সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১১ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হয়েছেন অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেই। এটি ঘটেছে হোয়াইট হাউসের এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ মিস করার পর। গত রবিবার ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে তারা একটি বিশেষ নৈশভোজে অংশ নেন।
সিএনবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সম্মানে আয়োজিত হোয়াইট হাউসের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, স্পেসএক্সয়ের ইলন মাস্ক এবং গুগলের সুন্দর পিচাইয়ের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু শিডিউল জটিলতার কারণে আমোদেই সেখানে উপস্থিত হতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প তাকে বিশেষ নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন অ্যানথ্রপিক শেয়ার বাজারে বড়ভাবে আত্মপ্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পাশাপাশি, মাত্র দুদিন আগে একটি মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত পেন্টাগনের পক্ষে রায় দিয়ে অ্যানথ্রপিককে ‘সাপ্লাই চেইন রিস্ক’ (সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি) হিসেবে বহাল রেখেছে। এর ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে তাদের এআই মডেল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
এআই-এর আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি প্রণয়ন নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আমোদেইর মতবিরোধ বিদ্যমান। আমোদেই যেখানে কড়া বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণের পক্ষে, ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে এআই খাতের ওপর থেকে সরকারি বিধিনিষেধ শিথিল করার পক্ষে। এর উদ্দেশ্য হলো, চীন যেন এই প্রযুক্তির দৌড়ে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যেতে না পারে।
অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক বর্তমানে টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। তাই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমোদেইর এই একান্ত বৈঠকটি দুই পক্ষের মধ্যকার উত্তেজনা কমানোর একটি সুযোগ হতে পারে।
রবিবারের এই নৈশভোজ নিয়ে সিএনবিসির এক প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বার্তা একদম পরিষ্কার। "গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে আমেরিকা এআই প্রযুক্তিতে বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। আমরা নতুন নতুন আবিষ্কারকে উৎসাহিত করব, আমেরিকার প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াব এবং নিশ্চিত করব যেন এই রূপান্তরমূলক প্রযুক্তি আমেরিকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে," বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের কিছু মডেলে সফটওয়্যার ত্রুটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং শনাক্ত করেছে। নির্দিষ্ট একটি অবতরণ পরিস্থিতিতে এই ত্রুটির কারণে উড়োজাহাজের স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট গাইডেন্স ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ও আকাসা এয়ারের বহরে থাকা প্রায় ৯৬টি ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ এই সমস্যার আওতায় পড়তে পারে। খবর উইয়ন।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বহরে প্রায় ৫৩টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স রয়েছে। আকাসা এয়ার পরিচালনা করছে ৪৩টি এ ধরনের উড়োজাহাজ।
বোয়িংয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত মাসেই বিশ্বের সব ৭৩৭ উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাকে সফটওয়্যার সমস্যাটির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। সফটওয়্যার আপডেট তৈরির কাজ চলছে, যা সমস্যাটি স্থায়ীভাবে সমাধান করবে।
বোয়িং জানিয়েছে, নির্দিষ্ট একটি অবতরণ পরিস্থিতিতে পাইলটদের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি নিরাপদে সামাল দেওয়ার জন্য বিদ্যমান পাইলট পদ্ধতি অনুসরণ করতে অপারেটরদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে।
কিভাবে দেখা দিতে পারে ত্রুটি
বোয়িংয়ের নথির বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো উড়োজাহাজের অবতরণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে (মিসড অ্যাপ্রোচ) পাইলটরা নির্ধারিত ফ্লাইটপথ পরিবর্তন করলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নতুন অবতরণপথটি আগে থেকে নির্ধারিত পথের তুলনায় ভিন্ন হলে স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট গাইডেন্স ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
তবে এতে পাইলটদের ম্যানুয়ালি উড়োজাহাজ চালানোর সক্ষমতা নষ্ট হয় না। পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসড অ্যাপ্রোচের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সিস্টেমটি রিসেট করার পরামর্শ দিয়েছে বোয়িং।
স্থায়ী সফটওয়্যার আপডেট না আসা পর্যন্ত এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে অপারেটরদের বিদ্যমান পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তায় প্রভাব নেই : আকাসা এয়ার
আকাসা এয়ার জানিয়েছে, তারা সফটওয়্যার সমস্যাটি নিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তবে এর কারণে তাদের উড়োজাহাজ পরিচালনার নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব পড়েনি।
পিটিআইকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আকাসা এয়ারের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বোয়িংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছি এবং নিশ্চিত করতে পারি যে, আকাসা এয়ারের কার্যক্রমের নিরাপত্তায় এর কোনো প্রভাব নেই।’
আকাসা এয়ারের কোনো ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজে ইতিমধ্যে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে কি না, তা অবশ্য জানায়নি সংস্থাটি।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএও বিষয়টি পর্যালোচনা করছে কি না কিংবা ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলোর জন্য কোনো নির্দেশনা জারি করবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি।
আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার পর বাড়তি নজরদারি
ভারতে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ নিয়ে বাড়তি নজরদারির মধ্যে ৭৩৭ ম্যাক্সের সফটওয়্যার সমস্যার খবরটি সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের জুনে আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।
ওই দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হন। এরপর ভারতীয় এয়ারলাইনসের পরিচালিত বোয়িং ৭৮৭-৮ ও ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও উড্ডয়নের আগে রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে ডিজিসিএ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লন্ডন থেকে বেঙ্গালুরুর পথে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজও একটি সম্ভাব্য ত্রুটির কারণে গ্রাউন্ডেড করা হয়েছিল। উড়োজাহাজটির পাইলট ইঞ্জিনের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচের লকিং ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন।
পরে বোয়িংয়ের পরীক্ষায় ওই ব্যবস্থায় কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি বলে ভারত সরকার জানায়। তবে ওই ঘটনা এবং সর্বশেষ ৭৩৭ ম্যাক্সের সফটওয়্যার ত্রুটি—দুটি আলাদা বিষয়।
৭৩৭ ম্যাক্স নিয়ে আগের বিতর্ক
বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ ২০১৮ ও ২০১৯ সালের দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা পর্যালোচনার মুখে পড়ে।
২০১৮ সালের অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ায় লায়ন এয়ারের একটি ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিধ্বস্ত হয়ে ১৮৯ জন নিহত হন। পরের বছর মার্চে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ দুর্ঘটনায় ১৫৭ জন নিহত হন। এরপর উড়োজাহাজটির চলাচল বিশ্বজুড়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ উড়োজাহাজের দরজার একটি প্লাগ উড্ডয়নের সময় খুলে যাওয়ার ঘটনাও নতুন করে বোয়িংয়ের উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বোয়িং জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০টির বেশি ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হয়েছে।
স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষা
বোয়িং এখন সফটওয়্যার সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে আপডেট তৈরির কাজ করছে। আপডেটটি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত মিসড অ্যাপ্রোচের পর ফ্লাইট গাইডেন্স ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পাইলটদের করণীয় সম্পর্কে অপারেটরদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলোর জন্য বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন দেশটিতে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং যাত্রীদের নজরদারি বেড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে কোনো সংকট নেই বলে এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে আশ্বস্ত করেছেন। তাদের দাবি, দেশে এলপিজির সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে।
আজ সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় অপারেটরদের পক্ষ থেকে এ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়। সভায় দেশের এলপিজি আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি, বাজারদরসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, গত আগস্টে দেশে এক লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে সভায় জানানো হয়, দেশে এলপিজির জোগান ও মজুদ পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। ফলে বর্তমানে এলপিজির কোনো ধরনের সংকট নেই বলে আমদানিকারক ও অপারেটররা নিশ্চিত করেন।
জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও গ্রাহক পর্যায়ে যেন সরবরাহে কোনো ঘাটতি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যেন এলপিজি মজুদ করে কৃত্রিম সংকট বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। অপারেটররা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
সভায় এলপিজি অপারেটররা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে জ্বালানি বিভাগকে নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের বাধা দূর করতে মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের পীরগাছায় পারিবারিক কলহের কারণে বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে পুলিশ ছেলে হাসানুর রহমানকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে এই গ্রেপ্তারটি করা হয়।
মৃত ব্যক্তির নাম মাহবুর রহমান, যিনি উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের উত্তর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার হওয়া হাসানুর, তার ছেলে।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, পারিবারিক কলহের কারণে হাসানুর রহমান তার মা হাসনা বেগমের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। এই নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। একপর্যায়ে হাসানুর অভিমান করে থাকলে পরিবারের সদস্যরা তার রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানায়, হাসানুর ও তার মা হাসনা বেগমকে একসঙ্গে বসে ভাত খাওয়ার জন্য হাত ধরে অনুরোধ করেন তার শাশুড়ি মর্জিনা বেগম। এ সময় হাসানুর ক্ষিপ্ত হয়ে মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। ঘটনাটি দেখে তার বাবা মাহবুর রহমান প্রতিবাদ করেন। তিনি হাতের কাছে থাকা বাঁশের খড়ি দিয়ে হাসানুরকে আঘাত করেন এবং থাপ্পড় দেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসানুর ফল কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে তার বাবা মাহবুর রহমানের ডান কাঁধে সজোরে আঘাত করেন। ছুরিকাঘাতে মাহবুর রহমান গুরুতর আহত হন। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিহতের স্ত্রী হাসনা বেগম বাদী হয়ে ছেলে হাসানুর রহমানের বিরুদ্ধে পীরগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে হাসানুর আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত হাসানুর রহমান আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রতিবছর ২৮ সেপ্টেম্বর ‘বিমানবাহিনী দিবস’ উদযাপন করে আসছে।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও বীরত্বগাথা ধারণ করে, প্রতিবছরের মতো যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর উদযাপন করছে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে।
এ প্রসঙ্গে, আজ ঢাকা সেনানিবাসস্থ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশার-এর সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৫৫ বছরের গৌরবোজ্জ্বল পথচলা ও অর্জন নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢাকা এলাকায় কর্মরত কর্মকর্তা, বিমানসেনা, এমওডিসি (এয়ার) ও বেসামরিক সদস্যদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি এ সময় দেশের আকাশসীমা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় বিমানবাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারি, কঠোর শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।
আইএসপিআর জানায়, বিমানবাহিনী দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজকের এই দিনে বিমানবাহিনীর সব ঘাঁটি, ইউনিট ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কন্টিনজেন্টসমূহে বিমানবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, মসজিদসমূহে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন মেসসমূহে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ