০৮:৩৪ পি.এম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, একসময় সাংবাদিকরা সত্যিকার অর্থেই সাহিত্যশাসিত ছিলেন এবং স্বাধীনভাবে যা সত্য, যা বস্তুনিষ্ঠ সেটাই প্রকাশ করতেন। তারা কখনোই টাকা বা কোনো হুমকির কাছে, ক্ষমতার কাছে মাথা নত করেননি।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
রবিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীতে পিআইবি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই সভাটি পিআইবির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ অবজারভারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, প্রখ্যাত সম্পাদক ও ভাষা সৈনিক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
সভায় রিজভী উল্লেখ করেন, নোম চমস্কি বলেছেন, স্বৈরাচারী শাসনে ডান্ডা-লাঠি খুবই অপরিহার্য, যার অর্থ হলো জনগণকে দমন করে রাখার জন্য। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যাদের অন্তরে স্বৈরাচারের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, তারা মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করেন ডান্ডার মত করে।
এটি নোম চমস্কির একটি অবজারভেশন। এর মানে হলো একসময় সাংবাদিকরা সত্যিকার অর্থেই সাহিত্যশাসিত ছিলেন, সত্যিকার অর্থেই স্বাধীনভাবে যা সত্য, যা বস্তুনিষ্ঠ সেটাই প্রকাশ করতেন। তারা কখনোই টাকা বা কোনো হুমকির কাছে, কোনো ক্ষমতার কাছে মাথা নত করেননি। তাদের প্রতীক হচ্ছেন সাংবাদিক আবদুস সালাম।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
আর এখন?
তিনি আরও বলেন, আপনি পার্শ্ববর্তী ভারতেই দেখুন, সেখানে গদি মিডিয়া বলে একটি ধারণা এসেছে। যে দেশে একসময় বুদ্ধিজীবী বলতেই সেকুলার, বুদ্ধিজীবী বলতেই স্বাধীনচেতা- আজ সেখানে সেই ধারণা নেই। সেখানে অধিকাংশ মিডিয়াকে বলা হচ্ছে গদি মিডিয়া। তারা শাসকের পক্ষে, তারা শাসকের অনুগত এবং এমনভাবে কাজ করছে যে, সেখান থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারবে না। উন্নত অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে হয়তো এই সংখ্যা কম, কিন্তু সেখানে এমন পরিস্থিতি বাড়ছে এবং পলিসি মেকাররা তাদের (মিডিয়াকে) ঠিক লাঠির মত করে ব্যবহার করছেন।
জনগণকে একবার চিরস্থায়ীভাবে দমন করার জন্য, সেখানে লাঠিটা দেখা যায় না, কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে প্রচারযন্ত্রকে ব্যবহার করে মানুষের মনকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। যার ভয়ঙ্কর পরিণতি আমরা এখন ইন্ডিয়াতে প্রত্যক্ষ করছি।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
বিএনপির এই নেতা বলেন, আবদুস সালাম শুধু বাংলাদেশে নয়, গোটা বিশ্বে প্রয়োজন। আবার যদি আমাদেরকে সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন নাগরিক, স্বাধীনচেতা মানুষ এবং সত্য-মিথ্যার বিভাজনকারী একটি সীমারেখা টানতে হয়, তাহলে আবদুস সালামদের আজকের এই বিপন্ন পৃথিবীতে খুবই প্রয়োজন। তাদের মত মানুষ যদি আবার জেগে ওঠে, তাহলে দেশে-দেশে যুদ্ধ-বিগ্রহ, বোমাবাজি হবে না- সত্য উদ্ভাসিত হবে, মিথ্যা অনুপস্থিত হবে।
সভায় সাংবাদিক আবদুস সালামের নামে ঢাকার তোপখানা রোডের নামকরণ করার দাবি জানানো হয়। দাবির প্রেক্ষিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, এ বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করবো।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরামের সঞ্চালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুইয়া, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, সদস্যসচিব ও সময় টিভির সিইও জুবায়ের বাবু, সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালামসহ অনেকেই।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন