ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধ করতে ইসরাইলকে চীনের কড়া বার্তা


পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধ করতে ইসরাইলকে চীনের কড়া বার্তা

চীন ইসরাইলকে পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন বন্ধ করতে এবং এ ধরনের উদ্যোগ ফিরিয়ে নিতে কঠোর বার্তা দিয়েছে। পাশাপাশি, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আজারবাইজানে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই দাবিগুলি উত্থাপন করেছেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াং ই ফিলিস্তিন সংকটকে বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, সংকটের সমাধানের সঠিক উপায় হলো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। গাজায় মানবিক বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে অবিলম্বে সেখানে প্রবেশের পথ খুলে দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যাতে সব পক্ষকে দ্রুত সংলাপে ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা যায়।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ওয়াং ই আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন

মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করতে চেয়ে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত সেপ্টেম্বরে মিসরের রাজধানী কায়রো সফর করেন। এটি এক দশকের মধ্যে তার প্রথম সফর ছিল। সফরের সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বাইরের শক্তির প্রভাবের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার এই সফর ঘটে। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির মুখপাত্রের মতে, বৈঠকে যুদ্ধের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। দুই প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানে একটি সমন্বিত চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

এর আগে, গত মার্চে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার সমালোচনা করে চীন। বেইজিং অবিলম্বে যৌথ হামলা বন্ধের দাবি জানায়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারকে ওয়াং ই বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। ওই আলোচনায় ইসরাইলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তবে ইসরাইলের সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কিনেছে। ২০২১ সালে তেহরানের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করে বেইজিং।

একই সময়ে, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও গত এক দশকে সম্পর্ক জোরদার করেছে চীন। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলেরও অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।

আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণেই বাড়ছে হ-ত্যা-কাণ্ড: এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণেই বাড়ছে হ-ত্যা-কাণ্ড: এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মন্তব্য করেছেন যে, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির ফলে প্রায়ই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, এর ফলে নাগরিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

আজ শুক্রবার সকালে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার সময় দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া বাজারে একটি দোকানে বসে ছিলেন বেসরকারি ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন (আইপিটিভি) চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তাকে গুলি করে হত্যা করে।

জামায়াতের এই নেতা জানান, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামানের হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনা দেশের সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট করে।

তিনি সরকারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নিহত সাংবাদিকের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেক্সিকোতে নিখোঁজ শিশুদের খুঁজতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


মেক্সিকোতে নিখোঁজ শিশুদের খুঁজতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : মেক্সিকোতে চলমান সহিংসতা ও মাদক চোরাচালান চক্রগুলোর আধিপত্যের কারণে হাজার হাজার শিশু নিখোঁজ হয়ে গেছে। নিখোঁজ এসব সন্তানের খোঁজে অসংখ্য মা-বাবা বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করছেন। এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তাদের স্বজনদের খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে।

মেক্সিকোয় নিখোঁজ ১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি মানুষের সন্ধানে সহায়তা করার লক্ষ্যে এআইভিত্তিক দুটি নতুন প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১৬ বছর বয়সে নিখোঁজ হয় রোসাসের ছেলে দিয়েগো। মধ্য মেক্সিকোর একাতেপেক শহরে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

রাজ্যের কৌঁসুলির অফিস জানায়, একটি অপরাধী চক্র দিয়েগোকে অপহরণ করেছিল। তবে কোন চক্র তাকে অপহরণ করেছে, কেন করেছে কিংবা সে এখনও বেঁচে আছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে হতাশ ভেরোনিকা রোসাস। বর্তমানে তার বয়স ৫২ বছর। মেক্সিকো সিটিতে নিয়মিত অনুষ্ঠিত বিচার দাবির এক বিক্ষোভে এএফপিকে তিনি বলেন, "১১ বছর পেরিয়ে গেছে, অথচ দিয়েগো কোথায় আছে, তা এখনো জানি না। আমার ছেলের কী হয়েছিল, তা জানার জন্য কোনো কার্যকর তদন্তের পথও আমাদের সামনে নেই।"

দিয়েগোর মতো অসংখ্য নিখোঁজ ব্যক্তির ঘটনা দুটি বিশ্ববিদ্যালয়কে এআইভিত্তিক প্রযুক্তি তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব প্রযুক্তি নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে সক্ষম হবে।

মেক্সিকোর প্রধান সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকো (ইউএনএএম) তৈরি করেছে ‘রেগ্রেসা’ নামের একটি প্রযুক্তি। স্প্যানিশ ভাষায় ‘রেগ্রেসা’ শব্দের অর্থ ‘ফিরে আসো’।

প্রযুক্তিটি নৃতাত্ত্বিক শারীরিক পরিমাপবিদ্যা বা অ্যানথ্রোপোমেট্রির সহায়তায় নিখোঁজ শিশুদের বর্তমান বয়সে চেহারা কেমন হতে পারে, তার একটি সম্ভাব্য ছবি তৈরি করে। নিখোঁজের সময় শিশুদের যে ছবি পোস্টারে প্রকাশ করা হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তাদের চেহারায় সম্ভাব্য পরিবর্তন সেই ছবিতে ফুটিয়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকায় তাদের বর্তমান বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি তৈরির দাবি জানিয়ে আসছেন পরিবারের সদস্যরা।

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোতে অপহৃত শিশুদের খুঁজতে আগে থেকেই মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে চেহারার পরিবর্তন অনুমান করার সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে।

মেক্সিকোর কয়েকটি কৌঁসুলি কার্যালয়েও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তবে অধিকাংশ সফটওয়্যার উন্মুক্ত উৎসের ছবির তথ্যভান্ডারের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে মেক্সিকানদের সাধারণ শারীরিক বৈশিষ্ট্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না।

রেগ্রেসার উদ্ভাবকেরা এ ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।

তারা ৭৫ জন মেক্সিকান স্বেচ্ছাসেবীর শত শত ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব একটি ছবির তথ্যভান্ডার তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে মেক্সিকানদের সাধারণ শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রকল্পটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নৃতত্ত্ববিদ আনা হুয়ারেস এএফপিকে বলেন, শিশুদের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া নির্ধারণেও রেগ্রেসা ভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

তিনি এএফপিকে বলেন, "অনেক সফটওয়্যার শুধু মুখমণ্ডলের আকৃতি ও ত্বকের গঠন নিয়ে কাজ করে, কিংবা বলিরেখার মতো পরিবর্তন দেখাতে বিভিন্ন ফিল্টার ব্যবহার করে। আমরা এমন একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছি, যার মাধ্যমে বয়স বাড়ার সঙ্গে একজন মানুষের মাথার খুলি ও মুখমণ্ডলের গঠনে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, তা তুলে ধরা যাবে।"

মেক্সিকোয় দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের নিষ্কিয়তার কারণে অনেক পরিবার নিজেরাই নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তদন্ত চালাতে বাধ্য হচ্ছে।

এ ধরনের অনুসন্ধানে সহায়তা করতে বেসরকারি ইবেরো-আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নৃতত্ত্ববিদও এআই ব্যবহার করছেন।

এমিলিয়ানো জোল্লা নিখোঁজ ব্যক্তিদের লিঙ্গ, বয়স এবং নিখোঁজ হওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী তথ্য সাজিয়ে একটি মানচিত্র তৈরি করছেন। তার আশা, এ তথ্যের মাধ্যমে পরিবারগুলো আরও নির্দিষ্টভাবে অনুসন্ধান চালাতে পারবে।

মেক্সিকোর সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য স্টেট অব মেক্সিকোর নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি দেখেছেন, নিখোঁজদের অনেকেই তরুণী। তাদের অনেকে স্কুল, কলেজ বা কর্মস্থলে যাওয়ার পথে কিংবা সেখান থেকে ফেরার সময় নিখোঁজ হন।

এএফপির কাছ থেকে রেগ্রেসা প্রযুক্তির বিষয়ে জানার পর ভেরোনিকা রোসাস বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে এআই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

তিনি বলেন, "এই উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যাদের তখন অপহরণ করা হয়েছিল, তারা এখন আর ছোট্ট শিশু নেই; বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাদের চেহারাও বদলে গেছে।"

নিখোঁজ ছেলে দিয়েগোর খোঁজ পেতে মেক্সিকো সিটির প্রধান সড়কে একটি অস্থায়ী ডাকবাক্স স্থাপন করেছেন রোসাস। সেখানে দিয়েগোর ১৬ বছর বয়সের একটি ছবি লাগানো হয়েছে। কেউ তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে তা জানাতে পারবেন। এ ছাড়া দিয়েগোর জন্মদিনে তার জন্য শুভেচ্ছাবার্তাও সেখানে রেখে যেতে পারবেন।

২০২৫ সালে নিজের ১৯ বছর বয়সী ছেলে যিশুয়া সিসনেরোস নিখোঁজ হওয়ার পর কার্লা লেচুগাও একটি অনুসন্ধানী সংগঠন গড়ে তোলেন।

লেচুগার মতো বিভিন্ন সংগঠন দেশটির বিভিন্ন গির্জায় তথ্য সংগ্রহের জন্য কয়েক ডজন ‘পিস বক্স’ বা ‘শান্তির ডাকবাক্স’ স্থাপন করেছে।

এ ছাড়া জনসমাগমস্থলে নিখোঁজ স্বজনদের ছবি টাঙিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অপরাধী চক্রগুলোর কাছেও পরিচয় গোপন রেখে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

লেচুগা বলেন, "আমরা কয়েকজনকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পেয়েছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অন্যদের আর জীবিত পাওয়া যায়নি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশেষ দূতের দায়িত্ব শেষে নোয়েমের নতুন ভূমিকা ট্রাম্প প্রশাসনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৭ পি.এম


বিশেষ দূতের দায়িত্ব শেষে নোয়েমের নতুন ভূমিকা ট্রাম্প প্রশাসনে

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ উদ্যোগের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ সমাপ্ত হয়েছে। তবে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে নতুন ভূমিকায় কাজ করছেন। বর্তমানে মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউয়ের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে এই তথ্য জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, নোয়েমের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ গত মাসে শেষ হয়েছে। তিনি এখন আর ওই পদে নেই। তবে তিনি ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ উদ্যোগ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখভাল করছেন।

‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গঠিত একটি উদ্যোগ। এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এটি।

গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে নোয়েমের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়। এরপরও তিনি উদ্যোগটি নিয়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন নোয়েম। ওই সময় ইকুয়েডর সরকার তাঁকে ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এর বিশেষ দূত হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। এছাড়া ট্রাম্পের আয়োজনে জোটের নেতাদের একটি বৈঠকে অংশ নেন তিনি। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নোয়েমের কাজের প্রশংসা করেন। ট্রাম্প বলেন, “ক্রিস্টি নোয়েমকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি সত্যিই দারুণ কাজ করেছেন।”

এর আগে গত মার্চে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর নোয়েমকে ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এর বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা এবং উপদেষ্টা কোরি লেভানডস্কির প্রভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার কারণে তাঁকে ওই পদ থেকে সরানো হয়।

বিশেষ দূতের দায়িত্ব পাওয়ার পর মার্চ মাসেই লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের পাঁচটি দেশ সফর করেন নোয়েম। সফরের বেশিরভাগ সময় তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। সফরকালে বিভিন্ন ছবিতে লেভানডস্কিকে নোয়েমের সঙ্গে দেখা গেলেও পরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, দপ্তরটিতে লেভানডস্কির কোনো আনুষ্ঠানিক পদ ছিল না।

বিশেষ দূত হিসেবে নোয়েমের প্রকাশ্য কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। এর মধ্যে গত ২৫ মার্চ ইকুয়েডরের রাজধানী কিটোতে প্রেসিডেন্ট নোবোয়ার সঙ্গে বৈঠক, সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনে ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বের সেরা স্থাপত্যের স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের নারীকর্মীদের কারখানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৭ পি.এম


বিশ্বের সেরা স্থাপত্যের স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের নারীকর্মীদের কারখানা

বাংলাদেশের একটি কারখানা বিশ্বের সেরা নতুন স্থাপনার স্বীকৃতি অর্জন করেছে, যা সবুজ পরিবেশ, পুকুরপাড়ের পথ এবং গাছপালায় ঢাকা দেয়ালসহ নান্দনিক নকশার জন্য পরিচিত। রংপুরের সাততলা গালিচা তৈরির কারখানা গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টসের (রিবা-RIBA) আন্তর্জাতিক স্থাপত্য পুরস্কার লাভ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এ পুরস্কারের বিচারকেরা কারখানাটির নকশাকে ‘নীরব নম্রতার কাজ’ (work of quiet humility) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, কর্মীদের জীবনমান এবং প্রকৃতির সঙ্গে কাজের পরিবেশের সংযোগ তৈরি করার বিষয়টি এই স্থাপনাকে বিশেষ করে তুলেছে।

১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গফুটেরও বেশি জায়গাজুড়ে নির্মিত কারখানাটির নকশা করেছেন বাংলাদেশের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান নকশাবিদ আর্কিটেক্টস। স্থপতিরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাড়ির নকশা থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করেছেন, যেখানে সাধারণত উঠান ও পুকুর থাকে। সেই ভাবনা থেকেই কারখানাটিতে রয়েছে সবুজ বাগান, গাছপালায় ঘেরা বারান্দা, পুকুরপাড়ের পথ এবং গাছে ঢাকা দেয়াল।

নান্দনিক নকশার পাশাপাশি, প্রায় ৫ হাজার কর্মীর জন্য সুযোগ-সুবিধা রাখার বিষয়টিও বিচারকদের প্রশংসা অর্জন করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, কারখানাটির অধিকাংশ কর্মী নারী।

কর্মীদের জন্য ছাদে শিশুদের যত্ন নেওয়ার কেন্দ্র, চিকিৎসাসেবা এবং অবসর সময়ে একসঙ্গে বসার ছায়াঘেরা জায়গা রয়েছে। প্রবেশপথে স্থাপন করা হয়েছে এক নারীর বড় ভাস্কর্য, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও শক্তির প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

রিবার বিচারক দল গত সেপ্টেম্বর মাসে কারখানাটি পরিদর্শন করেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, কর্মীরা কাজের সময়ের বাইরেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কারখানার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেন। বিচারকদের মতে, এই প্রকল্প কারখানার নকশা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি বিকল্প দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান স্থপতি বায়েজিদ এম. খন্দকার পুরস্কার ঘোষণার আগে এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি দেখাতে চেয়েছেন, শিল্পকারখানাও মানুষের যত্ন নিতে পারে, অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে এবং প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যারা একটি কারখানায় কাজ করেন, তাদের জন্য কারখানাটিকে প্রথমে একটি বাড়ি হিসেবে নকশা করা হলে কেমন হয়—এই সহজ প্রশ্নটি সামনে রেখেছিলাম। প্রতিটি উঠান, বাগান, জলাধার ও ছায়াঘেরা বারান্দা সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছে।

কারখানাটি পরিচালনা করে কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি হাতে তৈরি গালিচার পাশাপাশি দরজার সামনে ও গোসলখানায় ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের মাদুরও তৈরি করে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই স্বীকৃতি?

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বস্ত্রপণ্য উৎপাদনকারী দেশ। তবে দেশের কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।

২০১৩ সালে ঢাকার কাছে সাভারে রানা প্লাজা ধসে প্রায় ১ হাজার ১০০ মানুষ নিহত হন। ভবনটিতে পোশাক কারখানা ছিল। ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার পরও শ্রমিকদের কাজে ফিরতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনা কারখানার নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি করে।

রিবার মতে, গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরির নকশায় কর্মীদের সুস্থতা ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারখানাটিতে শ্রমিক, ব্যবস্থাপক ও মালিকদের জন্য একই প্রধান প্রবেশপথ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে অনেক বড় কারখানায় শ্রমিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ থাকার প্রচলন রয়েছে। পুরস্কারের বিচারক দলের প্রধান বিজয় জেয়েন (jury chair, Bijoy Jain) একই প্রবেশপথকে সবার জন্য সমান মর্যাদার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০১৬ সালে চালু হওয়া রিবার আন্তর্জাতিক পুরস্কার সাধারণত দুই বছর পরপর দেওয়া হয়। স্থাপত্যে নতুন চিন্তা, উদ্ভাবনী নকশা ও উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

এবার চারটি স্থাপনা চূড়ান্ত তালিকায় ছিল। বাংলাদেশের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরির পাশাপাশি ঢাকার জলবায়ু উপযোগী ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ও তালিকায় জায়গা পেয়েছিল। বাকি দুটি স্থাপনা বেলজিয়ামে অবস্থিত—একটি ষাটের দশকের একটি দপ্তর ভবন সংস্কার করে তৈরি করা হয়েছে, অন্যটি একটি শিল্পকলা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারিত ভবন।

২০২৪ সালে স্পেনের বার্সেলোনায় ছয়তলা কাঠের সামাজিক আবাসন প্রকল্প এ পুরস্কার জিতেছিল। এর আগের বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছে ব্রাজিলের গ্রামীণ এলাকার একটি বিদ্যালয়, পেরুর একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের বন্যাপ্রবণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্মিত একটি হাসপাতাল।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%