বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১৭ এম
সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে কর্মপরিবেশ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে কাজে যোগদান করেছেন। শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলসহ (ডিইপিজেড) শিল্পাঞ্চলের সকল কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই শ্রমিকরা কারখানার নিজস্ব পরিবহনে অথবা পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে আসছেন। কারখানাগুলোর সামনে শ্রমিকদের স্বাভাবিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এদিকে, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাভারের হেমায়েতপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ কারখানার সামনে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবির বিশেষ দলের নিয়মিত টহল, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলের সব এলাকায় সকাল থেকে শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন।
এর আগে, গত কয়েকদিন ধরে মাসিক বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল। গাজীপুর, হেমায়েতপুর, নারায়ণগঞ্জ, মিরপুরসহ শিল্পাঞ্চল এলাকাগুলোতে সকাল থেকেই পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
তবে শ্রমিকদের বিক্ষোভের মধ্যে গত ১ নভেম্বর সরকার ৬ সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ডিসেম্বরেই নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণে শ্রমিক-মালিক দুপক্ষ একমত হয়েছেন। বাস্তবায়ন হলে জানুয়ারিতেই বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা।
সবশেষ ২০২৩ সালে ডিসেম্বরে ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। পাশাপাশি, অর্থনীতিতে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের সুফলও অর্জন করা যেতে পারে। এই তথ্যটি বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি তাপপ্রবাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি পানীয় জল ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিবেদনটি কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে প্রকাশিত হয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে।
এছাড়া, হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস বৃদ্ধি, বাসা-বাড়িতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির দাম নির্ধারণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়েছে।
জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি জানিয়েছে।
ডব্লিউএইচওর প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘জলবায়ু সংকট মানেই স্বাস্থ্য সংকট। তবে এর ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির একটি বড় অংশ আমাদের হাতে থাকা উপায় ব্যবহার করে প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট ছয়টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে ‘তিন ধরনের সুফল’ অর্জন সম্ভব। এই সুফলগুলোর মধ্যে রয়েছে- মানুষের সুস্থতা রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।
প্রাণহানি রোধের পাশাপাশি এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিবছর ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো থেকে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের রাজস্ব সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি, মানুষের প্রাণ বাঁচানো, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বাড়তি সুফল আসতে পারে।
ডব্লিউএইচও স্বীকার করেছে, গবেষণাটি উচ্চাভিলাষী কিছু পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এছাড়া, তথ্যের ঘাটতি এবং পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে কিছু অনিশ্চয়তা বিদ্যমান রয়েছে।
তবে টেড্রোস বলেন, প্রতিবেদনটি প্রমাণ করে যে পরীক্ষিত ও সাশ্রয়ী পদক্ষেপগুলোর ব্যাপক বাস্তবায়ন লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম। যাদের এই সহায়তা সবচেয়ে বেশি জরুরী, তারা সবচেয়ে বেশি সুফল পাবে।
আগামী সপ্তাহে তুরস্কে কপ-৩১ সম্মেলনে অংশ নিতে বিশ্বনেতাদের প্রস্তুতির মধ্যে টেড্রোস তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, জলবায়ু মোকাবিলার সব উদ্যোগের ‘কেন্দ্রে’ যেন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে রাখা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পার্থিব জীবনে নবুয়ত মানবজাতির প্রতি আল্লাহর সবচেয়ে বড় দান। আল্লাহ এই দান ও অনুগ্রহের জন্য যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। নবী ও রাসুল হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের ইচ্ছা ও প্রচেষ্টার কোনো ভূমিকা নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এরাই তারা, নবীদের মধ্যে যাদেরকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, আদমের বংশ থেকে ও যাদেরকে আমি নুহের সঙ্গে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম এবং ইবরাহিম ও ইসমাইলের বংশোদ্ভূত ও যাদেরকে আমি পথনির্দেশ করেছিলাম ও মনোনীত করেছিলাম।’ (সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ৫৮)
আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা সাদি বলেন, নবুয়ত ও রিসালাত আল্লাহর এমন দান যার সমতুল্য কোনো দান গত হয়নি, এমন অনুগ্রহ যার সমতুল্য কোনো অনুগ্রহ আগামীতেও আসবে না। আল্লাহ সুরা ফাতিহায় আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আমরা যেন এসব অনুগ্রহপ্রাপ্তদের পথের দিশা প্রার্থনা করি। (তাফসিরে সাদি, পৃষ্ঠা-৪৯৬)
নবী ও রাসুলরা মহান আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত। তাঁরা জন্মের সময় থেকেই মনোনীত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করবেন।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৬)
শৈশবে ইউসুফ (আ.) যখন স্বপ্নে দেখেছিলেন, চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্ররাজি তাঁকে সিজদা করছে, তখন ইয়াকুব (আ.) তাঁর স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলেছিলেন তুমি নবী হবে, তোমাকে মানুষের জন্য মনোনীত করা হবে। (তাফসিরে শাওকানি : ৩/৭)
আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে নবুয়ত দানের সময় বলেছিলেন, ‘তিনি বলেন, হে মুসা! আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও বাক্যালাপ দ্বারা মানুষের জন্য মনোনীত করেছিল। সুতরাং আমি যা দিলাম তা গ্রহণ কোরো এবং কৃতজ্ঞ হও।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৪৪)
আল্লামা শাওকানি (রহ.) আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন, আয়াতে ব্যবহৃত ইসতিফা শব্দটি যাচাই করা ও মনোনীত করার অর্থ প্রদান করে। অর্থাৎ আমার রিসালাতের জন্য আমি সমকালীন মানুষের ভেতর তোমাকে মনোনীত করলাম। আয়াতে বাক্য দ্বারা বাক্যালাপ উদ্দেশ্য। আল্লাহ মুসা (আ.)-কে রিসালাত ও কোনো মাধ্যম ছাড়া কথা বলার মাধ্যমে সম্মানিত করেছিলেন। (তাফসিরে শাওকানি : ২/২৭৮)
সাধারণ মানুষের দায়িত্ব হলো, আল্লাহ যাকে নবী হিসেবে মনোনীত করেছেন তার আনুগত্য করা। নবী-রাসুলের আনুগত্য না করে অন্তরে নবুয়ত লাভের আকাঙ্ক্ষা অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়। পবিত্র কোরআনে কুরাইশ নেতাদের এমন আকাঙ্ক্ষার নিন্দা করে বলা হয়েছে, ‘এবং তারা বলে, এই কোরআন কেন অবতীর্ণ করা হলো না দুই জনপদের কোনো প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তির ওপর? তারা কি তোমার প্রতিপালকের করুণা বণ্টন করে? আমিই তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি পার্থিব জীবনে।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৩১-৩২)
ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, আয়াতে তোমার প্রতিপালকের করুণা দ্বারা উদ্দেশ্য নবুয়ত। অর্থাৎ তারা নবুয়ত বণ্টন করে যে, যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেবে? আমিই পৃথিবীতে একজনকে ধনী অন্যজনকে দরিদ্র্য করি। যখন তারা পার্থিব জীবনের বিষয়গুলোই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন তাদের ওপর নবুয়ত প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করা সম্ভব কিভাবে? (তাফসিরে কুরতুবি : ১৬/৮৩)
আকাঙ্ক্ষা, আগ্রহ বা দীর্ঘ সাধনার মাধ্যমে নবুয়ত লাভ করা সম্ভব নয়। আল্লামা সাফফারিনি (রহ.) বলেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের বিশ্বাস হলো, চেষ্টা, সাধনা, ইবাদত, কঠোর আনুগত্য, আত্মশুদ্ধি, চারিত্রিক মাধুর্য ইত্যাদির মাধ্যমে নবুয়ত লাভ করা সম্ভব নয়। নবুয়ত ও রিসালাত মহান আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন তাঁর চিরন্তন জ্ঞান ও ইচ্ছার মাফিক। (লাওয়ামিউল আনওয়ারিল বাহিয়্যাতি : ২/২৬৭)
এটাও মনে রাখতে হবে যে আল্লাহ কখনো কোনো অযোগ্য ব্যক্তিকে নবী বা রাসুল মনোনীত করেননি। এই মহান ঐশী দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা যার আছে তিনি নবী বা রাসুল হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। শায়খ আবদুর রাজ্জাক আফিফি (রহ.) বলেন, এটা যুক্তি ও বুদ্ধির আলোকে অসম্ভব নয় যে অনুগ্রহকারী ও কল্যাণকারী আল্লাহ তাঁর কতিপয় বান্দাকে দান ও অনুগ্রহের জন্য বিশেষায়িত করবেন; তিনি তা করবেন সেই বান্দার চিন্তার প্রশস্ততা, দুনিয়াবিমুখতা, পূর্ণ ধৈর্য, উত্তম নেতৃত্ব, চারিত্রিক পূতঃপবিত্রতার কারণে।
যেন বান্দা নবুয়তের বিপদ সহ্য করতে পারেন, যেন তিনি অদৃশ্য বিষয়গুলো তাদের সামনে স্পষ্ট করতে পারেন, তাদের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের বিষয়গুলো বর্ণনা করেন, মানবজাতি ও পৃথিবীর কল্যাণগুলো তুলে ধরতে পারেন। মহান আল্লাহ নবী-রাসুলদের মনোনীত করেছেন জগত্গুলোর জন্য অনুগ্রহস্বরূপ, অবিশ্বাসীদের অক্ষমতাস্বরূপ এবং সমগ্র মানবের জন্য দলিলস্বরূপ। (মুজাক্কিরাতুত তাওহিদ, পৃষ্ঠা ৪৪)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার সরকারি কর্মচারীদের বেতনগ্রেড এবং বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বুধবার (৪ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।
এছাড়া, কমিটির কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদান করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বা সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, অর্থ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সচিব বলতে সিনিয়র সচিবকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, কমিটি বিভিন্ন সময়ে বেতন কাঠামোর অসংগতি নিয়ে আসা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করবে। পাশাপাশি, প্রচলিত বেতনস্কেল পর্যালোচনা করে সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় সুপারিশ উপস্থাপন করবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বিদ্যমান বেতনগ্রেড ভবিষ্যতে বাড়ানো বা কমানোর বিষয়টিও কমিটির বিবেচনায় থাকবে। বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে সামঞ্জস্য আনার বিষয়টিও আলোচনা করা হবে।
ঝুঁকিভাতাসহ নতুন কোনো ভাতা চালু করা, বিদ্যমান ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি অথবা কমানোর বিষয়েও মতামত প্রদান করবে এই কমিটি। বেতন ও ভাতা-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়গুলোও পর্যালোচনার আওতায় থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজন মনে করলে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সভা আহ্বান করা হবে। কমিটির দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সচিবালয়সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করবে অর্থ বিভাগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুস্থ থাকার জন্য দিনের শুরুতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সকালের নাশতা গ্রহণের সময় অনেকেই এমন কিছু ভুল করেন, যা শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কিছু মানুষ নাশতা না খেয়েই কাজে বেরিয়ে যান, আবার কেউ কেবল চা-বিস্কুট খেয়ে সকাল পার করেন। এছাড়া অনেকে নাশতায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি ও পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবার রাখেন।
এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত চলতে থাকলে খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই সকালের নাশতায় কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত, তা জানা প্রয়োজন।
সকালের নাশতায় যে ৭টি ভুল এড়িয়ে চলবেন
১. নাশতা না খেয়েই দিন শুরু করা
অনেকেই ওজন কমানোর জন্য অথবা ব্যস্ততার কারণে সকালের নাশতা বাদ দেন। এতে দিনের শুরুতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের সুযোগ নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা সকালে ক্ষুধা অনুভব করেন, তাঁদের জন্য দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে শুধু ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে নাস্তা বাদ দিলে যে ওজন কমবে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।
২. শুধু চা-বিস্কুট খেয়ে থাকা
বাংলাদেশে অনেকের সকালের নাশতায় চা ও বিস্কুট প্রধান খাবার হিসেবে থাকে। কিন্তু এই খাবারগুলি থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও আঁশ যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায় না। দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এটি যথেষ্ট নয়। এর পরিবর্তে ডিম, আটার রুটি, দুধ অথবা ফল রাখা যেতে পারে।
৩. নাশতায় প্রোটিন না রাখা
সকালের খাবারে প্রোটিনের অভাব আরেকটি সাধারণ ভুল। অনেকেই শুধু রুটি, পাউরুটি বা সিরিয়াল খেয়ে নাশতা শেষ করেন। অথচ ডিম, দুধ, টক দই, ডাল এবং বাদামের মতো খাবার প্রোটিনের ভালো উৎস। এগুলো খাবারের পুষ্টিমান বাড়াতে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে।
৪. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া
সকালে মিষ্টি চা, মিষ্টি বিস্কুট, কেক, ডোনাট অথবা চিনিযুক্ত সিরিয়াল খাওয়ার অভ্যাস অনেকের রয়েছে। এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয় আঁশ ও প্রোটিন কম থাকে। ফলে দ্রুত ক্ষুধা লাগতে পারে। হার্ভার্ড হেলথের পরামর্শ অনুযায়ী, সিরিয়াল কেনার সময় উপাদান ও পুষ্টিগুণের তালিকা দেখে কম চিনিযুক্ত এবং আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া উচিত।
৫. আঁশসমৃদ্ধ খাবার বাদ দেওয়া
অনেকের নাশতায় শাকসবজি ও ফলমূলের উপস্থিতি থাকে না। অথচ ফল, সবজি, ওটস এবং গোটা শস্যজাতীয় খাবার আঁশের ভালো উৎস। এসব খাবার হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি অনুভব করতে সাহায্য করে। তাই সকালের নাস্তায় একটি ফল অথবা সবজি রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে।
৬. একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া
সকালের নাশতা বাদ দিয়ে দীর্ঘ সময় পর একসঙ্গে অনেক খাবার খাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। আবার কেউ কেউ দিনের শুরুতেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ভাজাপোড়া, পরোটা ও মিষ্টিজাতীয় খাবার খান। এতে অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। তাই নিজের ক্ষুধা ও দৈনন্দিন কাজের চাহিদা অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক রাখা জরুরি।
৭. পানি পান করতে ভুলে যাওয়া
রাতের দীর্ঘ বিরতির পর সকালে অনেকেই পানি পান করার কথা ভুলে যান। দিনের শুরুতে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের অভ্যাস রাখা ভালো। নাশতার পাশাপাশি এক গ্লাস পানি পান করা যেতে পারে। তবে চা বা কফিকে পানির বিকল্প হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
তাহলে সকালের নাশতায় কী খাবেন?
সকালের নাশতায় খুব দামি অথবা বিশেষ কোনো খাবার রাখার প্রয়োজন নেই। পরিচিত খাবার দিয়েই পুষ্টিকর নাস্তা তৈরি করা সম্ভব। যেমন—
একটি বা দুটি সেদ্ধ ডিম, আটার রুটি ও সবজি।
দুধ দিয়ে ওটস এবং সঙ্গে একটি কলা।
টক দই, মৌসুমি ফল ও অল্প কিছু বাদাম।
সবজি দিয়ে তৈরি ডিমের অমলেট ও আটার পাউরুটি।
ডাল, রুটি ও মৌসুমি সবজি।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের প্রকাশিত হেলদি ব্রেকফাস্ট আইডিয়াস টু সাপোর্ট এনার্জি অ্যান্ড মেটাবলিজম শীর্ষক প্রতিবেদনে সকালের নাশতায় প্রোটিন, আঁশসমৃদ্ধ শর্করা এবং ফলমূল ও সবজি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) পরামর্শেও কম চিনি ও বেশি আঁশযুক্ত খাবার বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য স্বাস্থ্যকর সকালের নাশতা মানেই বেশি খাবার খাওয়া নয়। বরং পরিমিত পরিমাণে সুষম খাবার বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। বয়স, শারীরিক অবস্থা, দৈনন্দিন কাজ ও পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী নাস্তায় খাবারের ধরন ও পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ