বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৮ পি.এম
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পূর্ব জার্মানির সাবেক কমিউনিস্ট একটি রাজ্যে রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নির্বাচন। কট্টর ডানপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) নির্বাচনে সহজেই জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দলটি প্রথমবারের মতো রাজ্য সরকার গঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে।
এএফডি এককভাবে সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ভোট পাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে ভোটে শীর্ষে থাকলে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে অভিবাসনবিরোধী দলটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
বার্লিন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
কয়েক মাস ধরে রাজ্যটিতে জনমত জরিপে এএফডির সমর্থন ৪০ শতাংশ বা তার বেশি রয়েছে। দলের প্রধান প্রার্থী উলরিখ জিগমুন্ড। ৩৫ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় নেতা প্রচার সমাবেশে রকস্টারের মতো সংবর্ধনা পান। টিকটকে তার অনুসারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
জিগমুন্ডের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ‘পুনঃঅভিবাসন ও বহিষ্কার’ অভিযান, সরকারি স্কুলে এলজিবিটিকিউ গৌরবের রংধনু পতাকা নিষিদ্ধ করা এবং নতুন বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করা।
মস্কোপন্থি এই দলটি কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির হারিয়ে যাওয়া দিনের প্রতি একধরণের নস্টালজিয়া এবং ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের কয়েক দশক পরেও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পদের ব্যবধান নিয়ে অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েছে।
রোববার জিগমুন্ড ‘ইতিহাস গড়ার’ অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ২১ লাখ মানুষের এই ছোট রাজ্য থেকে রাজনৈতিক বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে তার প্রতিষ্ঠাবিরোধী দলকে ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিতে চান।
বর্তমান রাজ্যপ্রধান ৪৭ বছর বয়সী স্বেন শুলৎসে। তিনি মের্ৎসের মধ্য-ডানপন্থি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দলের নেতা এবং একাধিক দলের জোট সরকার পরিচালনা করছেন। তিনি মহাসড়কের পাশে বড় বড় বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। সেখানে ভোটারদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘কট্টর ডানপন্থিরা খাদে নিয়ে যায়।’
এএফডির অনেক ভোটার বড় ধরনের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করলেও দলটির বিজয়ের সম্ভাবনা জার্মানির বড় অংশকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও হলোকাস্টের অন্ধকার ইতিহাসের দায় কাটিয়ে উঠতে জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে।
জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিএফভি এএফডি’র রাজ্য শাখাকে ‘কট্টর ডানপন্থি’ সংগঠন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
বিএফভির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাক্সনি-আনহাল্টের এএফডির অনেক রাজনীতিক ‘অভিবাসীদের হেয় করে এমন ভাষা ব্যবহার করেন।’ তারা নিয়মিত মুসলিম শরণার্থীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেন। সম্মিলিতভাবে তাদের এ ধরণের অবমাননা ‘মানবিক মর্যাদার নীতি’ লঙ্ঘন করে।
এএফডির সঙ্গে সহযোগিতা না করার ‘ফায়ারওয়াল’ নীতি অর্থাৎ এএফডির সঙ্গে অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা বা জোট না করার নীতি এখন পর্যন্ত সব প্রধান দলই বজায় রেখেছে। তবে ক্ষুদ্র বিএসডব্লিউ দলটি—যারা অর্থনীতির ক্ষেত্রে বামপন্থি হলেও অভিবাসনের বিষয়ে ডানদিকে ঝুঁকে আছে—এখন এএফডিকে সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
মের্ৎস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অর্থনীতির স্থবিরতা কাটিয়ে এবং অনিয়মিত অভিবাসন সীমিত করে এএফডির এক দশকের উত্থান থামাবেন। তবে এখন পর্যন্ত তাতে সাফল্য আসেনি। সাবেক প্রান্তিক দলটি জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপেও নিয়মিত শীর্ষে রয়েছে।
রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমের অধ্যাপক অলিভার লেমবকে বলেন, ‘এএফডি যদি স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে তা ফ্রিডরিশ মের্ৎসের ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘তার লক্ষ্য ছিল এএফডির ভোটের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এর পরিবর্তে এএফডি সিডিইউকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হয়েছে—এমনকি ফেডারেল পর্যায়েও। এই ফলাফলের ব্যক্তিগত দায় তার ওপরই বর্তায়।’
লেমবকে বলেন, রাজ্য নির্বাচনে জয় এটাই প্রমাণ করবে যে ‘ভোটের মাঠে ফায়ারওয়াল কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিতে হবে, মের্ৎস বা তার দল—কেউই তা জানে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য প্রদান করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “জেলা পর্যায়ে গঠিত ‘বিশেষ টাস্কফোর্স’ এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিদিন বাজারে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য ভোক্তা-স্বার্থবিরোধী অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা আদায়সহ প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”
এছাড়া, বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ এবং মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য ‘বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন’-এর মাধ্যমে সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
জনস্বার্থে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে সরকারের এসব বাজার মনিটরিং, তদারকি ও তড়িৎ আইনি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত ও অধিকতর জোরদার করার কথা সংসদে পুনর্ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার ১০২তম সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি আর্মেনিয়ায় অপরিহার্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, যদি মস্কো এই ঘাঁটি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইয়েরেভানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কিত।
পাশিনিয়ান আরও জানান, আর্মেনিয়ার রেলপথ পরিচালনার জন্য কনসেশন চুক্তির আওতায় রাশিয়ার অধিকার রয়েছে, এবং এটি কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করাটাই ইয়েরেভানের জন্য সর্বোত্তম বিকল্প হবে। তিনি বলেন, “এই সময়ে আমরা রুশ সামরিক ঘাঁটির বিষয়টি একবারও উত্থাপন করিনি; আর এমনও নয় যে আর্মেনিয়ার ভূখণ্ডে রাশিয়ার ১০২তম সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতিকে আমরা অত্যন্ত জরুরি বা অপরিহার্য বলে মনে করি।”
মঙ্গলবার বিশকেকে পুতিন ও পাশিনিয়ানের মধ্যকার বৈঠকে আর্মেনিয়ার রেল অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। বৈঠকের পর পুতিন বলেন, রেলপথে বিনিয়োগের বিষয়টি নির্ভর করবে পণ্য পরিবহনের পরিমাণের ওপর। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন নতুন রুট বা পথ চালু হলে তা পণ্য পরিবহনের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি, এটি বিনিয়োগকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করে তুলতে পারে।
পুতিন আরও বলেন, রুশ সামরিক ঘাঁটির বিষয়টি আর্মেনিয়ার নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করে। তিনি বলেন, “আর্মেনিয়া যদি মনে করে যে রুশ সামরিক ঘাঁটির আর প্রয়োজন নেই, তবে আমরা আগামীকালই চলে যাব। আমরা কারও ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেব না।”
একই সঙ্গে পুতিন উল্লেখ করেন, আর্মেনিয়ার জনগণ যদি রুশ সামরিক উপস্থিতি চায় এবং মস্কোর সঙ্গে কাজ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত থাকে, তবে রাশিয়া সেখানে অবস্থান করবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশে ভারত ও চীনের সঙ্গে একটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান থাকলেও, সরকার দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই তথ্য জানিয়েছেন।
আজ জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৬ আসনের বিরোধী দলীয় সদস্য মো. আব্দুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য বিশেষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, "দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের দেশভিত্তিক বড় দু’টি ঘাটতি রয়েছে ভারত ও চীনের সঙ্গে। তবে, বিষয়টি শুধু দেশভিত্তিকভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের ওভার-অল এক্সপোর্টেবিলিটি বাড়ানো দরকার, এক্সপোর্টের এবিলিটি বাড়ানো দরকার।"
রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি খাত চিহ্নিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "এসব খাতে আগামী দিনে রপ্তানি বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।" নীতি সহায়তা ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে এসব খাতের রপ্তানি সক্ষমতা আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যেসব খাত এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি, সেগুলোকে সক্ষম করে তোলার কাজ চলছে।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় এ ঘাটতি আরো বেড়েছে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে প্রায় ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং বাকি অংশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়।
তিনি বলেন, "ভারতের আরো কয়েকটি খাতে রপ্তানি সক্ষমতা রয়েছে। তবে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকেও কিছু বাধা রয়েছে।" একইভাবে গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতীয় একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "তারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথভাবে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "সমন্বিতভাবে আমরা বিভিন্ন চেষ্টা করছি, যাতে আগামী দিনে ভারতের ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি আরো বৃদ্ধি করা যায়।"
বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কোনো দেশ যখন আমদানি করে, সাধারণত সরকার নয়, বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরাই তা করে থাকেন।" ব্যবসায়ীরা অন্য উৎসের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেই আমদানির উৎস নির্বাচন করেন। ফলে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবধান বেশি হলেও আমদানিকারকরা নিজেদের ব্যবসায়িক সুবিধা বিবেচনা করেই ভারত থেকে পণ্য আমদানি করে থাকেন।
এদিকে, ই-কমার্স প্রতারণা রোধ ও গ্রাহকদের অর্থ সুরক্ষায় নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে কি না— বিরোধী দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৯-এর সদস্য সাবিকুন্নাহারের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, "ই-কমার্স ও ডিজিটাল ট্রেডের জন্য একটি ‘জাতীয় কর্তৃপক্ষ’ গঠনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।"
তিনি বলেন, "ই-কমার্স এবং ডিজিটাল ট্রেডের জন্য আমরা একটি ‘জাতীয় কর্তৃপক্ষ’ সৃষ্টির বিষয় বিবেচনা করছি। সেটা করা গেলে পুরো ই-কমার্স খাতকে আরো ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনের আওতায় আনা যাবে।"
এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান বাণিজ্য মন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অধিকৃত পশ্চিম তীরে বুধবার রাতে ইসরাইলি সেনার গুলিতে দুই কিশোর নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা একটি ‘সহিংস দাঙ্গার’ সময় গুলি চালিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য পশ্চিম তীরে রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আল-মুগাইয়ির গ্রামে ইসরাইলি সেনার গুলিতে ১৯ বছর বয়সী ওমর মোহাম্মদ নাজি আল-নাসান এবং ১৬ বছর বয়সী খলিল রাসেম খলিল শাহাদা নিহত হয়েছেন। রামাল্লাহ থেকে সংবাদ সংস্থা এ খবর নিশ্চিত করেছে।
আল-মুগাইয়ির গ্রাম পরিষদের প্রধান আমিন আবু আলিয়া এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা গ্রামের দুটি বাড়ি থেকে ভেড়া চুরির চেষ্টা করে।’ সংঘর্ষের পর ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী গ্রামটি অবরুদ্ধ করে এবং পরে এর কেন্দ্রে অভিযান চালায়।’
তিনি আরও বলেন, ইসরাইলি বাহিনী বিভিন্ন ভবনের ভেতরে স্নাইপার মোতায়েন করে। তারা বসতি স্থাপনকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে ‘সরাসরি গুলি চালায়।’
অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ‘এলাকাটিতে পাওয়া ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিকদের গবাদিপশু ফিরিয়ে দেওয়ার সুবিধার্থে’ তারা গ্রামের প্রবেশপথ ‘নিরাপদ করেছিল।’
সেনাবাহিনী জানায়, ‘বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেওয়ার সময় একটি সহিংস দাঙ্গা শুরু হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা সেনাদের লক্ষ্য করে কংক্রিটের ব্লক ও পাথর নিক্ষেপ করে।’
সেনাবাহিনী আরও বলেছে, ‘হুমকি দূর করতে মূল উসকানিদাতাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে বাহিনী জবাব দেয়।’ এ ঘটনার পর পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানায়, সংঘর্ষের সময় গুলিতে দুই কিশোর গুরুতর আহত হয়। নাসানের ঘাড়ে এবং শাহাদার পিঠে গুলি লাগে। তাদের রামাল্লাহর দুটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইল আক্রমণের পর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হলে সহিংসতা বেড়ে যায়।
ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়ে প্রায় প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
ফিলিস্তিনের সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এএফপি’র হিসাব অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ১০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সশস্ত্র যোদ্ধাও রয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের হামলা অথবা ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৪৮ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ