ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ: হাসিনা-রেহানাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা


ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ: হাসিনা-রেহানাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

৪১টি তফসিলি ব্যাংকের কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) ফান্ড থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) ইসমাইল হোসেন বৃহস্পতিবার মামলাটি দায়ের করেন, যা ঢাকা-১ এর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা প্রযোজ্য করা হয়েছে।

দুদক সচিব সাইদুর রহমান এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনা 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট'-এর সভাপতি এবং শেখ রেহানা সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত একটি ট্রাস্ট সম্পত্তির দলিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে কেরানীগঞ্জে বিআরটিএর সচেতনতামূলক কর্মসূচি

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের মধ্যে শেখ হাসিনা আজীবন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং তার অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া ৪১টি ব্যাংকের তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নজরুল ইসলাম মজুমদার বিএবির সভাপতি থাকাকালে নির্বাহী কমিটির সভার আলোচ্য সূচিতে না থাকা সত্ত্বেও 'বিবিধ' আলোচনায় ট্রাস্টকে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

পরে নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এসব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদক বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের সিএসআর-সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং ২০২২ সালের 'পলিসি গাইডলাইনস অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন'-এ সিএসআর অর্থ ব্যয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হলেও ট্রাস্টটিতে এ ধরনের অর্থ দেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সরেজমিন পরিদর্শনে ট্রাস্টের ঠিকানায় দাফতরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদন নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনেও ত্রাসের রাজত্ব, গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত : সাইফুল হক

দুদকের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করেছেন। এছাড়া, তদন্তকালে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্ব জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে বড় জয়ের প্রত্যাশায় কট্টর ডানপন্থি এএফডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


পূর্ব জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে বড় জয়ের প্রত্যাশায় কট্টর ডানপন্থি এএফডি

ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পূর্ব জার্মানির সাবেক কমিউনিস্ট একটি রাজ্যে রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নির্বাচন। কট্টর ডানপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) নির্বাচনে সহজেই জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দলটি প্রথমবারের মতো রাজ্য সরকার গঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে।

এএফডি এককভাবে সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ভোট পাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে ভোটে শীর্ষে থাকলে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে অভিবাসনবিরোধী দলটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

বার্লিন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।

কয়েক মাস ধরে রাজ্যটিতে জনমত জরিপে এএফডির সমর্থন ৪০ শতাংশ বা তার বেশি রয়েছে। দলের প্রধান প্রার্থী উলরিখ জিগমুন্ড। ৩৫ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় নেতা প্রচার সমাবেশে রকস্টারের মতো সংবর্ধনা পান। টিকটকে তার অনুসারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

জিগমুন্ডের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ‘পুনঃঅভিবাসন ও বহিষ্কার’ অভিযান, সরকারি স্কুলে এলজিবিটিকিউ গৌরবের রংধনু পতাকা নিষিদ্ধ করা এবং নতুন বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করা।

মস্কোপন্থি এই দলটি কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির হারিয়ে যাওয়া দিনের প্রতি একধরণের নস্টালজিয়া এবং ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের কয়েক দশক পরেও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পদের ব্যবধান নিয়ে অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েছে।

রোববার জিগমুন্ড ‘ইতিহাস গড়ার’ অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ২১ লাখ মানুষের এই ছোট রাজ্য থেকে রাজনৈতিক বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে তার প্রতিষ্ঠাবিরোধী দলকে ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিতে চান।

বর্তমান রাজ্যপ্রধান ৪৭ বছর বয়সী স্বেন শুলৎসে। তিনি মের্ৎসের মধ্য-ডানপন্থি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দলের নেতা এবং একাধিক দলের জোট সরকার পরিচালনা করছেন। তিনি মহাসড়কের পাশে বড় বড় বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। সেখানে ভোটারদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘কট্টর ডানপন্থিরা খাদে নিয়ে যায়।’

এএফডির অনেক ভোটার বড় ধরনের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করলেও দলটির বিজয়ের সম্ভাবনা জার্মানির বড় অংশকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও হলোকাস্টের অন্ধকার ইতিহাসের দায় কাটিয়ে উঠতে জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে।

জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিএফভি এএফডি’র রাজ্য শাখাকে ‘কট্টর ডানপন্থি’ সংগঠন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।

বিএফভির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাক্সনি-আনহাল্টের এএফডির অনেক রাজনীতিক ‘অভিবাসীদের হেয় করে এমন ভাষা ব্যবহার করেন।’ তারা নিয়মিত মুসলিম শরণার্থীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেন। সম্মিলিতভাবে তাদের এ ধরণের অবমাননা ‘মানবিক মর্যাদার নীতি’ লঙ্ঘন করে।

এএফডির সঙ্গে সহযোগিতা না করার ‘ফায়ারওয়াল’ নীতি অর্থাৎ এএফডির সঙ্গে অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা বা জোট না করার নীতি এখন পর্যন্ত সব প্রধান দলই বজায় রেখেছে। তবে ক্ষুদ্র বিএসডব্লিউ দলটি—যারা অর্থনীতির ক্ষেত্রে বামপন্থি হলেও অভিবাসনের বিষয়ে ডানদিকে ঝুঁকে আছে—এখন এএফডিকে সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।

মের্ৎস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অর্থনীতির স্থবিরতা কাটিয়ে এবং অনিয়মিত অভিবাসন সীমিত করে এএফডির এক দশকের উত্থান থামাবেন। তবে এখন পর্যন্ত তাতে সাফল্য আসেনি। সাবেক প্রান্তিক দলটি জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপেও নিয়মিত শীর্ষে রয়েছে।

রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমের অধ্যাপক অলিভার লেমবকে বলেন, ‘এএফডি যদি স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে তা ফ্রিডরিশ মের্ৎসের ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘তার লক্ষ্য ছিল এএফডির ভোটের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এর পরিবর্তে এএফডি সিডিইউকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হয়েছে—এমনকি ফেডারেল পর্যায়েও। এই ফলাফলের ব্যক্তিগত দায় তার ওপরই বর্তায়।’

লেমবকে বলেন, রাজ্য নির্বাচনে জয় এটাই প্রমাণ করবে যে ‘ভোটের মাঠে ফায়ারওয়াল কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিতে হবে, মের্ৎস বা তার দল—কেউই তা জানে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য প্রদান করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “জেলা পর্যায়ে গঠিত ‘বিশেষ টাস্কফোর্স’ এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিদিন বাজারে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য ভোক্তা-স্বার্থবিরোধী অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা আদায়সহ প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”

এছাড়া, বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ এবং মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য ‘বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন’-এর মাধ্যমে সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

জনস্বার্থে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে সরকারের এসব বাজার মনিটরিং, তদারকি ও তড়িৎ আইনি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত ও অধিকতর জোরদার করার কথা সংসদে পুনর্ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্মেনিয়ায় রুশ ঘাঁটি অপরিহার্য নয় বলে জানালেন পাশিনিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


আর্মেনিয়ায় রুশ ঘাঁটি অপরিহার্য নয় বলে জানালেন পাশিনিয়ান

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার ১০২তম সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি আর্মেনিয়ায় অপরিহার্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, যদি মস্কো এই ঘাঁটি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইয়েরেভানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কিত।

পাশিনিয়ান আরও জানান, আর্মেনিয়ার রেলপথ পরিচালনার জন্য কনসেশন চুক্তির আওতায় রাশিয়ার অধিকার রয়েছে, এবং এটি কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করাটাই ইয়েরেভানের জন্য সর্বোত্তম বিকল্প হবে। তিনি বলেন, “এই সময়ে আমরা রুশ সামরিক ঘাঁটির বিষয়টি একবারও উত্থাপন করিনি; আর এমনও নয় যে আর্মেনিয়ার ভূখণ্ডে রাশিয়ার ১০২তম সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতিকে আমরা অত্যন্ত জরুরি বা অপরিহার্য বলে মনে করি।”

মঙ্গলবার বিশকেকে পুতিন ও পাশিনিয়ানের মধ্যকার বৈঠকে আর্মেনিয়ার রেল অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। বৈঠকের পর পুতিন বলেন, রেলপথে বিনিয়োগের বিষয়টি নির্ভর করবে পণ্য পরিবহনের পরিমাণের ওপর। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন নতুন রুট বা পথ চালু হলে তা পণ্য পরিবহনের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি, এটি বিনিয়োগকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করে তুলতে পারে।

পুতিন আরও বলেন, রুশ সামরিক ঘাঁটির বিষয়টি আর্মেনিয়ার নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করে। তিনি বলেন, “আর্মেনিয়া যদি মনে করে যে রুশ সামরিক ঘাঁটির আর প্রয়োজন নেই, তবে আমরা আগামীকালই চলে যাব। আমরা কারও ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেব না।”

একই সঙ্গে পুতিন উল্লেখ করেন, আর্মেনিয়ার জনগণ যদি রুশ সামরিক উপস্থিতি চায় এবং মস্কোর সঙ্গে কাজ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত থাকে, তবে রাশিয়া সেখানে অবস্থান করবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত-চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


ভারত-চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ

সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশে ভারত ও চীনের সঙ্গে একটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান থাকলেও, সরকার দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই তথ্য জানিয়েছেন।

আজ জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৬ আসনের বিরোধী দলীয় সদস্য মো. আব্দুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য বিশেষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, "দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের দেশভিত্তিক বড় দু’টি ঘাটতি রয়েছে ভারত ও চীনের সঙ্গে। তবে, বিষয়টি শুধু দেশভিত্তিকভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।"

তিনি আরও বলেন, "আমাদের ওভার-অল এক্সপোর্টেবিলিটি বাড়ানো দরকার, এক্সপোর্টের এবিলিটি বাড়ানো দরকার।"

রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি খাত চিহ্নিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "এসব খাতে আগামী দিনে রপ্তানি বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।" নীতি সহায়তা ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে এসব খাতের রপ্তানি সক্ষমতা আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যেসব খাত এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি, সেগুলোকে সক্ষম করে তোলার কাজ চলছে।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় এ ঘাটতি আরো বেড়েছে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে প্রায় ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং বাকি অংশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়।

তিনি বলেন, "ভারতের আরো কয়েকটি খাতে রপ্তানি সক্ষমতা রয়েছে। তবে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকেও কিছু বাধা রয়েছে।" একইভাবে গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতীয় একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "তারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথভাবে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।"

তিনি আরও বলেন, "সমন্বিতভাবে আমরা বিভিন্ন চেষ্টা করছি, যাতে আগামী দিনে ভারতের ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি আরো বৃদ্ধি করা যায়।"

বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কোনো দেশ যখন আমদানি করে, সাধারণত সরকার নয়, বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরাই তা করে থাকেন।" ব্যবসায়ীরা অন্য উৎসের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেই আমদানির উৎস নির্বাচন করেন। ফলে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবধান বেশি হলেও আমদানিকারকরা নিজেদের ব্যবসায়িক সুবিধা বিবেচনা করেই ভারত থেকে পণ্য আমদানি করে থাকেন।

এদিকে, ই-কমার্স প্রতারণা রোধ ও গ্রাহকদের অর্থ সুরক্ষায় নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে কি না— বিরোধী দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৯-এর সদস্য সাবিকুন্নাহারের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, "ই-কমার্স ও ডিজিটাল ট্রেডের জন্য একটি ‘জাতীয় কর্তৃপক্ষ’ গঠনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।"

তিনি বলেন, "ই-কমার্স এবং ডিজিটাল ট্রেডের জন্য আমরা একটি ‘জাতীয় কর্তৃপক্ষ’ সৃষ্টির বিষয় বিবেচনা করছি। সেটা করা গেলে পুরো ই-কমার্স খাতকে আরো ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনের আওতায় আনা যাবে।"

এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান বাণিজ্য মন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%