০৫:১২ পি.এম
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের মধ্যে চলমান তীব্র রাজনৈতিক বাগযুদ্ধের মধ্যে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত মৌলিক নীতিগুলোর ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে রয়েছে গভীর সাদৃশ্য। যদিও দল দুটির মতাদর্শিক অবস্থান আপাতদৃষ্টিতে ভিন্ন মনে হচ্ছে, ফিলিস্তিন সংকট, হামাস নির্মূল, ইরান নীতি এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের প্রশ্নে নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোট মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্যক্তি নেতানিয়াহুর দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিভক্ত হলেও, যেসব মৌলিক নীতিতে দুই নেতার মধ্যে পূর্ণ মতৈক্য বিদ্যমান, সেগুলো নিম্নরূপ:
১. আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে অস্বীকৃতি
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
নির্বাচনোত্তর সরকার গঠনের জটিল সমীকরণে পার্লামেন্টের আরব দলগুলোর সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও, নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোট উভয়েই আরব আইনপ্রণেতাদের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন। নেতানিয়াহু দাবি করেন, আরবদের সমর্থনে গঠিত সরকার জাতীয় বৈধতা হারাবে; অন্যদিকে, আইজেনকোটও নির্বাচনি প্রচারণায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার পরিচালনা করবেন না।
২. ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা (দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান নাকচ)
আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার তাগিদ থাকলেও, নেতানিয়াহুর মতোই আইজেনকোটও ফিলিস্তিনিদের জন্য পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোর বিরোধী। আইজেনকোট ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানভিত্তিক পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে প্রকাশ্যে অভিহিত করেছেন। ফলে, নেতানিয়াহুর পতন হলেও ফিলিস্তিনের স্বাধিকার প্রশ্নে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় অবস্থানের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
৩. হামাস নির্মূল ও গাজায় সামরিক আধিপত্য
আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০
গাজায় সামরিক আগ্রাসনের ক্ষেত্রে আইজেনকোট কোনোভাবেই নমনীয় নন। ২০০৮ সালে বৈরুতে বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার আক্রমণাত্মক ‘দাহিয়াহ ডকট্রিন’-এর অন্যতম রূপকার ছিলেন এই সাবেক সেনাপ্রধান। গাজায় হামাসের শাসন সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে নেতানিয়াহুর মতোই কঠোর সামরিক অভিযানের পক্ষে তিনি। নেতানিয়াহু ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের’ কথা বলছেন, আর আইজেনকোটের দাবি—আগামী ১৮ মাসের মধ্যে গাজা থেকে হামাসের কর্তৃত্ব সম্পূর্ণ নিঃশেষ করতে হবে।
৪. ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি রুখে দেওয়া
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের অস্তিত্বের প্রধান হুমকি হিসেবে ইরানকে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোট সম্পূর্ণ একমত। ইরান যেন কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে জন্য দেশটিতে প্রয়োজনে সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং তেহরান-সমর্থিত আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে নিষ্ক্রিয় রাখার প্রশ্নে আইজেনকোটের অবস্থান নেতানিয়াহুর নীতিমালারই হুবহু প্রতিফলন।
৫. জায়নবাদী অগ্রাধিকার ও লেবানন নীতি
আরও পড়ুন: কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা
উভয় নেতাই ইসরাইলকে কঠোর ‘জায়নবাদী রাষ্ট্র’ হিসেবে টিকিয়ে রাখার ওপর জোর দেন। লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে চরম সামরিক বলপ্রয়োগের নীতিতে আইজেনকোট এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই।
বিশ্লেষকদের অভিমত, নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তেল আবিবের ক্ষমতার মুখ হয়তো বদলাতে পারে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য, যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ঘিরে ইসরাইলের আগ্রাসী মৌলিক নিরাপত্তা নীতিগুলো অপরিবর্তিতই থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন