বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৯ পি.এম
আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার ১০২তম সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি আর্মেনিয়ায় অপরিহার্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, যদি মস্কো এই ঘাঁটি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইয়েরেভানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কিত।
পাশিনিয়ান আরও জানান, আর্মেনিয়ার রেলপথ পরিচালনার জন্য কনসেশন চুক্তির আওতায় রাশিয়ার অধিকার রয়েছে, এবং এটি কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করাটাই ইয়েরেভানের জন্য সর্বোত্তম বিকল্প হবে। তিনি বলেন, “এই সময়ে আমরা রুশ সামরিক ঘাঁটির বিষয়টি একবারও উত্থাপন করিনি; আর এমনও নয় যে আর্মেনিয়ার ভূখণ্ডে রাশিয়ার ১০২তম সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতিকে আমরা অত্যন্ত জরুরি বা অপরিহার্য বলে মনে করি।”
মঙ্গলবার বিশকেকে পুতিন ও পাশিনিয়ানের মধ্যকার বৈঠকে আর্মেনিয়ার রেল অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। বৈঠকের পর পুতিন বলেন, রেলপথে বিনিয়োগের বিষয়টি নির্ভর করবে পণ্য পরিবহনের পরিমাণের ওপর। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন নতুন রুট বা পথ চালু হলে তা পণ্য পরিবহনের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি, এটি বিনিয়োগকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করে তুলতে পারে।
পুতিন আরও বলেন, রুশ সামরিক ঘাঁটির বিষয়টি আর্মেনিয়ার নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করে। তিনি বলেন, “আর্মেনিয়া যদি মনে করে যে রুশ সামরিক ঘাঁটির আর প্রয়োজন নেই, তবে আমরা আগামীকালই চলে যাব। আমরা কারও ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেব না।”
একই সঙ্গে পুতিন উল্লেখ করেন, আর্মেনিয়ার জনগণ যদি রুশ সামরিক উপস্থিতি চায় এবং মস্কোর সঙ্গে কাজ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত থাকে, তবে রাশিয়া সেখানে অবস্থান করবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশে ভারত ও চীনের সঙ্গে একটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান থাকলেও, সরকার দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই তথ্য জানিয়েছেন।
আজ জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৬ আসনের বিরোধী দলীয় সদস্য মো. আব্দুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য বিশেষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, "দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের দেশভিত্তিক বড় দু’টি ঘাটতি রয়েছে ভারত ও চীনের সঙ্গে। তবে, বিষয়টি শুধু দেশভিত্তিকভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের ওভার-অল এক্সপোর্টেবিলিটি বাড়ানো দরকার, এক্সপোর্টের এবিলিটি বাড়ানো দরকার।"
রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি খাত চিহ্নিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "এসব খাতে আগামী দিনে রপ্তানি বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।" নীতি সহায়তা ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে এসব খাতের রপ্তানি সক্ষমতা আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যেসব খাত এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি, সেগুলোকে সক্ষম করে তোলার কাজ চলছে।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় এ ঘাটতি আরো বেড়েছে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে প্রায় ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং বাকি অংশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়।
তিনি বলেন, "ভারতের আরো কয়েকটি খাতে রপ্তানি সক্ষমতা রয়েছে। তবে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকেও কিছু বাধা রয়েছে।" একইভাবে গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতীয় একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "তারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথভাবে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "সমন্বিতভাবে আমরা বিভিন্ন চেষ্টা করছি, যাতে আগামী দিনে ভারতের ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি আরো বৃদ্ধি করা যায়।"
বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কোনো দেশ যখন আমদানি করে, সাধারণত সরকার নয়, বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরাই তা করে থাকেন।" ব্যবসায়ীরা অন্য উৎসের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেই আমদানির উৎস নির্বাচন করেন। ফলে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবধান বেশি হলেও আমদানিকারকরা নিজেদের ব্যবসায়িক সুবিধা বিবেচনা করেই ভারত থেকে পণ্য আমদানি করে থাকেন।
এদিকে, ই-কমার্স প্রতারণা রোধ ও গ্রাহকদের অর্থ সুরক্ষায় নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে কি না— বিরোধী দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৯-এর সদস্য সাবিকুন্নাহারের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, "ই-কমার্স ও ডিজিটাল ট্রেডের জন্য একটি ‘জাতীয় কর্তৃপক্ষ’ গঠনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।"
তিনি বলেন, "ই-কমার্স এবং ডিজিটাল ট্রেডের জন্য আমরা একটি ‘জাতীয় কর্তৃপক্ষ’ সৃষ্টির বিষয় বিবেচনা করছি। সেটা করা গেলে পুরো ই-কমার্স খাতকে আরো ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনের আওতায় আনা যাবে।"
এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান বাণিজ্য মন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অধিকৃত পশ্চিম তীরে বুধবার রাতে ইসরাইলি সেনার গুলিতে দুই কিশোর নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা একটি ‘সহিংস দাঙ্গার’ সময় গুলি চালিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য পশ্চিম তীরে রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আল-মুগাইয়ির গ্রামে ইসরাইলি সেনার গুলিতে ১৯ বছর বয়সী ওমর মোহাম্মদ নাজি আল-নাসান এবং ১৬ বছর বয়সী খলিল রাসেম খলিল শাহাদা নিহত হয়েছেন। রামাল্লাহ থেকে সংবাদ সংস্থা এ খবর নিশ্চিত করেছে।
আল-মুগাইয়ির গ্রাম পরিষদের প্রধান আমিন আবু আলিয়া এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা গ্রামের দুটি বাড়ি থেকে ভেড়া চুরির চেষ্টা করে।’ সংঘর্ষের পর ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী গ্রামটি অবরুদ্ধ করে এবং পরে এর কেন্দ্রে অভিযান চালায়।’
তিনি আরও বলেন, ইসরাইলি বাহিনী বিভিন্ন ভবনের ভেতরে স্নাইপার মোতায়েন করে। তারা বসতি স্থাপনকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে ‘সরাসরি গুলি চালায়।’
অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ‘এলাকাটিতে পাওয়া ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিকদের গবাদিপশু ফিরিয়ে দেওয়ার সুবিধার্থে’ তারা গ্রামের প্রবেশপথ ‘নিরাপদ করেছিল।’
সেনাবাহিনী জানায়, ‘বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেওয়ার সময় একটি সহিংস দাঙ্গা শুরু হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা সেনাদের লক্ষ্য করে কংক্রিটের ব্লক ও পাথর নিক্ষেপ করে।’
সেনাবাহিনী আরও বলেছে, ‘হুমকি দূর করতে মূল উসকানিদাতাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে বাহিনী জবাব দেয়।’ এ ঘটনার পর পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানায়, সংঘর্ষের সময় গুলিতে দুই কিশোর গুরুতর আহত হয়। নাসানের ঘাড়ে এবং শাহাদার পিঠে গুলি লাগে। তাদের রামাল্লাহর দুটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইল আক্রমণের পর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হলে সহিংসতা বেড়ে যায়।
ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়ে প্রায় প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
ফিলিস্তিনের সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এএফপি’র হিসাব অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ১০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সশস্ত্র যোদ্ধাও রয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের হামলা অথবা ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৪৮ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের গোল্ডকোস্টে বসবাসরত নটরডেম কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক আনন্দঘন প্রাতরাশ মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। গত ৩১ আগস্ট সকালে গোল্ডকোস্টের মনোরম Salacia Waters Cafe & Restaurant-এ ব্রিসবেন ও গোল্ডকোস্টের নটরডেমিয়ানদের জন্য এই প্রাণবন্ত আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যানবেরা থেকে আগত অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এফ এম বুরহান উদ্দিন। তিনি নিজেও নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী হওয়ায়, তাঁর উপস্থিতি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।
নদীর পাড়ের মনোরম পরিবেশে আয়োজিত এই মিলনমেলায় নবীন ও প্রবীণ নটরডেমিয়ানরা একত্রিত হয়ে কলেজ জীবনের সোনালি দিনগুলোর স্মৃতিতে ফিরে যান। দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় সকালজুড়ে চলে প্রাণখোলা আড্ডা, হাসি-আনন্দ ও পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন যীশু দাস। পরিচয়পর্ব শেষে স্মৃতিচারণ ও মুক্ত আলোচনা শুরু হয়। ডা. সৈকত, আতিক এবং অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আতিফুর রহমান জেরিন তাঁদের কলেজ জীবনের নানা ঘটনা ও স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তাঁদের হাস্যরসাত্মক ও আবেগঘন স্মৃতিচারণে উপস্থিত সবাই যেন ফিরে যান নটরডেম কলেজের সেই সোনালি দিনগুলোতে।
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার এফ এম বুরহান উদ্দিন উপস্থিত সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং নটরডেম জীবনের নানা স্মৃতি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের কলেজজীবনের স্মৃতিও সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।
মিলনমেলায় শুধু স্মৃতিচারণ ও আনন্দ-আড্ডাই নয়, নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও উঠে আসে।
ডা. সাজিদুল ইসলাম নটরডেম কলেজের জন্য একটি ডিফিব্রিলেটর (Defibrillator) স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাবনা পেশ করেন। উপস্থিত নটরডেমিয়ানরা প্রস্তাবটির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেন।
বিশেষ করে অধ্যাপক ডা. আতিফুর রহমান জেরিনসহ উপস্থিত সবাই এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরুরি হৃদ্যন্ত্রজনিত পরিস্থিতিতে দ্রুত জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নটরডেম কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আরও বৃহত্তর পরিসরে একত্রিত করার বিষয়ে একমত হন। নিয়মিতভাবে এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নটরডেমিয়ানদের পারস্পরিক যোগাযোগ, বন্ধুত্ব ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও নটরডেমিয়ান অধ্যাপক ডা. আতিফুর রহমান জেরিন, প্রবীণ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ইশতিয়াক আমিন পাপ্পু, ব্রিসবেনের জনপ্রিয় সাহিত্যিক মোস্তাফিজুর রহমান টিটু, ডা. সৈকত, কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দেওয়ান মুস্তাফিজুর রহমান, অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ সেনাবাহিনীতে কর্মরত তাহসিন, আতিক, ফেডারেল ডিরেক্টর তৌহিদ, অর্থনীতিবিদ তারেক ইসলাম সহ প্রায় ২৩ জন নটরডেমিয়ান।
এছাড়া সিডনি থেকে বিশেষভাবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন নটরডেম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. সাজিদুল ইসলাম।
এরপর উপস্থিত অতিথিদের জন্য নদীতে নৌ ভ্রমণেরও আয়োজন করা হয়। মনোরম নদীর বুকে নৌভ্রমণ, চা-চক্র, আড্ডা ও পুরনো দিনের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় নটরডেমিয়ানদের এই ঘটনা-বহুল ও আনন্দঘন মিলনমেলা।
আয়োজকদের মতে, প্রবাসে থেকেও নটরডেম কলেজের ঐতিহ্য, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন অটুট রাখতেই এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নটরডেমিয়ানদের নিয়ে এমন মিলনমেলার আয়োজনের প্রত্যাশা নিয়েই শেষ হয় এবারের আয়োজন।
প্রাতরাশের আয়োজন শেষে মিলনমেলার আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয় অধ্যাপক ডা: আতিফুর রহমান জেরিনের বাসায় আয়োজিত চা-চক্র। সেখানে আবারও চলে প্রাণখোলা আড্ডা ও স্মৃতিচারণ।
এরপর উপস্থিত অতিথিদের জন্য নদীতে নৌ ভ্রমণেরও আয়োজন করেন ডা: জেরিন। মনোরম নদীর বুকে নৌভ্রমণ, চা-চক্র, আড্ডা ও পুরনো দিনের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় নটরডেমিয়ানদের এই ঘটনা-বহুল ও আনন্দঘন মিলনমেলা।
আয়োজকদের মতে, প্রবাসে থেকেও নটরডেম কলেজের ঐতিহ্য, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন অটুট রাখতেই এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নটরডেমিয়ানদের নিয়ে এমন মিলনমেলার আয়োজনের প্রত্যাশা নিয়েই শেষ হয় এবারের আয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগমকে ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষ করার পর সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তর ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে এই বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উত্তর ইসলামপুর পঞ্চায়েত কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য দেলোয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফয়সাল হোসেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পঞ্চায়েত সদস্য শহিদুল্লাহ বেপারী, মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উত্তর ইসলামপুর পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য গোলজার হোসেন এবং অ্যাডভোকেট সুজন হায়দার জনি।
মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, "বাবা-মা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান, আর শিক্ষক সেই সন্তানকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন।" তিনি উল্লেখ করেন, মমতাজ বেগম দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে বহু শিক্ষার্থীকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার অনেক শিক্ষার্থী সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে মমতাজ বেগম দিনরাত কাজ করেছেন।" বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নেও সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে নিজের বেতনের অর্থ ব্যয় করেছেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ না থাকলে কেউ এমনটি করতে পারেন না এবং মমতাজ বেগম অন্য শিক্ষকদের জন্যও আদর্শ হয়ে থাকবেন।
মমতাজ বেগমের শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা ৩২ বছরের বেশি। এর মধ্যে তিনি ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১ বছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলজার হোসেন বলেন, ‘মমতাজ বেগম সত্যিকারের একজন মানুষ গড়ার কারিগর। তার অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী হয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করছেন। এমন একজন গুণী মানুষকে বিদায় দেওয়া কষ্টের।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল হাসান তুষার, শহর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রায়হান কবির, সমাজসেবক হাজি নজরুল ইসলাম, হাজি জজমিয়া, শাহজালাল ভূইয়া, মনির হোসেন, যুবদল নেতা বুরজাহান ঢালী, সিরাজ পাঠান প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ