০৪:৫২ পি.এম
বৈশ্বিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষা কৌশলকে এগিয়ে নিতে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং যুদ্ধের নতুন পদ্ধতি ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাপান। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য টোকিও আগামী অর্থবছরের জন্য ৮.৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৫৫.৬ বিলিয়ন ডলার) বাজেটের প্রস্তাবনা প্রকাশ করেছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাবনা প্রকাশ করে। এই প্রাথমিক বাজেটের প্রস্তাবটি চলতি অর্থবছরের ৮.৮ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৫৫ বিলিয়ন ডলার) প্রতিরক্ষা বাজেটের তুলনায় সামান্য বেশি। চূড়ান্ত বাজেট অবশ্য এর চেয়ে অনেক বেশি হবে। তবে জাপানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কৌশল প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকারের অনুমোদনের পর এ বছরের শেষের দিকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হবে।
২০২২ সালে গৃহীত পাঁচ বছর মেয়াদী প্রতিরক্ষা কৌশলের আওতায় চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাব মোকাবিলায় নিজেদের আত্মরক্ষা বাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাপান কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে তারা প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্বিগুণ করে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশে উন্নীত করেছে। বেইজিং জাপানের এই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে ‘নতুন সামরিকবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সমালোচনা করেছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে তালেবানের হামলায় ১ নিহত, ৫ আহত
বাজেট প্রস্তাবনা বিষয়ক একটি প্রচারপত্রে মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহারের মতো যুদ্ধের নতুন পদ্ধতির সাথে খাপ খাইয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ ও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে জোরদার করাই বর্তমানে জাপানের লক্ষ্য।
টোকিও আক্রমণকারী ড্রোন, দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল এবং ইন্টারসেপ্টর (শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ব্যবস্থা) ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধের নতুন পদ্ধতির জন্য কম খরচে ও কম প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে এবং সাশ্রয়ী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বল্পমূল্যের চালকবিহীন অস্ত্র দেশীয়ভাবে তৈরি ও ব্যাপকভাবে উৎপাদন করা প্রয়োজন।
সাশ্রয়ী উপায়ে পাল্টা আঘাত হানার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে সমন্বয় করে আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। ২০২৭ সালের এপ্রিলে শুরু হতে যাওয়া অর্থবছরের জন্য, তারা পানি বা পানির নিচ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য চালকবিহীন আক্রমণকারী ড্রোন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করছে।
কর্মকর্তাদের মতে, জাপানের জনসংখ্যা হ্রাস ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে সামরিক জনবলের যে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, চালকবিহীন অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে তা পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানের বাণিজ্যিক বাজারে চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের আধিপত্য রয়েছে, তাই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার: রিজভী
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর মোতায়েন করে তার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাকে শক্তিশালী করেছে। পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা আরও জোরদার করতে মন্ত্রণালয় সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে। জাপানের প্রতিরক্ষা কমান্ড ব্যবস্থা উন্নত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হবে।
মন্ত্রণালয়টি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় একটি সমন্বিত এআই প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা করছে, যার লক্ষ্য হলো যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসহ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ও নির্ভুলতা বৃদ্ধি করা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপান এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের বিদ্যমান এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নিজস্ব প্রযুক্তিতে এআই উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণ কিংবা উভয় পদ্ধতির সমন্বয় করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। মন্ত্রণালয় ‘এআই অর্কেস্ট্রেটর’ নামে একটি অত্যাধুনিক বা পরবর্তী প্রজন্মের প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এটি একাধিক এআই সিস্টেমকে সমন্বিত ও ব্যবহার করার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা নিশ্চিত করবে।
এছাড়া জরুরি অবস্থা বা দুর্যোগের সময় অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান এবং স্থিতিশীল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়টি একটি ‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ক্লাউড’ তৈরির পরিকল্পনাও করছে। তবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
আরও পড়ুন: দুর্লভ ডাইনোসর ‘জোডি’ ৪৭.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি, বিজ্ঞানীদের অসন্তোষ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন