বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৩৫ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাউখালী উপজেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলন বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা শাখা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে মোঃ আলী হোসেন হাওলাদারকে সভাপতি এবং মাওলানা মোঃ আহসান হাবিবকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কাউখালী উপজেলা কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা হাবিবুর রহমান ও আরাফাতুর রহমান শাওন।
উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আলী হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পিরোজপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মোঃ মনিরুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এইচ. এম. জিয়াউল করিম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এইচ. এম. হাফিজ উল্লাহ।
প্রধান অতিথি মোঃ মনিরুল হাসান বলেন, "দেশে ইনসাফ ও ইসলাম ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন রাজপথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত আরও মজবুত করতেই এই দ্বিবার্ষিক সম্মেলন। আমরা বিশ্বাস করি, নবগঠিত কমিটি কাউখালীতে দলের আদর্শ ও সূচিত সংগ্রামকে আরও বেগবান করবে।"
পুনর্নির্বাচিত উপজেলা সভাপতি মোঃ আলী হোসেন হাওলাদার তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, "আমায় পুনঃরায় যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, আমি তা নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করব। কাউখালীর প্রতিটি ঘরে ইসলামী আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং জনগণের অধিকার আদায়ে আমরা সর্বোচ্চ সোচ্চার থাকব। আমি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।"
সম্মেলনে স্থানীয় শাখা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা ও কমিটি ঘোষণা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশী নদীর ভয়াবহ বন্যার পর অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে ১৩ হাজার ২৯৫ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার নেপালের স্বরাষ্ট্র প্রশাসনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম নেপাল নিউজ।
মোতায়েন করা নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে ৭ হাজার ২৫০ জন নেপাল পুলিশের সদস্য, ৪ হাজার ২০০ জন নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্য এবং ১ হাজার ৮৪৫ জন সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী নেপাল (এপিএফ)-এর সদস্য রয়েছেন।
বন্যায় বেশ কয়েকটি এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নিরাপত্তা বাহিনী আকাশ ও স্থলপথে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। নেপাল সেনাবাহিনী ও বেসরকারি বিমান সংস্থার হেলিকপ্টারগুলো উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) তথ্য অনুযায়ী, ৬৯টি হেলিকপ্টার ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে ৩৫১ জনকে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নেয়া হয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও নদীর প্রবল স্রোতের মধ্যেও নিরাপত্তাকর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দুর্গম ও এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি—এমন এলাকায় তল্লাশি এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করেছে।
বুধবার সকালে রাসুয়ায় ভোতে কোশী নদীতে পাহাড়ি ঢল দেখা দেওয়ার পর নেপালের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৩৫৯ জন নিহতের খবর জানিয়েছে নেপালি পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে। এছাড়া নিখোঁজ এক হাজারের বেশি রয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশি বিদেশি নাগরিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের নান্দাইলে ৩৬টি অসহায় পরিবার নতুন আধাপাকা ঘর পাচ্ছে। আগামীকাল শুক্রবার তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে উপজেলায় ৩৬টি আধুনিক আধাপাকা ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘরগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ‘স্বপ্ন বাড়ি’। চলতি বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আরো ৯৮টি ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ঘর অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘নান্দাইলের মানুষের কাছে আমার অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, এলাকায় কোনো জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর থাকবে না। কাউকে গৃহহীন ও অনাহারে দিন কাটাতে হবে না। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে গৃহহীন সব পরিবারকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের দেওয়া প্রতিটি বরাদ্দ অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে সমানভাবে বণ্টন করা হবে।
আগামীকাল নতুন ঘরের চাবি পাবেন এমন একজন হলেন মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের বাসিন্দা সবুজ মিয়া (৩৪)। তিনি প্রতিমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, ‘ভাবতেও পারি নাই মরার আগে বউ-বাচ্চা নিয়ে একটা ভালো ঘরে থাকতে পারবাম।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুগন্ধা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া গ্রাম। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু বসতভিটা। এবার ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, সেতু, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
ভাঙন থেকে গ্রাম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙনকবলিত এলাকায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। এতে কেদারপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ, আছিয়া ওয়াজেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ ভূতেরদিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে কেদারপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ইতি বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি ইতিমধ্যে ভাঙনে নদীতে চলে গেছে। এখন আমাদের স্কুলটিও ভাঙনের ঝুঁকিতে। স্কুলটি সুগন্ধার ভাঙন থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করতে হবে।
একই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. মঞ্জুর রহমান টুটুল বিশ্বাস বলেন, স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা এলেই প্রতিবছর মানুষ বসতভিটা হারাচ্ছেন। দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মানুষের বসতভিটা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অন্য বক্তারা দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণ ও স্থায়ীভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় মানুষের বসবাস ও স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনা রক্ষায় পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সজীব ও সোনালী বিড়ি তৈরি ও বাজারজাতের অভিযোগে একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দুই লক্ষাধিক টাকার নকল বিড়ি ও বিড়ি তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা বিড়ি ও কাঁচামাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার মালিক আবু সাইদের স্ত্রী শাকিরা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের শংকরপাশা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন কাশিয়ানী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাপিয়া সুলতানা লিজা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শংকরপাশা এলাকার একটি গোডাউনে দীর্ঘদিন ধরে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়ি তৈরি করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। এর মাধ্যমে সরকারের শুল্ক ও কর ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই গোডাউনে অভিযান চালায়। এ সময় দুই লক্ষাধিক টাকার নকল বিড়ি ও বিড়ি তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে নকল বিড়ি তৈরি ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের অভিযোগে শাকিরা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে জব্দ করা নকল বিড়ি ও কাঁচামাল ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
কাশিয়ানী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাপিয়া সুলতানা লিজা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়ি তৈরি করে বাজারজাত করে আসছে। পরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল বিড়ি ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে কারখানার মালিকের স্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। নকল বিড়ি তৈরি ও বাজারজাতের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ