০১:৩৫ এম
পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
দলের একাংশের বিদ্রোহী সাংসদরা পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন—এমন আলোচনার মধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিন পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে অভিষেক দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল এবং সংসদীয় দল মূল দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই একই দলের মধ্যে কোনো সমান্তরাল গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি
রোববার (১৪ জুন) বিকালে তৃণমূলপন্থী সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ স্পিকারের বাসভবনে গিয়ে ওই চিঠি জমা দেন। তাদের দাবি, সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দলকে ভেঙে পৃথক পরিচয় তৈরির সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, একই সময় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে তৃণমূলের একাধিক পরিচিত মুখও উপস্থিত ছিলেন। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের আশঙ্কা, বিদ্রোহী শিবির লোকসভায় পৃথক ব্লক গঠনের আবেদন জানাতে পারে। সেই সম্ভাবনার আগেই দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করতে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টি এখন কেবল দলীয় কোন্দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সংসদীয় স্বীকৃতি, সাংবিধানিক ব্যাখ্যা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কিউবা পরিকল্পনা, ইরান থেকে ফেরার পথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত
পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে তৃণমূলের ভাঙন জল্পনা এবং তা ঘিরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন