বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:২৫ পি.এম
হাজারো লাল শাপলার উপস্থিতিতে প্রতিনিয়তই রঙিন প্রজাপতি আর ভ্রমরের ওড়াউড়ি ভিন্ন এক সৌন্দর্য তৈরি করেছে। অন্যদিকে প্রকৃতির পাখিরাও লুকোচুরি খেলা করে মুগ্ধতা ছড়ায় দর্শনার্থীদের মধ্যে। সূর্যোদয়ের আলোকচ্ছ ছড়িয়ে পড়ামাত্রই যেন মন উদাস করা এক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয় পূর্ব চরমনসা গ্রামের ‘সাহেববাড়ির শাপলাবাগান’। সেই দৃশ্য অবলোকনে দর্শনার্থীদের সঙ্গে প্রকৃতিও যেন অপার আনন্দে মেতে ওঠে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চর মনসা গ্রামে ‘সাহেববাড়ির শাপলাবাগানের’ অবস্থান। ভোরের আলো ফুটতেই বাগানজুড়ে ফুটে ওঠে হাজারো লাল শাপলা। পাপড়ি মেলে থাকা এসব শাপলা প্রকৃতিকে করে তোলে আরও রঙিন ও নয়নাভিরাম। এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।
ভবানীগঞ্জ-কুশাখালী-নোয়াখালী সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বাগানটি স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন সেখানে।
লক্ষ্মীপুর থেকে আসা শিক্ষার্থী মিম বলেন, অনেকের কাছ থেকে এ বাগানটির কথা শুনেছি। আজ পরিবারের সঙ্গে দেখতে এসেছি। খুব সুন্দর। বাগানটি বেশ উপভোগ করেছি।
কলেজ শিক্ষার্থী মো. ফুহাদ হাসান বলেন, বাগানটি প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। অনেকেই এখানে ঘুরতে আসেন। তবে কেউ কেউ ফুল ছিঁড়ে ফেলছেন, যা ঠিক নয়। এতে বাগানটি তার সৌন্দর্য হারাবে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হবে।
শাপলা বাগানের উদ্যোক্তা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শখ থেকেই বাগানটি করেছি। আমার উদ্যোগে অন্যদেরও ভালো লাগা তৈরি হচ্ছে, এতে আমি খুশি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী করেছি। অনেক কিছুই করতে ইচ্ছে করে, কিন্তু সামর্থ্যের ব্যাপার আছে। আমাদের এদিকে দেখার মতো তেমন কিছু নেই। শাপলা বাগানটি এখন অনেকের ভালো লাগার জায়গা, আমারও ভালো লাগে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং আধুনিকায়নের জন্য দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে বাগেরহাটের মোংলায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমের কাছে এ তথ্য জানান।
এই প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বন্দরসেবার আধুনিকায়ন করা।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী একদিনের সরকারি সফরে খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে হেলিকপ্টারে করে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে মোংলায় পৌঁছান।
মোংলায় পৌঁছানোর পর, প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের পক্ষে সংস্থাটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনস বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনা পক্ষে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এমওইউ অনুযায়ী, দুই পক্ষ জ্বালানি, শিল্প অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, পরিবহন, লজিস্টিকস এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, একের পর এক কারখানা বন্ধ হওয়া এবং লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এ সংকট মোকাবিলায় নবগঠিত মজুরি বোর্ডকে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মাসিক মজুরি নির্ধারণ এবং আগামী জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করার জন্য ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই দাবি জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল শ্রমিক-মালিক বিরোধের বিষয় নয়; এটি দেশের শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট।’
নবগঠিত মজুরি বোর্ডকে নিরপেক্ষ বলা হলেও, গোলাম পরওয়ার জানান যে এতে কেবল সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় প্রতিনিধি থাকায় এই বোর্ডের নিরপেক্ষতা ও ইনসাফ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এতে প্রধান বিরোধী দলের কোনো প্রতিনিধি বা সহস্রাধিক ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কাউকে রাখা হয়নি। তবে এতে শ্রমিক দল এবং দলীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে রাখা হয়েছে। এই বোর্ডে সব পক্ষের সম্মিলিত প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত ছিল।’
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ‘সাবেক বিরোধীদলীয় আন্দোলনকারী এক নেতা (যিনি বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী) পূর্বে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আমরা আশা করি, এই মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়, বর্তমান বাজারদর, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সুপারিশ প্রদান করবে। আমাদের দাবি, শ্রমিকদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে দ্রুত ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করতে হবে এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, ‘গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বহু শ্রমিক আহত হয়েছেন। তৌফিক শেখ (২১) নামের একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হওয়ার পর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। জামায়াতে ইসলামী এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছে। আমরা নিহত শ্রমিকের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং তার পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছি।’
গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমানে দেশের পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা অত্যন্ত কঠিন জীবনযাপন করছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াত এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় শ্রমিকদের আয় ও জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। একজন শ্রমিকের পক্ষে বর্তমান আয়ে নিজের ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তবতায় পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি তার শ্রমের ন্যায্য অধিকার। শ্রমিকের শ্রম ও উৎপাদনের ওপর দাঁড়িয়ে যে শিল্প ও অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, সেই শ্রমিকের জীবনমান উপেক্ষা করে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’
জামায়াতে ইসলামী শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে আমরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, যানবাহনে হামলা, লুটপাট এবং উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত করার মতো কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং শিল্প ধ্বংসের অপতৎপরতা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কোনো কারখানা ধ্বংস করে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় না। বরং এর ফলে শ্রমিকেরা কর্মসংস্থান হারান, মালিকেরা বিনিয়োগ হারান এবং জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, চলমান শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগসহ রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল কিংবা অন্য কোনো গোষ্ঠী উসকানি বা নাশকতার চেষ্টা করছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। তবে কোনো প্রমাণ ছাড়া সাধারণ শ্রমিকদের দায়ী করা যাবে না। প্রকৃত অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলন দমনের নামে হয়রানি, নির্যাতন ও গণগ্রেপ্তার পরিহার করতে হবে।
তৌফিক শেখের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেন এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটল, কারা এর জন্য দায়ী এবং কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটেছে—তা নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।’
গোলাম পরওয়ার বলেন, শিল্পের বর্তমান সংকটকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, কারখানার নিরাপত্তা রক্ষা এবং উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা—এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শ্রমিক ও মালিককে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়; বরং পারস্পরিক আলোচনা, আস্থা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংকটের সমাধান করতে হবে।
সংকট নিরসনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারকে কার্যকর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে হবে। শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিকপক্ষ ও সরকারের মধ্যে দ্রুত ত্রিপক্ষীয় সংলাপ আয়োজন করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে হবে।’ পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের ১৫ দফা দাবি
১. নবগঠিত মজুরি বোর্ডকে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি নির্ধারণ এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করতে হবে।
২. গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা এবং নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৩. কারখানা ও যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৪. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শ্রমিকদের ওপর অযাচিত বলপ্রয়োগ, নির্যাতন, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে।
৫. চলমান শ্রম অসন্তোষের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত নিরপরাধ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৬. রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয়ে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৭. শ্রমিক, কারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৮. পোশাকশিল্পের চলমান সংকট নিরসনে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিসহ এই খাতের অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) নিয়ে অবিলম্বে কার্যকর সংলাপের আয়োজন করতে হবে।
৯. শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ বা স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানি ও নাশকতার অপচেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে।
১০. বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে এবং শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিৱেশ নিশ্চিত করে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনতে হবে।
১১. অন্যায় ও বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে এবং কালো তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের বিষয়টি পর্যালোচনা করে তাঁদের পুনরায় কাজের সুযোগ দিতে হবে।
১২. শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ভাতা, ওভারটাইম ও অন্যান্য আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
১৩. পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করতে হবে।
১৪. নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
১৫. দেশের পোশাকশিল্প, শ্রমিকদের চাকরি, মালিকদের বিনিয়োগ এবং জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় শ্রমিক-মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. আবদুর রব ও অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন; ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন; দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ; শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান; উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার এবং দক্ষিণের সহকারী প্রচার সেক্রেটারি আবদুস সাত্তার সুমন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাটে বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবক নিহত হয়েছেন। এছাড়া, আরও দুজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বাসে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জয়পুরহাট-হিলি সড়কের কাশিয়াবাড়ি স্কুলের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত যুবকের নাম ইমন, যিনি আসিফ নামেও পরিচিত (৩৫)। তিনি সদর উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামের ইমরান হোসেনের পুত্র। আহতদের মধ্যে রয়েছেন একই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে নাঈম হোসেন এবং মফিজুল হোসেনের ছেলে জিহাদ হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সোয়া ১০টায় জয়পুরহাট থেকে জেড আর পরিবহনের একটি বাস হিলির দিকে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে মুখোমুখি চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলের একজন যাত্রী নিহত হন এবং অন্য দুজন আহত হন।
স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। নিহত ইমনের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে।
দুর্ঘটনার পর ছাত্র-জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে বাসে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে সড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে বাসের আগুন নিভিয়ে ফেলেন।
জয়পুরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নিহত এবং আহতদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
জয়পুরহাট।
০১৭২৯ ৬৫৯১৫১
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরায় বাসের চাপায় নিহত হয়েছেন রহিমা খাতুন (৫৫) নামে এক পথচারী। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোরে সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের ছয়ঘরিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত রহিমা খাতুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশঘাটা গ্রামের ইনসান আলীর স্ত্রী ছিলেন।
নিহতের ছেলে শরিফুল ইসলাম জানান, তার মা রহিমা খাতুন ভোর ৪টার দিকে হাঁটতে বের হন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তিনি জানতে পারেন যে তার মায়ের মরদেহ সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের ছয়ঘরিয়া মোড়ের কাছে রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার মায়ের নিথর দেহ দেখতে পান। রাস্তা পার হওয়ার সময় কোনো দ্রুতগামী বাস বা ট্রাক তার মাকে চাপা দিয়ে চলে যাওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করেন তিনি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ