সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৫৫ পি.এম
দিরাই উপজেলা বিএনপির ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক ও তৃণমূল নেতা জনাব মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুককে ঘিরে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দিরাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশে থেকে এবং সুখে-দুঃখে তাদের খোঁজখবর রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক। এ কারণে তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক এগিয়ে আছেন—এমন আলোচনা বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তার বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী নগরীতে অভিযান চালিয়ে ১৩জন মাদক কারবারী ও বিভিন্ন অপরাধে ৩৮জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ট্যাপেন্টাডল, ইয়াবা, গাঁজা ও এসকাফ সিরাপসহ মাদক বিক্রির নগদ অর্থ মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
সোমবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর), মোঃ গাজিউর রহমান।
তিনি জানান, রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর বোয়ালিয়া থানার সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৯পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ১৬ হাজার ৬৭০ টাকা তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো: মানিক চাঁদ সওদাগর (৩৫), সাব্বির হোসেন (২০) ও সাদ্দাম হোসেন (১৯)।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির ও সাদ্দাম মানিকের সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রিতে যুক্ত রয়েছে।
এদিকে কাটাখালী, কাশিয়াডাঙ্গা, চন্দ্রিমা, শাহমখদুম, পবা ও মতিহার থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে আরও ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসব অভিযানে ১৯০ গ্রাম গাঁজা, ২৪পিস ট্যাপেন্টাডল, ৭পিস ইয়াবা ও একটি এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। নগরীর শাহমখদুম থানা এলাকায় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। অভিযানে একজন পালিয়ে গেলেও তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাগরের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা, সাব্বিরের বিরুদ্ধে দুটি মাদক ও একটি পেনাল কোডের মামলা এবং রনির বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক ও একটি পেনাল কোডের মামলা রয়েছে।
এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এর মধ্যে ১৪ জন ওয়ারেন্টভুক্ত, ১৬ জন মাদক মামলার আসামি এবং অন্য মামলায় ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দক্ষ ও সুশিক্ষিত জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সৌদি আরবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতের অফুরন্ত সুযোগ ও সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য এই আহ্বান জানান।
আজ সোমবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস-কে এ তথ্য জানান।
প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে যে, সৌদি আরবে ভিশন ২০৩০, ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০৩৪-কে কেন্দ্র করে বিশাল উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, অবকাঠামো নির্মাণ এবং দক্ষ জনশক্তির চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কার্যকর অংশগ্রহণের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে তারা।
রাষ্ট্রপতি এই বিপুল সম্ভাবনা ও সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য প্রতিনিধিদলকে পরামর্শ দেন এবং এ ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
এ সময় সংগঠনটি জানায়, চেম্বারের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তিকে সম্পৃক্ত করে সৌদি আরবের পাঁচটি বড় শহরে বাংলাদেশের পণ্য, সেবা ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোর পরিচিতি তুলে ধরতে কাজ করছে। তারা দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার পাশাপাশি ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানালে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি শেখ নাসির উদ্দিন এবং পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী, এ বি এম সিদ্দীক, মো. সাজ্জাদ উন নেওয়াজ প্রমুখ।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেসসচিব উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হয়েছেন অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেই। এটি ঘটেছে হোয়াইট হাউসের এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ মিস করার পর। গত রবিবার ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে তারা একটি বিশেষ নৈশভোজে অংশ নেন।
সিএনবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সম্মানে আয়োজিত হোয়াইট হাউসের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, স্পেসএক্সয়ের ইলন মাস্ক এবং গুগলের সুন্দর পিচাইয়ের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু শিডিউল জটিলতার কারণে আমোদেই সেখানে উপস্থিত হতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প তাকে বিশেষ নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন অ্যানথ্রপিক শেয়ার বাজারে বড়ভাবে আত্মপ্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পাশাপাশি, মাত্র দুদিন আগে একটি মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত পেন্টাগনের পক্ষে রায় দিয়ে অ্যানথ্রপিককে ‘সাপ্লাই চেইন রিস্ক’ (সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি) হিসেবে বহাল রেখেছে। এর ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে তাদের এআই মডেল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
এআই-এর আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি প্রণয়ন নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আমোদেইর মতবিরোধ বিদ্যমান। আমোদেই যেখানে কড়া বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণের পক্ষে, ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে এআই খাতের ওপর থেকে সরকারি বিধিনিষেধ শিথিল করার পক্ষে। এর উদ্দেশ্য হলো, চীন যেন এই প্রযুক্তির দৌড়ে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যেতে না পারে।
অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক বর্তমানে টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। তাই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমোদেইর এই একান্ত বৈঠকটি দুই পক্ষের মধ্যকার উত্তেজনা কমানোর একটি সুযোগ হতে পারে।
রবিবারের এই নৈশভোজ নিয়ে সিএনবিসির এক প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বার্তা একদম পরিষ্কার। "গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে আমেরিকা এআই প্রযুক্তিতে বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। আমরা নতুন নতুন আবিষ্কারকে উৎসাহিত করব, আমেরিকার প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াব এবং নিশ্চিত করব যেন এই রূপান্তরমূলক প্রযুক্তি আমেরিকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে," বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের কিছু মডেলে সফটওয়্যার ত্রুটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং শনাক্ত করেছে। নির্দিষ্ট একটি অবতরণ পরিস্থিতিতে এই ত্রুটির কারণে উড়োজাহাজের স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট গাইডেন্স ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ও আকাসা এয়ারের বহরে থাকা প্রায় ৯৬টি ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ এই সমস্যার আওতায় পড়তে পারে। খবর উইয়ন।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বহরে প্রায় ৫৩টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স রয়েছে। আকাসা এয়ার পরিচালনা করছে ৪৩টি এ ধরনের উড়োজাহাজ।
বোয়িংয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত মাসেই বিশ্বের সব ৭৩৭ উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাকে সফটওয়্যার সমস্যাটির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। সফটওয়্যার আপডেট তৈরির কাজ চলছে, যা সমস্যাটি স্থায়ীভাবে সমাধান করবে।
বোয়িং জানিয়েছে, নির্দিষ্ট একটি অবতরণ পরিস্থিতিতে পাইলটদের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি নিরাপদে সামাল দেওয়ার জন্য বিদ্যমান পাইলট পদ্ধতি অনুসরণ করতে অপারেটরদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে।
কিভাবে দেখা দিতে পারে ত্রুটি
বোয়িংয়ের নথির বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো উড়োজাহাজের অবতরণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে (মিসড অ্যাপ্রোচ) পাইলটরা নির্ধারিত ফ্লাইটপথ পরিবর্তন করলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নতুন অবতরণপথটি আগে থেকে নির্ধারিত পথের তুলনায় ভিন্ন হলে স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট গাইডেন্স ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
তবে এতে পাইলটদের ম্যানুয়ালি উড়োজাহাজ চালানোর সক্ষমতা নষ্ট হয় না। পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসড অ্যাপ্রোচের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সিস্টেমটি রিসেট করার পরামর্শ দিয়েছে বোয়িং।
স্থায়ী সফটওয়্যার আপডেট না আসা পর্যন্ত এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে অপারেটরদের বিদ্যমান পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তায় প্রভাব নেই : আকাসা এয়ার
আকাসা এয়ার জানিয়েছে, তারা সফটওয়্যার সমস্যাটি নিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তবে এর কারণে তাদের উড়োজাহাজ পরিচালনার নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব পড়েনি।
পিটিআইকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আকাসা এয়ারের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বোয়িংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছি এবং নিশ্চিত করতে পারি যে, আকাসা এয়ারের কার্যক্রমের নিরাপত্তায় এর কোনো প্রভাব নেই।’
আকাসা এয়ারের কোনো ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজে ইতিমধ্যে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে কি না, তা অবশ্য জানায়নি সংস্থাটি।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএও বিষয়টি পর্যালোচনা করছে কি না কিংবা ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলোর জন্য কোনো নির্দেশনা জারি করবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি।
আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার পর বাড়তি নজরদারি
ভারতে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ নিয়ে বাড়তি নজরদারির মধ্যে ৭৩৭ ম্যাক্সের সফটওয়্যার সমস্যার খবরটি সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের জুনে আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।
ওই দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হন। এরপর ভারতীয় এয়ারলাইনসের পরিচালিত বোয়িং ৭৮৭-৮ ও ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও উড্ডয়নের আগে রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে ডিজিসিএ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লন্ডন থেকে বেঙ্গালুরুর পথে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজও একটি সম্ভাব্য ত্রুটির কারণে গ্রাউন্ডেড করা হয়েছিল। উড়োজাহাজটির পাইলট ইঞ্জিনের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচের লকিং ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন।
পরে বোয়িংয়ের পরীক্ষায় ওই ব্যবস্থায় কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি বলে ভারত সরকার জানায়। তবে ওই ঘটনা এবং সর্বশেষ ৭৩৭ ম্যাক্সের সফটওয়্যার ত্রুটি—দুটি আলাদা বিষয়।
৭৩৭ ম্যাক্স নিয়ে আগের বিতর্ক
বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ ২০১৮ ও ২০১৯ সালের দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা পর্যালোচনার মুখে পড়ে।
২০১৮ সালের অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ায় লায়ন এয়ারের একটি ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিধ্বস্ত হয়ে ১৮৯ জন নিহত হন। পরের বছর মার্চে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ দুর্ঘটনায় ১৫৭ জন নিহত হন। এরপর উড়োজাহাজটির চলাচল বিশ্বজুড়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ উড়োজাহাজের দরজার একটি প্লাগ উড্ডয়নের সময় খুলে যাওয়ার ঘটনাও নতুন করে বোয়িংয়ের উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বোয়িং জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০টির বেশি ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হয়েছে।
স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষা
বোয়িং এখন সফটওয়্যার সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে আপডেট তৈরির কাজ করছে। আপডেটটি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত মিসড অ্যাপ্রোচের পর ফ্লাইট গাইডেন্স ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পাইলটদের করণীয় সম্পর্কে অপারেটরদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলোর জন্য বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন দেশটিতে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং যাত্রীদের নজরদারি বেড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ