয়ার সময় জাম্বিয়া ঋণ সংকটে ছিল এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধে সক্ষম ছিল না। পরে দেশটির ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠন করা হয়। হিচিলেমার দাবি, এর ফলে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হচ্ছে। এই অর্থ শিক্ষাসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তার সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ছিল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা। সরকারের দাবি, এর ফলে লাখ লাখ শিশু আবার স্কুলে ফিরেছে। একই সময়ে হাজার হাজার শিক্ষক এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন তহবিলও বাড়ানো হয়েছে।

দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত তামা উৎপাদনও চার বছরের মধ্যে গতি পাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বেড়েছে। সরকারের সমর্থকদের মতে এসব পরিবর্তন ইতিবাচক হিসেবে উঠে এসেছে। একজন তরুণী, যিনি শিক্ষক হতে চান, তিনি মন্তব্য করেন, গত কয়েক বছরে চাকরি ও অন্যান্য সুযোগ বেড়েছে বলে তার মনে হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার বছরে বেকারত্বের হার ১৩ শতাংশ থেকে কমে ১১ শতাংশে নেমেছে। তবে সমালোচকদের বক্তব্য, এই উন্নতির সুফল এখনো অনেক পরিবারের কাছে পৌঁছায়নি।

গত বছরের ৫ জুন লুঙ্গুর মৃত্যুর পর জাম্বিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুইবার নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কারণে লুঙ্গু আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি। কিন্তু তার মৃত্যুর ফলে বিরোধী দলের সবচেয়ে পরিচিত নেতাকেও হারিয়েছে দেশটি। শুরুতে মনে হয়েছিল, এতে হিচিলেমার জন্য নির্বাচন আরো সহজ হয়ে যাবে। লুঙ্গুর দল প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্টও ভেঙে পড়েছে। দলটির বেশ কিছু নেতা ও সমর্থক অন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এরপর ৫৫ বছর বয়সী আইনজীবী এবং হিসাবরক্ষক ব্রায়ান মুন্ডুবিলের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রচেষ্টা জোরালো হয়েছে। মুন্ডুবিলে লুঙ্গু সরকারের সাবেক প্রধান হুইপ ছিলেন। মে মাসে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে অল্প সময়ের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। বিরোধী জোট টন্সে-পামোজি অ্যালায়েন্সের প্রার্থী হিসেবে তিনি ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন পার্টি ফর ইউনিটি অ্যান্ড প্রসপারিটির প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন।

লুঙ্গু পরিবারের ঘনিষ্ঠ আইনজীবী মাকেবি জুলু তার রানিং মেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। বিরোধী জোট লুঙ্গুর পুরোনো শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দেশের উত্তরাঞ্চলে তার প্রতি মানুষের আনুগত্যকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। সেইসাথে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের অসন্তোষকে নির্বাচনী প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। মুন্ডুবিলের প্রচারের মূল বক্তব্য হলো প্রজন্মের পরিবর্তন এবং রাজনীতি ও অর্থনীতিতে তরুণ এবং নারীদের বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। তিনি মন্তব্য করেন, তরুণদের নিজেদের সমস্যা সমাধানের অনেক উপায়ই রয়েছে। কিন্তু তাদের এমন একটি সরকারের প্রয়োজন যারা তাদের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। নিজেকে তিনি তরুণদের ‘বড় ভাই’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

এবারের নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে লুঙ্গুর উত্তরাধিকারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত্যুর পর এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার মরদেহ এখনো দাফন করা হয়নি। দাফন প্রক্রিয়া নিয়ে লুঙ্গুর পরিবার ও প্রেসিডেন্ট হিচিলেমার মধ্যে বিরোধ রয়েছে। লুঙ্গুর পরিবার চান না, হিচিলেমা কোনোভাবেই তার দাফনের সঙ্গে যুক্ত থাকুন। সময়ের সাথে এই বিরোধ একটি বড় রাজনৈতিক প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিরোধী প্রার্থী মুন্ডুবিলে প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি ও তার রানিং মেট মাকেবি জুলু নির্বাচনে জয়ী হলে লুঙ্গুর মরদেহ সম্মানের সঙ্গে দাফনের ব্যবস্থা করবেন। লুঙ্গুর পুরোনো সমর্থকদের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতির প্রভাব পাওয়া যাচ্ছে। পুরোনো কাপড় বিক্রি করা এনক মাবেঙ্গা জানান, জীবনযাত্রার উন্নতি চান বলেই তিনি মুন্ডুবিলেকে সমর্থন করছেন। তবে লুঙ্গুর দল বা পুরোনো সরকারকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চান না, এমন ভোটারও আছেন। এডিথ মুন্তাঙ্গা বলেন, আগের সরকারকে দেশ চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের শাসনের অভিজ্ঞতা মানুষের সামনে এসেছে। তাই তিনি তাদের আবার ক্ষমতায় দেখতে চান না।

২০২৫ সালের শেষ দিকে করা গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংস্কারের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব পরিবর্তনের একটি বড় লক্ষ্য হলো সংসদে নারী ও তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। নতুন ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদে মিশ্র সদস্য পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বেশিরভাগ আসন আগের মতো নির্বাচনী এলাকার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। পাশাপাশি দলগুলো জাতীয়ভাবে যত শতাংশ ভোট পাবে, তার ভিত্তিতেও কিছু আসন ভাগ করা হবে। নির্বাচনী এলাকার আসন সংখ্যা ১৫৬ থেকে বাড়িয়ে ২২৬ করা হয়েছে। এর বাইরে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে আরও ৪০টি আসন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি নারী, ১৫টি তরুণ এবং ৫টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা খুবই কম। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পাওয়া ১৪ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র একজন নারী—স্বতন্ত্র প্রার্থী গিভেন কাতুটা।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দফায় জয় পেতে হলে কোনো প্রার্থীকে মোট প্রদত্ত ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি পেতে হবে। যদি কেউ এই সীমা অতিক্রম করতে না পারে, তবে ৩৭ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন হতে পারে। প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এবার দ্বিতীয় দফার ভোট ঘটবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচন কতোটা নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নাগরিক সমাজের কিছু সংগঠন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মানবাধিকারকর্মী ও জাম্বিয়ার আইন সমিতির সাবেক সভাপতি লিন্ডা কাসোন্দে নির্বাচনের কমিশনের সদস্যদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, কমিশনের কিছু সদস্যের ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, তারা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেই কাজ করছে এবং স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতার নীতির বিষয়ে তারা মেনে চলে।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে জাম্বিয়ার দীর্ঘদিনের একটি ভালো ইতিহাস রয়েছে। এবারের নির্বাচনেও সব পক্ষ সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অন্যবারের চেয়ে আরও জটিল। একদিকে হিচিলেমা তাঁর সরকারের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা জীবনযাত্রার ব্যয়, বেকারত্ব, বিদ্যুৎ সংকট এবং রাজনৈতিক বিভাজন প্রকাশ করছে। এর সাথে যোগ হয়েছে লুঙ্গুর মৃত্যুর পরও তার মরদেহ দাফন না হওয়া এবং তা নিয়ে চলা রাজনৈতিক বিরোধ। নির্বাচনী প্রচারণার সমাবেশগুলোতে ফুটবল মাঠগুলো মানুষের ভরে যাচ্ছে। সেখানে ভোটাররা গত পাঁচ বছরে দেশের উন্নতি কতটা হয়েছে এবং তাদের নিজেদের জীবনে সমস্যাগুলো কতটা রয়ে গেছে—সেই বিষয়ে হিসাব করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্যামনগরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৯ পি.এম


শ্যামনগরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহত কৃষকের নাম লুৎফর রহমান, বয়স ৫৬ বছর। বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে কৃষি কাজ করার সময় এ বজ্রপাতে তার মৃত্যু ঘটে।

শ্যামনগর থানার ওসি মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী বজ্রপাতে নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত ব্যক্তিটি উপজেলার ধুমঘাট শিলতলা গ্রামের মৃত আদালি সরদারের ছেলে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোরের সময় অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে লুৎফর রহমান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডাক্তার মো. শাকির হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%