ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আমানত ভাঙা গ্রাহকদের জন্য সুখবর জানাল ইসলামী ব্যাংক


আমানত ভাঙা গ্রাহকদের জন্য সুখবর জানাল ইসলামী ব্যাংক

আতঙ্কে ইসলামী ব্যাংকের যেসব গ্রাহক গত কয়েকদিনে মেয়াদি আমানত এবং সঞ্চয়ভিত্তিক বিভিন্ন হিসাব ভেঙে ফেলেছিলেন, তারা এখন বিনা চার্জে সেটি পুনরায় চালু করতে পারবেন।

সোমবার (১৫ জুন) ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ জুন থেকে ১৫ জুনের মধ্যে নগদায়ন অথবা বন্ধ করা এমটিডিআর, এমএসবি, এমএমপিডিএস এবং এমএসএস হিসাবগুলি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে গ্রাহকের আবেদনের ভিত্তিতে পুনরায় সচল করা হবে। এর ফলে, গ্রাহকরা তাদের হিসাবটি চলমান থাকলে যে সুবিধাগুলো পেতেন, সেগুলোই পাবেন।

আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপ

এছাড়া, হিসাব পুনঃসচল করার প্রক্রিয়ার সময় ব্যাংকের সকল প্রকারের খরচ ও চার্জ মওকুফ করা হবে। গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং ব্যাংকে নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ইসলামী ব্যাংক জানিয়েছে।

এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসলামী ব্যাংকের সব শাখা এবং উপশাখাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন বা ঠিকানা মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের হিসাব পুনরায় চালু করতে উৎসাহিত করার জন্য বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে তিন ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


বরিশালে তিন ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

১৬ জুন, ২০২৬, অবৈধভাবে জনসাধারণের প্রবেশপথ দখল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করার কারণে তিন ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মোট নয় হাজার পাঁচশ' টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রেস সচিব সাকলাইন মোস্তাক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এবারের অভিযান পরিচালনা করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান। প্রেস সচিব সাকলাইন মোস্তাক জানিয়েছেন, নগরীর শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল সংলগ্ন বান্দ রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে জনসাধারণের প্রবেশপথ দখল করায় তিন ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার পাঁচশ' টাকা অর্থদন্ড দিয়ে দখলমুক্ত করা হয়েছে ফুটপাত। এছাড়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করায় মনোয়ারা হোটেল ও ভাই ভাই রেস্তোরার মালিকের কাছ থেকে চার হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ডিএমপি কমিশনারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ পি.এম


জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ডিএমপি কমিশনারের

রাজধানীর আদাবরে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযান পরিচালনার সময় ওসি এবং এক এসআই আহত হন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ছিনতাইকারী দলের মোট চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযান চলমান থাকবে, এবং জানমালের সুরক্ষার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) পুলিশ এর অভিযান ও ছিনতাই ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে পুলিশ তৎপরতা দেখাতে পিছপা হবে না। যদিও পুলিশের লক্ষ্য থাকে, আসামিদের যত কম শক্তি প্রয়োগ করে নিবৃত্ত করা, তবে আত্মরক্ষার্থে এবং যথাযথ প্রয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গেও তিনি কথা বলেন।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং এবং ছিনতাইকারী দলে ধরতে অভিযান চলতে থাকবে। জেনেভা ক্যাম্প এবং আশপাশের এলাকায় মাদককে কেন্দ্র করে অধিকাংশ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। সাঁড়াশি অভিযানের প্রয়োজন হলে অভিযান পরিচালনা করা হবে, এবং এর জন্য অভিযান প্রতিনিয়তই চলছে এবং চলবে।

এ দিনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোট ৬ জন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আটকের সংখ্যা এখন চার জন। লুণ্ঠিত ১ লাখ টাকা এখনও উদ্ধার করা হয়নি। বাকি দুজনকে গ্রেফতার করা হলে, সেই টাকা উদ্ধার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে, আজ সকালে আদাবরে চাপাতি ঠেকিয়ে দোকানে ঢুকে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ছিনতাইকারীর চাপাতির আঘাতে আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ আহত হন। পুলিশের পাল্টা গুলিতে এক ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে চার জনকে আটক করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ইরান কি পাবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২১ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ইরান কি পাবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ?

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। এই চুক্তির ফলে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় বিনিয়োগ তহবিল গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইরান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল। ঐ যুদ্ধের অবসান ঘটানোর একটি বৃহত্তর বোঝাপড়ার অংশ হবে এই বিনিয়োগ।

উভয় পক্ষ গত রোববার (১৪ জুন) ডিজিটালি ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। পরদিন গত সোমবার (১৫ জুন) সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, এই সুবিধাগুলো ইরানের চুক্তি মেনে চলার ‘পারফরম্যান্স’ বা কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করবে।

২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইরান পরমাণু চুক্তিকে (জেসিপিওএ) দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলতেন, ওই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে অনেক সুবিধা দিয়েছিল।

তবে খোদ ট্রাম্পের আমলেই এখন এই নতুন চুক্তিতে আরও বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধার কথা শুনে রাজনৈতিকভাবে সমালোচনা শুরু হয়েছে। যা এড়াতে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বলে যে খবর সামনে এসেছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া খবর (ফেক নিউজ)।’

আর ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স সিবিএসকে বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে কোনো মার্কিন অর্থ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘যখন লোকে বলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়া হবে, তা সত্য নয়। সত্য হলো, ইরান যদি চুক্তির বাধ্যবাধকতা পালন করে তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ অনেক সমৃদ্ধ ও উন্নত হবে।’

ভ্যান্স বলেছেন, এই চুক্তি মূলত ইরানের দিকে একটি হাত বাড়িয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘যদি তোমরা তোমাদের দায়িত্ব মেনে চলো, নিউক্লিয়ার প্রোগ্রামে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক তদন্ত করতে দাও, তাহলে আমরা তোমাদের বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বাগত জানাব।’

তিনি আরও জানান, এই তহবিল গাল্ফ কোস্ট কোয়ালিশন (উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট) থেকে আসবে। ইরান যদি তার প্রতিশ্রুতি পালন করে, তাহলে তারা এই তহবিলের সুবিধা পাবে। সরাসরি মার্কিন সরকারি টাকা দেওয়া হবে না, তবে ইরান বিশ্ব অর্থনীতিতে ফিরে এলে অনেক অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।

নিউইয়র্ক টাইমস সূত্রে জানা গেছে, এই তহবিল সরকারি অর্থে নয়, বরং ইরানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে গড়ে উঠবে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক মুহানাদ সেলুম (মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স) বলেছেন, এটি ওয়াশিংটনের জন্য একটি ‘জিত-জিত’ সমাধান। ইরান যদি সংস্কার করে তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন শান্তির কৃতিত্ব নেবে। আর যদি না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই হারাবে না—ঝুঁকি নেবে গাল্ফের দেশগুলো।

বিশ্লেষক সেলুম বলেন, বিনিয়োগ তহবিলের এই ধারণাটি ইরানের জব্দকৃত অর্থ সরাসরি ছাড়ার বাজে রাজনৈতিক চিত্র এড়ানোর জন্যই তৈরি করা হয়েছে। ইরানের জব্দকৃত সম্পদের সঠিক পরিমাণ নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই, তবে ইরানি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে নিউক্লিয়ার ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে এই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়। ফলে ইরান তার নিজস্ব সম্পদ (যেমন তেল বিক্রির আয়) বিদেশি ব্যাংকে জব্দ হয়ে আছে।

২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় নিউক্লিয়ার চুক্তির মাধ্যমে কিছু সুবিধা পেলেও ট্রাম্প ২০১৮ সালে প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তি বাতিল করেছিলেন। প্রায় আট বছর পর ইরানের সঙ্গে একেবারে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, ১৪ দফার খসড়া সমঝোতায় ২৪ বিলিয়ন ডলার জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ভ্যান্স সিবিএসকে বলেছেন, চুক্তির কোনো কাগজপত্রে ২৪ বিলিয়ন ডলারের কোনো উল্লেখ নেই।

তিনি বলেন, ‘আমরা সম্পদ ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি, কিন্তু তার চেয়ে বড় বিষয় হলো ইরানের পুরো অর্থনীতির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া—যদি তারা নিউক্লিয়ার কর্মসূচিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দেয়।’

ইরানের জন্য এই তহবিল খুবই জরুরি। যুদ্ধে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে এবং দেশটিতে ১৯৪২ সালের পর সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। তবে বিশ্লেষক সেলুম বলেন, এতে ইরানের জন্য ‘মর্যাদার সমস্যা’ তৈরি হয়েছে। তারা এটাকে ‘তত্ত্বাবধানে রাখা শর্তসাপেক্ষ অর্থ’ হিসেবে দেখছে, সার্বভৌম স্বাধীন সুবিধা হিসেবে নয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনা হবে:

নিউক্লিয়ার কর্মসূচি: ইরানের কাছে ৪৪০ কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত আছে। ইরান এগুলো সমর্পণ করবে, নিয়মিত আন্তর্জাতিক তদন্ত মেনে নেবে এবং নিউক্লিয়ার অস্ত্র তৈরি বা ক্রয় করবে না বলে সম্মত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী: যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষের অবরোধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া। ট্রাম্প বলেছিলেন “তেল প্রবাহিত হোক”, কিন্তু ভ্যান্স বলেছেন এখনও সব বিষয় পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

লেবানন ইস্যু: ইরান চায় তার মিত্র লেবাননের উপর ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। কিন্তু ইসরায়েল এখনও কোনও সীমাবদ্ধতা মানতে রাজি নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওমরাহ যাত্রীদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও, দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২২ পি.এম


ওমরাহ যাত্রীদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও, দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ

১৬ জুন, ২০২৬: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা হাম্মাদ চৌধুরী ও বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওমরাহ যাত্রীদের দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওমরাহ কাফেলার প্রধান মাওলানা মো. গোলাম মাওলা চেক ডিজঅনারের মামলা করেছেন। দুই পীরজাদা শুধুমাত্র একই ব্যক্তি নয়, আরো ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিবন্ধন ছাড়া ‘এসবি ওভারসিজ’ এর নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছেন।

সম্প্রতি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে, মামলা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দেয়া অভিযোগ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, জেলার কচুয়া উপজেলার আইনগিরি গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মাওলানা মো. গোলাম মাওলা বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে অভিযুক্ত হাম্মাদ ও মিশকাতের সঙ্গে পরিচিত হন। এর আগে তিনি বিভিন্ন ওমরাহ এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ যাত্রী সৌদিতে পাঠিয়েছেন। নিজ জেলা এবং পীরজাদা হিসেবে হাম্মাদ এবং মিশকাতের সঙ্গে খুবই আস্থার সঙ্গে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ওমরাহ যাত্রীদের পাঠানোর জন্য টাকা লেনদেন শুরু করেন। ৬৫ জন ওমরাহ হজ্জযাত্রীর জন্য গোলাম মাওলা নগদ এবং ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা লেনদেন করেন। এর মধ্যে নগদ অর্থ লেনদেন হয় হাম্মাদের ব্যাংক একাউন্টে এবং বাকি নগদ টাকা দেয়া হয় হাম্মাদের পিতা মুহাম্মদ যাকারিয়া চৌধুরীর হাতে।

ভুক্তভোগী গোলাম মাওলা বলেন, আমি হোসাইনিয়া হজ্জ কাফেলা নামে ইতোপূর্বে কয়েকবার যাত্রীদের ওমরাহ সম্পন্ন করেছি। ২০২৫ সালে হাম্মাদ ও মিশকাত চৌধুরীর অনুরোধে তাদের মাধ্যমে যাত্রীদের পাঠানোর কাজ শুরু করি। তারা ওইবছর ১৪ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আমার কাছ থেকে ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ওমরাহ পাঠাতে গড়িমসি করেন। এতে তাদের প্রতি আমার সন্দেহ হয় এবং মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখি তাদের এসবি ওভারসিজ নামে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন নেই।

তিনি আরো বলেন, তারা যাত্রীদের পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে আমাকে ভুয়া ভিসা ও এয়ার টিকিট দেন। এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা হলে এক পর্যায়ে আমাকে ২০ ও ২৫ লাখ টাকার দুটি চেক দেন ইসলামী ব্যাংকের। ওই চেকগুলোতে যথেষ্ট টাকা না থাকায় শেষ পর্যন্ত হাম্মাদ চৌধুরীকে আসামী করে এন.আই এ্যাক্ট এর ১৩৮ ধারায় ঢাকার এম এম আদালতে পৃথক দুটি মামলা করি। মামলায় দুটি হাজিরার নির্ধারিত তারিখে হাম্মাদ উপস্থিত হননি। তার বাবা যাকারিয়া চৌধুরী সন্তানদের দায়ভার নিতে নারাজ। হাম্মাদ ঢাকায় আত্মগোপনে এবং মিশকাত চৌধুরী বিদেশে রয়েছেন। এসব বিষয় আমি মৌখিকভাবে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক এবং লিখিত অভিযোগ দিয়েছি পুলিশ সুপারের নিকট।

এই ভুক্তভোগী বলেন, তাদের কাছ থেকে আমি যাত্রীদের টাকা উদ্ধারে সামাজিকভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। তারা শুধুমাত্র আমার নয়, বহু ওমরাহ যাত্রীদের টাকা নিয়ে আত্মগোপনে। এখন বড় সমস্যা হচ্ছে যারা আমাকে ওমরাহ করার জন্য টাকা দিয়েছেন তাদেরকে আমি টাকাও ফিরত দিতে পারছি না এবং ওমরাহ করার ব্যবস্থা হচ্ছে না। তাদের জীবনের সবশেষ স্বপ্ন ভেঙেছে। যার ফলে আমি এখন পথে বসার উপক্রম। এই প্রতারক চক্রের কাছ থেকে যাত্রীদের টাকা উদ্ধারের জন্য আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করি।

আরেক ভুক্তভোগী কুমিল্লার মুরাদ নগরের নছরুল্লাহ হুসাইন জানান, আমার ১৭৬ জন ওমরাহ হজ্জ যাত্রীর ভিসা ও এয়ার টিকিট বাবদ মিশকাত চৌধুরী তার দুই ভাই হাম্মাদ ও ইয়াহিয়া চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব নম্বরে নিয়েছেন ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। যাত্রীদের কাজ করে দিতে না পেরে আমাকে ৭৫ লাখ টাকার চেক দিয়েছেন। সময় পার হয়ে যাওয়ার পর আমি ওই দুই চেকের বিপরীতে কুমিল্লা আদালতে দুটি মামলা করেছি। ওই মামলায় খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হবে। তাদের এই ধরণের প্রতারণায় আমি পথে বসার উপক্রম। দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো লোকদের সঙ্গে তারা এই ধরণের প্রতারণা করেছে।

এসব বিষয়ে বক্তব্যের জন্য হাম্মাদ চৌধুরী ও মিশকাত চৌধুরীর ব্যাক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেয়া হয়। কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাদের পরিচয় দিয়ে কথা বলার জন্য ক্ষুদে বার্তা দেয়া হয়, তবে তাতেও তারা কোন সাড়া দেননি। যার ফলে তাদের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে এসব ঘটনার বিষয় জানেন হাম্মাদ ও মিশকাতের বাবা মুহাম্মদ যাকারিয়া চৌধুরী। তিনি মুঠোফোনে জানান, ছেলেরা প্রাপ্ত বয়স্ক। তারা নিজেদের ব্যবসা করেন লোকজনের সাথে। এসব বিষয়ে আমাকে জড়াবে কেন। মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে, আমি নগদ অর্থ গ্রহন করেছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার সাথে কোন লেনদেন হয়নি। এসব জামেলার কারণে আমি ছেলেদের সঙ্গে এখন যোগাযোগ রাখি না। কারণ লোকজন আমার সঙ্গে জামেলা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%