০৮:২৩ পি.এম
বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে নিরাপদ, আধুনিক এবং পরিবেশবান্ধব করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এর সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (২২ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে জাইকা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই শিল্পের ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে খাতটির টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা।”
আরও পড়ুন: মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি
মন্ত্রী আরও জানান, “জাইকার সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন ‘জাইকা জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্প’ এই খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
বৈঠকে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ডগুলোর সক্ষমতা মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি আধুনিক নির্দেশিকা তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা পরিকল্পনা (এসআরএফপি) যাচাই এবং সনদ প্রদান ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ পরিকল্পনা (এসআরপি) অনুমোদনের ব্যবস্থাও উন্নত করা হবে।
এই খাতটিতে অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানোর উদ্দেশ্যে একটি সমন্বিত অনলাইন ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এই পরিষেবাটির মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি দফতরের অনুমোদন দ্রুত এবং সহজভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
জাইকার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রশাসনিক এবং কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পব্যবস্থা তৈরি করা।
আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, বৈঠকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বড় দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে আন্তর্জাতিক শিল্পব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। জাইকার সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।”
বৈঠকে বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মাহবুবা খাতুন মিনু উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রকাশ রাজের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ঘোষণা, সিইসি অপসারণের দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন