০৩:০৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। নতুন ফেডারেল তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুলাই মাসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধে দণ্ড বা বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা ছিল না।
জুন মাসেও সংস্থাটি ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় আইসিইর অভিযানের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন শুধু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের নয়, বৈধ অভিবাসন অবস্থার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদেরও বেশি হারে আটক করা হচ্ছে।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের পর্যালোচনা অনুযায়ী, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আগে সহিংস অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের হার ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অর্থাৎ গ্রেপ্তারের বড় একটি অংশই এমন ব্যক্তিদের নিয়ে, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের পূর্ব রেকর্ড নেই।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
আগের তুলনায় আইসিইর মাঠপর্যায়ের অভিযানও বেড়েছে। কারাগার থেকে অভিবাসীদের হেফাজতে নেওয়ার পাশাপাশি এখন কর্মস্থল, বাড়ি ও সড়কে গাড়ি থামানোর সময় সরাসরি গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়ছে। আমেরিকান অভিবাসন পরিষদের পর্যালোচনা অনুযায়ী, আইসিইর প্রায় ৬৩ শতাংশ গ্রেপ্তার এখন এ ধরনের সরাসরি অভিযানের মাধ্যমে হচ্ছে।
এ ধরনের অভিযানে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের অংশগ্রহণও বেড়েছে। ২৮৭(জি) কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাসনসংক্রান্ত তথ্যভান্ডারের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া মানুষের সংখ্যা এখন মোট গ্রেপ্তারের প্রায় ১৪ শতাংশ।
এদিকে অভিবাসন অবস্থার প্রশাসনিক জটিলতায় থাকা ব্যক্তিরাও আইসিইর অভিযানের আওতায় পড়ছেন। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্রের প্রক্রিয়া চলার সময় কারও বৈধ অবস্থার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের প্রশাসনগুলোর সময়ে এমন পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের সাধারণত আটক করা হতো না।
ট্রাম্প প্রশাসন আইসিইর আটক ও নির্বাসন কার্যক্রম বাড়াতেও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করেছে। চলতি বছরের শুরুতে আইসিই কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে নির্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ৯৯ হাজার মানুষকে আটক কেন্দ্রে রাখার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
নির্বাসনসংক্রান্ত উড়োজাহাজ চলাচলও বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে আইসিইর আটক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের জন্য ১ হাজার ৩৬৩টি উড়োজাহাজ পরিচালিত হয়েছে। অন্তত ২০২০ সালের পর এটিই কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা।
একই মাসে অন্তত ৩২৯টি নির্বাসন উড়োজাহাজ ৩৭টি দেশে পরিচালিত হয়েছে।
তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা ব্যাপক গ্রেপ্তার ও দ্রুত নির্বাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অপরাধের রেকর্ড না থাকা ব্যক্তিদেরও দ্রুত আটক ও নির্বাসনের আওতায় আনা হলে তাদের আইনি অধিকার ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়।
বিশেষ করে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো অভিবাসীদের নিরাপত্তা এবং পরে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন