ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী


বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ২৯ জুলাই, ২০২৬ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন, বাঘ হল পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী এবং এটি জীববৈচিত্র্যের অপরিহার্য অংশ। এই প্রাণীটির সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংরক্ষণ বিষয়ক মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

আজ বিশ্ব বাঘ দিবসের উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় আয়োজিত র‌্যালি শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রায় একশ বছর আগে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা কমে পাঁচ হাজারের মতো হয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, বাঘের অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এসএএফএনের অনারারি সিনিয়র ফেলো নিযুক্ত

তিনি সতর্ক করে বলেন, "যদি আমরা এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করি এবং মানুষকে সচেতন করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে এ প্রজাতি আরও সংকটের মুখে পড়বে।"

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে ১২৪টি বাঘ রয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রায় ১৫টি এবং বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানায় প্রায় ৫০টি বাঘ আছে।

তিনি উল্লেখ করেন, "বাঘ আমাদের জাতীয় সম্পদ।" এই প্রাণীটির সংরক্ষণে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঘ সম্পর্কে জানতে পারে এবং এর সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে।

মাধ্যমে বাঘ গণনায় বরাদ্দকৃত বাজেট এবং এ সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বাঘ গণনার বিষয়টি বন বিভাগের আওতাধীন। এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়।" তবে, বন বিভাগ তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার সঙ্গে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

আরও পড়ুন: অপ্রতিম হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

অনুষ্ঠানের শেষে, প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানার স্যুভেনির শপ উদ্বোধন করেন।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহীনুর আলম, চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদসহ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ বালু লুটপাট বন্ধ ও ইজারা চালুর দাবিতে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎​সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৩ পি.এম


সুনামগঞ্জে ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ বালু লুটপাট বন্ধ ও ইজারা চালুর দাবিতে মানববন্ধন

সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ধোপাজান চলতি নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদী রক্ষায় নিয়মিত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং দ্রুততম সময়ে নিয়ম মেনে বৈষম্যহীনভাবে নদীটি ইজারা দেওয়ার দাবিতে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‎
‎বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ারে (ট্রাফিক পয়েন্ট) 'ধোপাজান চলতি নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি'-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
‎ধোপাজান চলতি নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির উপদেষ্টা এরশাদ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ নূরের পরিচালনায় মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের আহ্বায়ক গোলাম হোসেন অভি।
‎
‎মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা শেখ এমদাদুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন, অমিত তালুকদার, আজিজুর রুহেল, যুগ্ম সদস্য শফিকুল বারী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুফতী শহীদুল ইসলাম পলাশী।
‎
‎মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে ধোপাজান চলতি নদী সুনামগঞ্জের অন্যতম প্রধান সম্পদ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নদীটির ইজারা বন্ধ থাকার সুযোগে একশ্রেণির প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে বিভিন্ন নৌযান নিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি নদীর দুই তীরের পরিবেশ এবং তীরবর্তী সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি ও স্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
‎
‎সমাবেশে পরিবেশ ধ্বংসের হাত থেকে নদীটি রক্ষায় সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— রাতের আঁধারে পরিবেশ-বিধ্বংসী অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করা, আইনানুগভাবে বালুমহাল ইজারা না দেওয়া পর্যন্ত নদীতে সর্বপ্রকার বালু উত্তোলন বন্ধ রাখা, অবৈধ উত্তোলন রোধে রাতে প্রশাসনিক টহল জোরদারসহ নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা এবং অসাধু বালুখেকো চক্রকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
‎
‎মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব রহমতুল্লাহ, আলাউর রহমান, মাজহারুল ইসলাম সুবেল, মো. শরীফ, জুলাই যোদ্ধা আজিজুল হকসহ স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষ ও সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ। আন্দোলনকারীরা অনতিবিলম্বে এসব দাবি মেনে নিয়ে ধোপাজান চলতি নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় অনলাইন জেন্ডার সহিংসতা প্রতিরোধে মিডিয়া ক্যাম্পেইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৫ পি.এম


বগুড়ায় অনলাইন জেন্ডার সহিংসতা প্রতিরোধে মিডিয়া ক্যাম্পেইন

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বগুড়ায় জেলা পর্যায়ের মিডিয়া ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে নগরের জহুরুল নগর সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি সংস্থা লাইট হাউজের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। লাইট হাউজের নির্বাহী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা।

লাইট হাউজের জেন্ডার কমপ্লায়েন্স অ্যাডভাইজার ওয়াহিদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির এবং বগুড়া মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. বেলাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন লাইট হাউজের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান মো. হারুন অর রশীদ। এসময় বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানুসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, আইনজীবী, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, লাইট হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সচেতন নাগরিক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রেজাউল করিম বাদশা বলেন, অনলাইনভিত্তিক জেন্ডার সহিংসতা বর্তমান সময়ের একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধে পরিবারের সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সামাজিক সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নারী ও কিশোরীদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিকল্প নেই। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আলোচনা সভায় বক্তারা অনলাইনভিত্তিক জেন্ডার সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য গণসচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের সহায়তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল; গ্রেপ্তার ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৭ পি.এম


গাজীপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল; গ্রেপ্তার ৫

গাজীপুর, ২৯ জুলাই, ২০২৬ : গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে হামলার ঘটনায় ১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ৪০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ বাসস’কে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এসআই মনোহর আলী বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের নাম হচ্ছে- টঙ্গী পূর্ব থানার শালিকচূড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে আজিজুল ইসলাম (৪৩), মাছিমপুর এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩২), পূবাইলের রবীন্দ্র কুমার দাসের ছেলে জীবন কুমার দাস (৩৫), বড় দেওড়ার সামসুদ্দিনের ছেলে খলিলুর রহমান (৫০) এবং সাতাইশ এলাকার হাকিম আলীর ছেলে নিয়ামুল হাসান নাহিদ (১৮)।

অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- মো. আলাউদ্দিন সিপাই (৩৫), পঙ্কজ, নাজমুল, নামিম বাবু, নিয়ামুল হাসান নাহিদ, আশরাফুল ইসলাম, শ্রাবন বেপারী, তানজীম আহমেদ তামিম, সাইফুল ইসলাম সজিব, শিশির আহমেদ অনিক, জীবন কুমার লালসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের ৩০ থেকে ৪০ জন লোক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে ডিউটি করার সময় টঙ্গীর সাতাইশ বাগান বাড়ি রোডের পাশে মায়ের দোয়া রিয়েল এস্টেটের কাছাকাছি হযরত শাহজালাল রোডের মাথায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। গাছা থানা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ গাজীপুর মহানগর শাখার ব্যানারে অনুষ্ঠিত মিছিলে ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’-সহ নানা স্লোগান প্রচার করা হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, ৫ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৯ পি.এম


জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

আপাতত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন সামলাতে পেরেছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। তবে এই আন্দোলন কেবল সরকারি দলের নয়, প্রচলিত ধারার সব রাজনৈতিক দলের সামনে পালাবদলের একটি বড় ঈঙ্গিত এনে দিয়েছে। দুর্নীতি এবং অনিয়মের মাধ্যমে মানুষের সামনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে কিছু করার দিন শেষ হয়ে এসেছে। ২০২৯ সালের নির্বাচনের সময় জেন জি প্রজন্মই ভারত হিসেবে সবচেয়ে বড় ভোটার গোষ্ঠিতে পরিণত হবে। শুধু সংখ্যায় নয়, প্রভাবের দিক থেকেও তারা হবে নির্ধারক। মাত্র ৩৭ দিনের আন্দোলন। তারা গোটা জাতিকে দেখিয়ে দিয়েছে, তাদের সক্ষমতা কতটা। ২০২৯ সালের মধ্যে ভারতে ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী জেনারেশন জেড-এর সংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটিতে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে থাকবে প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ পুরুষ এবং ১৮ কোটি ১০ লাখ নারী। এটি তাদের ভারতের বৃহত্তম প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্মে পরিণত করবে। এমনকি ২০২৯ সালের মধ্যে জেন জি’রা মিলেনিয়ালদেরও ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৯ সালে মিলেনিয়াল প্রজন্মের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৩৫ কোটি ৭০ লাখে। এই পরিবর্তনের তাৎপর্য কেবল জনসংখ্যার হিসাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের শিক্ষার্থী, প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটার, কর্মজীবনের শুরুতে থাকা পেশাজীবী এবং তরুণ পরিবারের সবচেয়ে বড় অংশটি এসেছে এই জেন জি থেকে। তাই কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সুশাসনের মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আর জেন জি’র পেছনে অপেক্ষা করছে আরও বিশাল আকারের জেন আলফা। যদিও ২০২৯ সালে আলফা প্রজন্মের সদস্যরা ভোটাধিকারের বয়সের নিচে থাকবে, তবুও তাদের সংখ্যা ৪১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তাদের সামগ্রিকভাবে ভারতের বৃহত্তম প্রজন্মে পরিণত করবে। জেন জি’রা ভারতের বৃহত্তম ভোটার গোষ্ঠিতে পরিণত হলেও সামগ্রিক ভোটার তালিকায় তরুণ ভোটারদের অনুপাত ক্রমাগত কমছে। কারণ চিকিতসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলে ভারতে প্রবীণ জনগণের সংখ্যা বাড়ছে। ১৯৮৮ সালে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা ভারতের মোট ভোটারের ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল। ২০২৪ সালের মধ্যে সেই অনুপাত ৩০ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসবে। ২০২৯ সালের মধ্যে তা আরও কমে ২৭ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে শুধু সংখ্যা দিয়ে জেন জি’দের বিচার করলে রাজনীতিবিদরা অবশ্যই ভুল করবেন। জেন জি’রা অন্যরকম। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া মিলেনিয়ালরা অ্যানালগ থেকে ডিজিটালের রূপান্তর দেখেছে। কিন্তু ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেন জি’দের জন্মই হয়েছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। আধুনিক প্রযুক্তি কেবল ভারতে নয়, সারাবিশ্বকে জেন জি‘দের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। তারা প্রযুক্তি ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ। মুহূর্তেই নিজেদের আপডেট করে নিতে পারে। সুতরাং আগের মত জেন জি’দের ভুল বুঝিয়ে পার পাওয়া সম্ভব নয়। এরা প্রচলিত রাজনীতিতে হয়তো আগ্রহী নয় তবে রাজনীতি সচেতন। শুধু রাজনীতি নয়; জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে জেন জি’রা অত্যন্ত সোচ্চার ও সচেতন। যেকোনো প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাব্যবস্থা বা সরকারের কাছ থেকে তারা স্পষ্টতা, সততা এবং জবাবদিহিতা প্রত্যাশা করে। নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য এরা খুব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে এবং একত্রিত হতে পারে। কতটা পারে সেটাও তো ভারত শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপালের পর দেখেছে। তাই কেবল সংখ্যার অনুপাতই রাজনৈতিক প্রভাব নির্ধারণ করে না। জেন জি তাদের বিপুল সংখ্যার সাথে নজিরবিহীন ডিজিটাল যোগাযোগ, উচ্চতর শিক্ষাগত আকাঙ্ক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে দ্রুত সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতা যুক্ত করেছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রবীণ ভোটারদের মন জয় করা যতটা সহজ, জেন জি’দের মন বোঝা ততটাই কঠিন। যন্তর-মন্ত্রে টানা ৩৭ দিনের সফল আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ভারতে। এই সাফল্য জেন জি’দের আরও আত্মবিশ্বাসী, আরও সোচ্চার এবং সচেতন করেছে। ২০২৯ সালের নির্বাচন তাই প্রচলিত ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। যারা যত দ্রুত জেন জি’দের সাথে নিজেদের কানেক্ট করতে পারবে, রাজনীতিবিদরা যত দ্রুত তাদের ভাষা বুঝতে পারবে; ততই মঙ্গল তাদের জন্য। জেন জি’দের অবহেলা করার ভুল যেন কেউ না করে। তাহলে তাদের নিশ্চিত পস্তাতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%